ক্রিকেটার সাকিব আল হাসানের রাজনৈতিক অবস্থান স্পষ্ট করার আহ্বান জানিয়েছেন যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া।
রোববার সচিবালয়ে শ্রম মন্ত্রণালয়ে গ্রামীণফোনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ এবং চেকগ্রহণ অনুষ্ঠানে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
উপদেষ্টা জানিয়েছেন, খেলোয়াড় হিসেবে যতটুকু প্রয়োজন, সাকিব আল হাসানকে ততটুকু নিরাপত্তা দেওয়া হবে।
সাকিব আল হাসান বিসিবির কাছে নিরাপত্তা চেয়েছেন, এ বিষয়ে জানতে চাইলে উপদেষ্টা বলেন, বিসিবি এ বিষয়ে একটা বক্তব্য দিয়েছে। রাষ্ট্রের জায়গা থেকে রাষ্ট্র প্রত্যেক নাগরিককে নিরাপত্তা দিতে বাধ্য এবং সেটা আমরা অবশ্যই করবো।
তিনি বলেন, এখানে সাকিব আল হাসানের পরিচয় দুইটা। এটা আমাদের মনে রাখতে হবে। খেলোয়াড় হিসেবে একটা পরিচয়, আরেকটা হচ্ছে রাজনৈতিক পরিচয়। উনি আওয়ামী লীগের প্যানেল থেকে এমপি ইলেকশন করেছেন। মানুষের মধ্যে তো দুটো নিয়েই মিশ্র প্রতিক্রিয়া আছে।
আসিফ মাহমুদ বলেন, এখন খেলোয়াড় হিসেবে, একজন খেলোয়াড়কে যতটুকু নিরাপত্তা দেওয়ার দায়িত্ব সেটা অবশ্যই আমরা দেবো। দেশে এলে আমরা সেটা দেবো। তার নামে যে হত্যা মামলাটা হয়েছে, এটার বিষয়ে আমরা বলেছি, আইন মন্ত্রণালয়ও বলেছে, সংশ্লিষ্টতা না থাকলে প্রাথমিকভাবেই বাদ দেওয়া যায়।
তিনি আরো বলেন, কিন্তু উনার রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে জনগণের মধ্যে যদি ক্ষোভ থাকে, তাহলে…। মনে করেন আমার নিরাপত্তার জন্য পাঁচজন পুলিশ কনস্টেবল এবং একজন গানম্যান থাকে। আমার উপরে যদি দেশের ১৬ কোটি জনগণের, ১০ কোটি জনগণের যদি ক্ষোভ থাকে তাহলে এই পাঁচ-ছয় জন আমাকে কী নিরাপত্তা দেবে? সেক্ষেত্রে জনগণের যদি কোথাও ক্ষোভ থাকে তাহলে সেটাও আমাকে রিডিউস (কমাতে) করতে হবে আমার কথা দিয়ে।
দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়নে ভোট করে মাগুরা থেকে এমপি হন বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার সাকিব। গত ৫ অগাস্ট যখন আওয়ামী লীগ সরকারের পতন ঘটে, তখন সাকিব কানাডায় সেদেশের ক্রিকেট লিগে খেলছেন। ক্ষমতার পট পরিবর্তনের পর আর দেশে না ফিরলেও বাংলাদেশের হয়ে খেলা চালিয়ে গেছেন সাবেক অধিনায়ক সাকিব। কানাডা থেকে ইংল্যান্ডে গিয়ে খেলেছেন কাউন্টি লিগের ম্যাচ। তারপর পাকিস্তানে গিয়ে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক টেস্ট সিরিজ জয়ের সঙ্গী হয়েছেন। এখন তিনি ভারতে গিয়ে বাংলাদেশের হয়ে টেস্ট খেলছেন।
সম্প্রতি সাকিব আল হাসান টেস্ট এবং টি-টোয়েন্টি ফরম্যাট থেকে বিদায়ের ঘোষণা দিয়েছেন। গত বিশ্বকাপেই তার শেষ টি-টোয়েন্টি খেলা হয়ে গেছে। ঘরের মাঠে আসন্ন দক্ষিণ আফ্রিকা সিরিজ দিয়ে টেস্টকে বিদায় জানানোর কথা বলেছেন। তবে দেশে এসে খেলার ক্ষেত্রে বিসিবির কাছে নিরাপত্তা চেয়েছেন আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য এই অলরাউন্ডার ক্রিকেটার।
আদাবর থানায় করা গার্মেন্টস কর্মীর প্রাণহানির মামলায় সাকিব আসামি। অভিযোগ প্রমাণিত না হলেও তার নাম থাকা সাপেক্ষে দেশে আসলে গ্রেপ্তার হতে পারেন। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে হোম সিরিজ খেলতে তিনি যদি দেশে ফেরেন, তাহলে সিরিজ শেষে যুক্তরাষ্ট্রে থাকা পরিবারের কাছে ফিরে যেতে পারবেন কি না তা নিয়ে আছে সংশয়।
বিসিবি সভাপতি ফারুক আহমেদ অবশ্যা জানিয়ে দিয়েছেন, নিরাপত্তা ইস্যুতে সাকিবকে তারা কোনো সাহায্য করতে পারবেন না।
ক্রীড়া উপদেষ্টার কাছে সাংবাদিকরা এসব বিষয় নিয়েই জানতে চান। উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ বলেন, আমার মনে হয় উনাকে (সাকিব আল হাসান) উনার জায়গাটা পরিষ্কার করা প্রয়োজন, রাজনৈতিক জায়গা থেকে। উনার যে রাজনৈতিক অবস্থান সেটা নিয়ে কথা বলা প্রয়োজন। অলরেডি মাশরাফি বিন মর্তুজা কথা বলেছেন।
তিনি বলেন, জনগণের পক্ষ থেকে যদি নিরাপত্তার ঝুঁকি থাকে, সেটা কেউ কাউকে আসলে দিতে পারবে না। শেখ হাসিনাকেও নিরাপত্তা দেওয়া যায়নি, তাকে দেশ ছেড়ে পালাতে হয়েছে। সে জায়গায় রাজনৈতিক বিষয়টা, পরিচয়টা পরিষ্কার করা প্রয়োজন বলে মনে করি। কিন্তু প্রত্যেক খেলোয়াড়কে নিরাপত্তা দেওয়াই আমাদের দায়িত্ব এবং সেই দায়িত্ব আমরা পালন করি।