পাঁচ মাস পেরিয়ে গেলেও পূর্ণাঙ্গ হয়নি জুলাই অভ্যুত্থানে শহীদদের তালিকা। স্বাস্থ্যবিষয়ক উপ-কমিটির সর্বশেষ তথ্য বলছে সারাদেশে শহীদ হন ১ হাজার ৫৮১ জন। যদিও প্রথম ধাপের খসড়া তালিকায় প্রকাশ করা হয় ৮৫৮ জন শহীদের নাম।
তালিকাটি করা হয় হাসপাতাল সূত্রে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে। যাতে নেই মৃত্যু সনদ না পাওয়া শহীদদের নাম। স্বজনদের দাবি দ্রুতই তৈরি হোক পূর্ণাঙ্গ তালিকা। পুনর্বাসনের সুবিধা পাক সব শহীদ পরিবার।
দৃশ্যপট এক। সযত্নে রাখা আছে সাইকেল। তবে চালানোর মানুষ শাওন আর নেই। পাঁচ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের বিজয় উৎসবে গিয়ে শহীদ হন ১৩ বছরের শাওন। চার ভাইয়ের মধ্যে সবার ছোট শাওনকে হারানোর শোক আজও তাড়িয়ে বেড়ায় তার পরিবারকে।
দৃশ্যপট দুই। সপ্তম শ্রেণীর অন্তর। তার নানীর কান্না থামেনি আজও। অন্তরের মৃত্যুর ঘটনায় পরিবার মামলা না করলেও মামলা করেছে অন্য কেউ। এখনও কোনো সাহায্য বা সহায়তা পায়নি অন্তরের পরিবার।
দৃশ্যপট তিন। মানুষের বাসায় কাজ করে ১৩ বছরের সন্তান ইব্রাহিমকে বড় করেন মা সখিনা বিবি। তার কষ্টের যেনো শেষ নেই। সন্তানের মৃত্যু সনদও আনতে হয় অজ্ঞাত হিসেবে। পাননি কোনো সহায়তাও।
দেশকে স্বৈরাচার মুক্ত করতে গিয়ে শহীদ; ইব্রাহীম অন্তর কিংবা শাওনের মতো হাজারও ছাত্রজনতা। তবে ৫ মাস পেরিয়ে গেলেও এখনও হয়নি তাদের পূর্ণাঙ্গ তালিকা।
স্বাস্থ্যবিষয়ক উপ-কমিটির সর্বশেষ বলছে; সারাদেশে শহীদ ১ হাজার ৫শ ৮১ জন। শহীদদের প্রথম ধাপের খসড়া তালিকায় হাসপাতাল সূত্রে পাওয়া ৮৫৮ জনের নাম প্রকাশ করা হয়। তবে ইব্রাহিমের মতো যারা মৃত্যু সনদ পাননি বা বেওয়ারিশ হিসেবে দাফন হয়েছে; তাদের নাম এই তালিকায় ওঠেনি।