শহীদি মার্চ থেকে পাঁচ দফা দাবি

ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের মাসপূর্তিতে ‘শহীদি মার্চ’ কর্মসূচির শেষে পাঁচ দফা দাবি জানিয়েছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন।

বৃহস্পতিবার বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের এই মার্চে অংশ নিতে রাজপথে নেমে আসে হাজারও মানুষ।

দাবিগুলো হলো– গণহত্যাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে বিচারের আওতায় আনতে হবে, শহীদ পরিবারকে আর্থিক ও আইনি সহযোগিতা দ্রুত সময়ের মধ্যে দিতে হবে, প্রশাসনে দুর্নীতিবাজ ও ফ্যাসিস্টের দোসরদের চিহ্নিত করে অনতিবিলম্বে বিচারের আওতায় আনতে হবে, গণভবনকে জুলাই স্মৃতি জাদুঘর ঘোষণা করতে হবে, রাষ্ট্র পুনর্গঠনের রোডম্যাপ দ্রুত ঘোষণা করতে হবে।

মার্চ শেষে শহীদ মিনারে সমাপনী বক্তব্যে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক সারজিস আলম বলেন, আমাদের ভাইয়েরা স্বাধীনতা আনতে রক্ত দিয়েছেন। তাদের রক্তের মূল্য দিতে আমরা যেকোনো সময় রক্ত দিতে প্রস্তুত আছি।

তিনি বলেন, এই আন্দোলনের শহীদদের রক্ত এবং তাদের স্পিরিট কখনও বৃথা যেতে দেবো না। দেশে এখনও অনেক ফ্যাসিস্টের অস্তিত্ব আছে। আমরা তাদের এবং ফ্যাসিবাদী চিন্তা লালন করা মানুষদের বলতে চাই, স্বাধীন বাংলাদেশে ফ্যাসিস্ট আচরণ করার চেষ্টা করবেন না। কোনো চাঁদাবাজ ও সিন্ডিকেট এই বাংলাদেশে হবে না।

আরেক সমন্বয়ক আবদুল কাদের বলেন, ‘বাংলাদেশকে স্বাধীন করার জন্য এই আন্দোলনে আমাদের ভাইয়েরা শহীদ হয়েছেন। দেশে কোনো বৈষম্য থাকবে না এমন স্বপ্ন নিয়ে, তারা নিজের বুকের তাজা রক্ত ঢেলে দিয়েছেন। হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে যারা জড়িত ছিলো তাদের বিচারের আওতায় আনতে হবে। আমরা আমাদের রক্তের সঙ্গে বেঈমানি করি নাই। আমাদের দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছি। দেশকে পুনর্গঠনের যে লড়াই সেটি আমাদের চালিয়ে যেতে হবে।

sohedi-march

এর আগে দুপুর থেকে বিভিন্ন স্কুল, কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষ দলবেঁধে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যের সামনে এসে জড়ো হন। পরে সেখান থেকে বিশাল মিছিল নিয়ে শহীদি মার্চ শুরু হয়। এতে রাজধানীর বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়, কলেজ, কারিগরি, মাদ্রাসা ও স্কুলের শিক্ষার্থীসহ হাজার হাজার মানুষ অংশ নিয়েছেন।

 মার্চটি নীলক্ষেত, সায়েন্সল্যাব ও কলাবাগান হয়ে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ যায়। এরপর ফার্মগেট, কারওয়ান বাজার, শাহবাগ, রাজু ভাস্কর্য হয়ে শহীদ মিনারে এসে থামে।

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন গত জুলাইয়ের শুরুতে সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলন শুরু করে। এ আন্দোলন দমনে হামলা-নির্যাতনের এক পর্যায়ে তা সরকার পতনের আন্দোলনে রূপ নেয়।

ছাত্র-জনতার তুমুল আন্দোলনে ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করে দেশ ছেড়ে ভারতে চলে যান। ইতি ঘটে আওয়ামী লীগের টানা প্রায় ১৬ বছরের শাসনের। আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের তিনদিন পর ৮ আগস্ট শান্তিতে নোবেলজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার শপথ নেয়।