জুলাই ও আগস্ট মাসে নিহতদের স্মরণে এবং আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের এক মাস পূর্তিতে ‘শহীদি মার্চ’ কর্মসূচি পালন করছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন।
বৃহস্পতিবার বিকেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্য থেকে এ কর্মসূচি শুরু হয়। এতে অংশ নিয়েছেন স্কুল, কলেজ, মাদরাসা শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।
এ সময় ‘আমার ভাইয়ের রক্ত, বৃথা যেতে দেব না', ‘লেগেছে রে লেগেছে, রক্তে আগুন লেগেছে’ এমন নানা স্লোগান দিতে থাকেন শিক্ষার্থী ও অংশগ্রহণকারীরা।
মার্চে অংশগ্রহণকারীরা বিভিন্ন বক্তব্য লেখা প্ল্যাকার্ড বহন করছেন। দুর্নীতি, গুম, বৈষম্যবিরোধী নানা স্লোগান ও বক্তব্য তাতে লেখা রযেছে। এছাড়া অংশগ্রহণকারীরা বাংলাদেশের পতাকা নিয়ে শহীদি মার্চে অংশ নিয়েছেন।
ফিলিস্তিনে ইসরাইলি বর্বরতার বিরুদ্ধে আওয়াজ তুলতে মার্চে একটি বিশালাকৃতির ফিলিস্তিনের পতাকা বহন করতে দেখা গেছে।
মার্চে অংশগ্রহণকারীরা ছাত্র-জনতার আন্দোলনে শহীদদের স্মরণের পাশাপাশি কেমন বাংলাদেশ চান তার কথাও তুলে ধরেছেন। ছাত্র রাজনীতিমুক্ত ক্যাম্পাস, বৈষম্যহীন সংবিধানের দাবিসহ নানা বক্তব্য তুলে ধরেছেন তারা। তরুণরা বলছেন, তারা বিচার বহির্ভূত হত্যা দেশে দেখতে চান না।
আন্দোলনের শহীদদের নাম লেখা প্লাকার্ড, ছবিসহ তাদের দীপ্ত উচ্চারণ- একটি বৈষম্যমুক্ত বাংলাদেশ চান আজকের প্রজন্ম। বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের শহীদদের নামে শপথ নিয়ে মার্চে অংশগ্রহণকারী ছাত্র-জনতা বলছেন, এই শহীদদের রক্ত তারা বৃথা যেতে দেবেন না।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্য থেকে ‘শহীদি মার্চ’ কর্মসূচি শুরু হয়ে নীলক্ষেত, সায়েন্সল্যাব, কলাবাগান, মানিক মিয়া এভিনিউ (সংসদ ভবনের সামনে দিয়ে), ফার্মগেট, কারওয়ান বাজার ও শাহবাগ হয়ে আবার রাজু ভাস্কর্য দিয়ে শহীদ মিনারে এসে শেষ হওয়ার কথা। এই প্রতিবেদন লেখার সময় শহীদি মার্চ মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ পার করছিলো।
গত ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার প্রবল আন্দোলনের মুখে প্রধানমন্ত্রিত্ব থেকে পদত্যাগ করে দেশ ছাড়েন শেখ হাসিনা।
আন্দোলনের মধ্যে ১৬ জুলাই থেকে ১১ আগস্টের মধ্যে সাড়ে ছয়শ মানুষের প্রাণ গেছে বলে জানিয়েছে জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাই কমিশনারের কার্যালয়-ইউএনএইচসিআর।
আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক সারজিস আলম বৃহস্পতিবার দুপুরে ফেসবুক লাইভে বলেন, আজ থেকে প্রায় এক মাস আগে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে যে নতুন বাংলাদেশ পেয়েছি, সেই বাংলাদেশ পাওয়ার এক মাস পূর্ণ হতে যাচ্ছে। কিন্তু এখানে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে, আমরা আমাদের হাজারেরও বেশি ভাইকে হারিয়েছি; যারা শহীদ হয়েছেন।
তিনি বলেন, আমরা অসংখ্য ভাইকে আহত অবস্থায় এখনো হাসপাতালে দেখতে পাই। অনেকের হাত নেই, অনেকে তাদের পা হারিয়েছেন। অনেকে চোখ হারিয়েছেন। সেই জায়গা থেকে দাঁড়িয়ে আমাদের মনে হয়েছে- আমরা কীভাবে আমাদের এই ভাইদের জন্য কী করতে পারি, কীভাবে তাদের শ্রদ্ধা জানাতে পারি।

সারজিস বলেন, আজকে আমরা একটি শহীদি মার্চ আয়োজন করেছি। আমাদের সকল শহীদ ভাইদের স্মরণ করে, সকল আহত ভাইদের শ্রদ্ধা জানাতে।
ড. ইউনূসকে শুভেচ্ছা জানালেন ৯২ নোবেল বিজয়ী