১০ ট্রাক অস্ত্র মামলার ডেথ রেফারেন্স ও জেল আপিল শুনানি শুরু

১০ ট্রাক অস্ত্র মামলায় মৃত্যুদণ্ড ও যাবজ্জীবন সাজার আসামিদের ডেথ রেফারেন্স ও জেল আপিলের শুনানি হাইকোর্টে শুরু হয়েছে। 

বুধবার বিচারপতি মোস্তফা জামান ইসলামের নেতৃত্বাধীন হাইকোর্ট বেঞ্চে আসামিদের আপিলের শুনানি শুরু হয়। 

সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর, ডিজিএফআইয়ের সাবেক ডিজি রেজ্জাকুল হায়দারসহ আসামিদের মৃত্যুদণ্ড ও জেল আপিলের শুনানি করেন তাদের আইনজীবী এসএম শাজাহান। 

শুনানিতে আইনজীবী বলেন, মামলার এজহারের অভিযোগ ত্রুটিপূর্ণ। তথ্য-উপাত্তে ঘাটতি রয়েছে। এই মামলায় আসামিদের শাস্তি দেওয়া ন্যায়বিচারের পরিপন্থি। 

১০ ট্রাক অস্ত্র মামলায় জামায়াতের আমির মতিউর রহমান নিজামীকেও মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছিলো। পরে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় নিজামীর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়ায় তাকে আসামি থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। উলফা নেতা পরশ বড়ুয়াকেও ফাঁসির আদেশ দেয়া হয়। 

মৃত্যুদণ্ড ও যাবজ্জীবন সাজার অন্য ১১ জন হলেন-

  • এনএসআই’র সাবেক মহাপরিচালক রেজ্জাকুল হায়দার চৌধুরী, 
  • এনএসআই’র সাবেক মহাপরিচালক আব্দুর রহিম, 
  • ডিজিএফআই’র সাবেক পরিচালক (নিরাপত্তা) সাহাবুদ্দিন আহমেদ, 
  • এনএসআই’র সাবেক উপ-পরিচালক লিয়াকত হোসেন, 
  • এনএসআই’র সাবেক মাঠ কর্মকর্তা আকবর হোসেন খান, 
  • রাষ্ট্রায়ত্ত সার কারখানা চিটাগং ইউরিয়া ফার্টিলাইজার লিমিটেডের (সিইউএফএল) সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহসিন উদ্দিন তালুকদার,  
  • সিইউএফএল’র সাবেক মহাব্যবস্থাপক (প্রশাসন) কে এম এনামুল হক, 
  • সাবেক ভারপ্রাপ্ত শিল্পসচিব নুরুল আমিন, 
  • চোরাচালানি হিসেবে অভিযুক্ত হাফিজুর রহমান, 
  • অস্ত্র খালাসের জন্য শ্রমিক সরবরাহকারী দীন মোহাম্মদ ও 
  • ট্রলার মালিক হাজী আবদুস সোবহান।

২০০৪ সালের পহেলা এপ্রিল রাতে চট্টগ্রামের জেটিঘাটে ১০ ট্রাক অস্ত্র আটক করা হয়। এই অস্ত্রের চালান নিয়ে তখন দেশ-বিদেশে আলোড়ন তৈরি হয়েছে। পরে তৎকালীন বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের মন্ত্রীসহ অনেককে আসামি করে দুটি মামলা দায়ের করা হয়।