প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতা হ্রাস, বিচার বিভাগ বিকেন্দ্রীকরণ, নাগরিকদের সুবিচার প্রাপ্তি, সংসদ সদস্য হওয়া বয়স ন্যূনতম ২১ বছর এবং সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে কার্যকর করাসহ সাতটি বিষয়ে গুরুত্ব দিয়ে সুপারিশ করেছে সংবিধান সংস্কার কমিশন। এই কমিশনের প্রধান ডক্টর আলী রীয়াজ বলেছেন, সাম্য, মানবিক মর্যাদা, সামাজিক সুবিচার, বহুত্ববাদ ও গণতন্ত্রকে মূল প্রস্তাবনা হিসেবে বিবেচনা করেছে কমিশন।
বৃহস্পতিবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে সংসদ ভবনের এলডি হলে সংবিধান সংস্কার কমিশন আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
ডক্টর আলী রীয়াজ জানান, সারাদেশের মানুষের মতামত নিয়েই প্রতিবেদন প্রস্তুত করেছে কমিশন। লিখিত বক্তব্য দিয়েছে ২৫টি রাজনৈতিক দল ও তিনটি জোট। এছাড়া সুশীল সমাজের প্রতিনিধি ও সংবিধান বিশেষজ্ঞসহ সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের মতামত পর্যালোচনা করেই এই প্রতিবেদন করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধের মহান আদর্শ এবং ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের জনআকাঙ্ক্ষার প্রতিফলনস্বরূপ সংবিধান ও রাষ্ট্রের মূলনীতি হিসেবে ‘সাম্য, মানবিক মর্যাদা, সামাজিক সুবিচার, বহুত্ববাদ ও গণতন্ত্রের প্রস্তাবনা এসেছে। প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতা হ্রাস করাসহ সাতটি বিষয়ে গুরুত্ব দেয়া হয়েছে।
আলী রীয়াজ বলেন, ক্ষমতার কেন্দ্রীকরণ রোধের জন্যে বিদ্যমান প্রতিষ্ঠানগুলোকে জোরদার করার পাশাপাশি নতুন প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার জন্যে সুপারিশ করেছি। এর অন্যতম হচ্ছে জাতীয় সাংবিধানিক কাউন্সিল বা এনসিসি। প্রধানমন্ত্রী পদের একচ্ছত্র ক্ষমতা হ্রাসের জন্যে বিভিন্ন ধরনের ব্যবস্থার সুপারিশ করেছি, যার মধ্যে তিনি যেন একাধিক পদে অধিষ্ঠিত হতে না পারেন সেটা সুপারিশ করেছি, তার নিজের দলের সংসদ সদস্যদের কাছে জবাবদিহির ব্যবস্থার জন্যে ৭০ অনুচ্ছেদ সংস্কারের প্রস্তাব দিয়েছি।
তিনি বলেন, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা এবং নাগরিকদের সুবিচার প্রাপ্তির জন্যে বিভিন্ন ধরনের পদক্ষেপের সুপারিশ আছে। নাগরিকদের অধিকারগুলো সম্প্রসারণের ওপর জোর দিয়েছি এবং সেগুলো বলবৎকরণে রাষ্ট্রের দায়বদ্ধতার বিষয়টিকে গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচনা করেছি।
ড. আলী রীয়াজ জানান, তার সংস্কার কমিশন মনে করে, শক্তিশালী গণতন্ত্র তৈরি এবং তাকে স্থায়ী করতে হলে, ভবিষ্যতে ফ্যাসিবাদী শাসনের আশঙ্কা মোকাবেলার উপায় হচ্ছে ক্ষমতাসীনদের জবাবদিহিতার জন্যে প্রতিষ্ঠান তৈরি, সেগুলোর স্বাধীনতা নিশ্চিত করা এবং স্থানীয় পর্যায় থেকে শাসনব্যবস্থার সবস্তরে নাগরিকদের অংশগ্রহণের নিশ্চয়তা বিধান করতে হবে, তাদের প্রতিনিধিত্বকে কার্যকর করে তুলতে হবে।