মব সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে কঠোর হুশিয়ারী উচ্চারণ করেছেন তথ্য উপদেষ্টা তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা মাহফুজ আলম। তিনি সতর্ক করে বলেছেন, দেশে এখন থেকে কেউ মব জাস্টিস কিংবা কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করলে ওই স্থান থেকেই অপরাধীদের গ্রেপ্তার করা হবে; একদিনও অপেক্ষা করা হবে না।
রোববার (৯ মার্চ) বিকেলে সচিবালয়ে আইন মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে এক যৌথ প্রেস ব্রিফিং শেষে তিনি এসব কথা জানান।
তথ্য উপদেষ্টা বলেন, দেশে গত কয়েক মাসে যত মব ভায়োলেন্স হয়েছে, সেসব মব ভায়োলেন্সের সঙ্গে জড়িত সবার বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া হবে। সব কিছুরই গোয়েন্দা তথ্য নেওয়া হচ্ছে। অপরাধীদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ধর্ষণ, নারী নিপীড়ন বা মব ভায়োলেন্স যাই হোক না কেন, সব ঘটনায় দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। সেক্ষেত্রে দায়ীদের ধর্মীয় বা অন্য কোনও পরিচয় বিবেচনায় নেয়া হবে না।
উপদেষ্টা বলেন, আজ (রোববার) আমরা প্রধান উপদেষ্টার উপস্থিতিতে সিদ্ধান্ত নিয়েছি- সামনে থেকে মব জাস্টিস পরিস্থিতি তৈরি হলে, থানা ঘেরাও থেকে শুরু করে কোনো নৈরাজ্য হলে, আমরা কঠোর ভূমিকা রাখব। গ্রেপ্তার থেকে শুরু করে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা সেখানেই নেয়া হবে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের বলে দেয়া হয়েছে।
থানায় গিয়ে মব সৃষ্টির বিষয়ে তিনি বলেন, অপরাধী যেই হোক না কেন, তাকে আইনের আওতায় নিয়ে আসার সিদ্ধান্ত হয়েছে। যত জটিলতা ও নৈরাজ্য সৃষ্টি হয়েছে, সব ঘটনায় এখন থেকে জিরো টলারেন্স নীতি নেয়া হবে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ঘটনায় অপরাধীকে থানায় দেওয়া হলো আবার তাকে ছাড়িয়ে এনে মালা পড়ানো হলো এ বিষয়টি নিয়ে আপনারা কি বলবেন এমন প্রশ্নের জবাবে মাহফুজ আলম বলেন, এই বিষয়টা সবার কাছেই খারাপ লেগেছে যে, কেন অপরাধী ছাড়া পেলো। আসলে যিনি ভুক্তভোগী তিনি মামলা তুলে নিয়েছেন। তিনি মামলা তুলে চিঠি দিয়েছেন। পুলিশের পক্ষ থেকে প্রত্যাহারের চিঠিসহ সব কাগজ আদালতে পাঠানো হলে জামিন দেয়া হয়।
তিনি বলেন, এখন সবার সন্দেহ উনি কি জোরপূর্বক এটা করে ছেন কিনা? আমি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসির সঙ্গে কথা বলবো, ভিসিকে বলবো ভুক্তভোগীর সঙ্গে কথা বলতে। যদি ভয়ভীতি থেকে মামলা তুলে নিয়ে থাকেন তাহলে বিশ্ববিদ্যালয়ের অথরিটিকে বলবো তারা যেন মামলা করেন। আমরা সুষ্ঠুভাবে বিচার করতে বদ্ধপরিকর।
ওই ঘটনায় এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারলো না এটাতো আলাদা আরেকটা মামলা হতে পারতো এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আইন হচ্ছে অন্ধ, যেই অপরাধী হন, তার জাতপাত, বর্ণ দেখা হবে না। লিঙ্গ দেখা হবে না, নারী কি পুরুষ। যিনি মব জাস্টিস করুন না কেন- ধার্মীয় হোক, নিধার্মীক হোক না কেন তাকে আইনের আওতায় নেয়ার বিষয়ে আজকে থেকে আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আমরা আমরা প্রধান উপদেষ্টার উপস্থিতিতে সিদ্ধান্ত হয়েছে মব জাস্টিস হলে, যে কোনো ধরনের নৈরাজ্য হলে হলে আমরা খুব কঠোর ভূমিকা রাখবো।
তিনি বলেন, গত সাত-আট মাসের যে যেখানেই ঝামেলা করেছে, মব জাস্টিসের মতো ঘটনা ঘটিয়েছে আমাদের গোয়েন্দা সংস্থা সক্রিয় আছে। আমরা বলেছি আরো প্রো-অ্যাকটিভ ওয়েতে সব কিছু নজরদারিতে আনার জন্য।
নারী-শিশু নির্যাতন রোধে সচেতনতা বাড়াতে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে কর্মসূচি নেয়া হবে জানিয়ে তিনি বলেন, যে ইস্যুগুলো রয়েছে যেমন আইন-শৃঙ্খলা সম্পর্কিত, মব জাস্টিস ইস্যু আছে, মিলিটেন্সি ইস্যু হয়তো সামনে আসতে পারে, আরো কিছু ইস্যু আছে- সেগুলো যাতে মিডিয়ায় ভালোভাবে উপস্থাপিত হয়, সেই বিষয়ে মনিটর করার চিন্তা-ভাবনা করছি। সেগুলোতে মিডিয়া কীভাবে ফোকাস করবে এ বিষয়ে মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে আমরা মিডিয়াগুলোর সঙ্গে বসব। জনগণ যাতে সঠিক তথ্যটা পেতে পারে সেটা নিশ্চিতে কাজ করা হবে।