শাহবাগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মচারী মোস্তফা আসিফ অর্ণব দ্বারা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী হেনস্তার ঘটনাকে ইভটিজিং, চরম আপত্তির ও অগ্রহণযোগ্য বলে মন্তব্য করেছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান।
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় রাজধানীর গোপীবাগের রামকৃষ্ণ মিশনে শ্রীরামকৃষ্ণদেবের ১৯০তম জন্মতিথি এবং স্বামী বিবেকানন্দের বাংলাদেশে আগমনের ১২৫তম বর্ষ উদযাপনের জন্য চারদিনব্যাপী উৎসব আয়োজন করা হয়। সেই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেন, শাহবাগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মচারী মোস্তফা আসিফ অর্ণব দ্বারা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী হেনস্তার ঘটনা ইভটিজিং, চরম আপত্তির ও অগ্রহণযোগ্য। এ ঘটনাকে দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির বাইরে চিন্তার সুযোগ নেই।
তিনি আরও বলেন, কোনো মব জাস্টিজ, মব পুলিশিং -এর বিরুদ্ধে সরকার সর্বোচ্চ সচেতন।
অর্ণব ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সহকারী বাইন্ডার। তিনি মানিকগঞ্জ জেলার শিবালয় উপজেলার জমদুয়ারা গ্রামের মাহবুবুর রহমানের ছেলে।
বুধবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রীকে হেনস্তা করেছেন মোস্তফা আসিফ অর্ণব– এমন অভিযোগ করে ভুক্তভোগী ছাত্রী ঘটনার বিবরণ দিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট দেন। সেখানে অভিযুক্ত মোস্তফার ছবি দিয়ে তিনি লেখেন, ‘এই লোকটা আজ আমাকে শাহবাগ থেকে আসার পথে হ্যারাস করেছে। সে আমাকে হুট করে রাস্তায় দাঁড় করিয়ে বলে- আমার ড্রেস ঠিক নাই, আমি পর্দা করি নাই ইত্যাদি ইত্যাদি। তার আচরণ খুবই অ্যাগ্রেসিভ ছিল। পরে তাকে আমি জিজ্ঞাসা করি, আপনি কোন হলে থাকেন, কোন ডিপার্টমেন্টে পড়েন। সে বলে সে এই ক্যাম্পাসের কেউ না।’
এ ঘটনায় মামলা দায়েরের পর স্বেচ্ছায় মামলাটি প্রত্যাহারের আবেদন করেন ভুক্তভোগী সেই ছাত্রী। প্রত্যাহারের আবেদন বলা হয়, আসামি মোস্তফা আসিফ অর্ণব তার নিজের ভুল বুঝতে পারায় ও তার বাবা নিঃশর্ত ক্ষমা চাওয়ায় এবং সার্বিক নিরাপত্তা বিবেচনায় দেশের স্বার্থে আমি স্বেচ্ছায় আমার মামলা প্রত্যাহার করছি। একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক আমার সার্বিক নিরাপত্তা কামনা করছি।
এদিকে মামলা দায়েরের পরই বুধবার সন্ধ্যায় অভিযুক্ত অর্ণবকে গ্রেপ্তার করে শাহবাগ থানা পুলিশ। পরে তাকে ছাড়াতে শাহবাগ থানায় যান একদল তৌহিদি জনতা। এসময় তারা বিভিন্ন স্লোগান দিলেও কোনো উগ্র আচরণ করেননি বলে জানায় শাহবাগ থানা পুলিশ।
বৃহস্পতিবার এ মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে অর্ণবকে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হয়। পরে বাদী (ভুক্তভোগী ছাত্রী) মামলার তদন্ত কর্মকর্তা বরাবর মামলাটি প্রত্যাহারের আবেদন করেন। এ আবেদন আদালতে উপস্থাপন করা হলে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মেহেরা মাহবুব শুনানি শেষে এক হাজার টাকা মুচলেকায় আসামির জামিন মঞ্জুর করেন।
এদিন জামিন মঞ্জুরের পর ‘নারায়ে তাকবির- আল্লাহু আকবার’ স্লোগান দিয়ে অর্ণবের মাথায় পাগড়ি, গলায় একাধিক ফুলের মালা ও হাতে কোরআন দিয়ে বরণ করে নেন উপস্থিত তৌহিদি জনতা।