দেশের পার্বত্য এলাকায় উদ্ভূত পরিস্থিতিতে রাঙ্গামাটি ও খাগড়াছড়ি জেলা সফরে যাচ্ছেন অন্তর্বর্তী সরকারের তিন উপদেষ্টা।
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী, পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সাবেক রাষ্ট্রদূত সুপ্রদীপ চাকমা, স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয় উপদেষ্টা এ. এফ. হাসান আরিফ। তারা উদ্ভূত পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ ও স্থানীয়দের সঙ্গে মত বিনিময় করবেন।
শনিবার বেলা ১১টায় ঢাকা থেকে হেলিকপ্টারে করে রাঙ্গামাটি এবং দুপুরে খাগড়াছড়ি যাওয়ার সূচি রয়েছে তাদের।
রাঙ্গামাটিতে রাজনৈতিক নেতাদের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত মত বিনিময় করবেন। পরে বিকেল তিনটায় খাগড়াছড়ির রাজনৈতিক নেতাদের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত মত বিনিময়ে যোগ দেবেন।
শুক্রবার প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে দেওয়া বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয় এ তথ্য।
এতে আরও বলা হয়, বৃহস্পতিবার খাগড়াছড়ি ও শুক্রবার রাঙ্গামাটিতে সৃষ্ট সমস্যা নিরসনে আন্তরিকভাবে কাজ করছে সরকার। ১৮ সেপ্টেম্বর এক ব্যক্তিকে পিটুনি ও পরবর্তী সময়ে তার মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে চলমান হামলা, আক্রমণ ও প্রাণহানির ঘটনায় সরকার গভীরভাবে দুঃখিত এবং ব্যথিত। সরকারের পক্ষ থেকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সর্বোচ্চ সংযম দেখাতে এবং পার্বত্য তিন জেলায় বসবাসকারী সব জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সেখানে শান্তি, সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতি নিশ্চিত করতে সরকার বদ্ধপরিকর।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, আইন নিজের হাতে তুলে না নেওয়া এবং ধ্বংসাত্মক কাজে লিপ্ত না হওয়ার জন্য সবাইকে নির্দেশ দেওয়া যাচ্ছে। আইন নিজ হাতে তুলে নেওয়া এবং যেকোনো সম্পত্তি ধ্বংস করা দণ্ডনীয় ও গর্হিত অপরাধ। সহিংসতার সঙ্গে সম্পর্কিত সব ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত আর দায়ী ব্যক্তিদের বিচার নিশ্চিত করা হবে। এ লক্ষ্যে একটি শক্তিশালী তদন্ত কমিটি শিগগির গঠন করা হবে। আহতদের সুচিকিৎসা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
খাগড়াছড়ির দীঘিনালায় পাহাড়ি-বাঙালি সংঘর্ষের জেরে খাগড়াছড়ি ও রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলার কিছু অংশে ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে।
রাঙ্গামাটিতে সংঘর্ষের ঘটনার পর পৌর এলাকায় শুক্রবার বেলা একটা থেকে ১৪৪ ধারা জারি করে স্থানীয় প্রশাসন। আর খাগড়াছড়ির সদর উপজেলায় বেলা দুইটা থেকে ১৪৪ ধারার নোটিশ জারি করা হয়েছে।
দীঘিনালার পাহাড়ি-বাঙালি সংঘর্ষের জের এদিন সকালে রাঙ্গামাটিতেও ছড়িয়ে পড়ে। সেখানে সংঘর্ষ, গাড়ি ভাঙচুর ও দোকানপাটে অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার খাগড়াছড়ির দীঘিনালায় বাঙালি ও পাহাড়িদের মধ্যে সংঘর্ষে তিন জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত ১৭ জন হাসাপাতালে ভর্তি রয়েছেন। এদের মধ্যে গুলিবিদ্ধ চারজন।
সংঘর্ষে জুনান চাকমা (২০), ধনঞ্জয় চাকমা (৫০) ও রুবেল চাকমা (৩০) নামে তিন জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে স্থানীয় প্রশাসন।
খাগড়াছড়ির সহিংসতা ও মৃত্যুর ঘটনার পর সহিংসতা ছড়িয়ে পড়েছে আরেক পার্বত্য শহর রাঙ্গামাটিতেও। এতে একজনের মৃত্যু হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ১৪৪ ধারা জারি করেছে জেলা প্রশাসন।
এদিকে তিন পার্বত্য জেলায় বিক্ষুব্ধ জুম্ম ছাত্র-জনতার ডাকা অবরোধ চলছে। ঢাকায় এক সমাবেশ থেকে এই অবরোধ ডাকা হয়। বিবৃতি দিয়ে তাতে সমর্থন জানিয়েছে আঞ্চলিক সংগঠন ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (ইউপিডিএফ)।