রাজধানীর মহাখালী ফ্লাইওভারের নীচে ১৯ জুলাই বাম পাজরে গুলিবিদ্ধ হয়ে শহীদ হন বরিশালের বেতাল গ্রামের আল আমিন রনি। সংসারে একমাত্র উপার্জনক্ষম আল অমিন রনি শহীদ হওয়ায় তার বিধবা স্ত্রী মীম যেমন অনিশ্চয়তায় পড়েছেন, তেমনি দুর্বিপাকে রয়েছ সদ্য প্রসুত মেয়ে মিথিলা।
বাবার আদর-সোহাগ ছাড়াই বেড়ে উঠবে এই নতুন শিশু। তবে, বড় হয়ে একদিন জানবে তার বাবা দেশের জন্যই জীবন বিলিয়ে দিয়ে গেছেন। গত ১৯ জুলাই বিকেল সাড়ে চারটার দিকে রাজধানীর মহাখালীতে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে সৃষ্ট সংঘর্ষে গুলিতে নিহত হন আল-আমিন রনি (২৪)।
তেজগাওয়ের মাল্টিব্রান্ড ওয়ার্কশপের কর্মচারী ছিলেন শহীদ আল আমিন রনি। মা মেরিনা বেগম, অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী মিম ও ছোট ভাই রহিমকে নিয়ে মহাখালী সাততলা বাউন্ডারি বস্তি এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকতেন তিনি। রনি নিহত হওয়ার সময় উপজেলার চাখারে বাবার বাড়িতে ছিলেন তার অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী।
স্বামী শহীদ হবার পরে অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী মিমের ঠাই হয় বাবার বাড়িতে। সেখানেই সাড়ে তিন মাস পর জন্ম নেয় একটি ফুটফুটে কন্যা সন্তান। বাবার টানাপোড়েনের সংসারে নিজ থেকেই মীম আক্তার এবং তার সন্তান নিয়ে বাড়তি বোঝা মনে করে। সন্তানকে বড় করার জন্যে তার আর্থিক সহায়তা নয়, দরকার একটি চাকরি।
মিমের বাবা কামাল হোসেন মাঝি বলেন, উচ্চ মাধ্যমিক পাশ করায় এখন তাকে অর্নাসে ভর্তি করানোর ইচ্ছে আছে। তবে আট সদস্যের সংসার চালাতে তিনি এখনই চোখে অন্ধকার দেখছেন। কারণ, রনির আয়েই চলত সংসার। গ্রামের বাড়ি থাকা দাদির ভরণ-পোষণের দায়িত্বও ছিলো শহীদ রনির কাঁধে।
রনি চিরনিদ্রায় শায়িত নিজ গ্রামের বাড়ির উঠোনে। তার মৃত্যুর সাড়ে চার মাস পার হলো, স্বজনরা এখনও শোক কাটিয়ে উঠতে পারেননি। রনির বাড়িতে গেল সবচেয়ে বেশি আক্ষেপ শোনা যায় অশীতিপর বৃদ্ধা দাদীমা মরিয়ম বিবির। নাতিকে হারানোর পর তার সব স্বপ্ন এখন ফিকে হয়ে গেছে।
আদরের নাতিকে হারিয়ে আজও কান্না থামছে দাদি শতবর্ষী মরিয়ম বেগম ও মা মেরিনা বেগমের। রনির মা মেরিনা বেগম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, আজ রনি বেঁচে থাকলে মেয়ের মুখ দেখে কতইনা খুশি হতো। সন্তানের মুখ দেখা ও বাবা ডাক শোনার খুবই ইচ্ছে ছিল আমার বাপজানের।