উপকূলে বৃষ্টি ও ঝড়ো হাওয়া, ১৬ জেলায় জলোচ্ছ্বাসের আশঙ্কা

বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট লঘুচাপটি গভীর নিম্নচাপে পরিণত হয়ে বাংলাদেশের উপকূল অতিক্রম করতে শুরু করেছে। এর প্রভাবে উপকূলীয় এলাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে শুরু হয়েছে বৃষ্টি ও ঝোড়ো হাওয়া। আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে তিনটার দিকে এই নিম্নচাপটি বাংলাদেশের উপকূল অতিক্রম করা শুরু করেছে। এর প্রভাবে দেশের অন্তত ১৪ জেলার বিভিন্ন স্থানে ২ থেকে ৪ ফুট উচ্চতার জলোচ্ছ্বাস হতে পারে। সাময়িক প্লাবিত হতে পারে বেশ কিছু নিম্নাঞ্চলেও। পাশাপাশি, পার্বত্য এলাকায় পাহাড় ধস নিয়ে সতর্ক করা হয়েছে। 

অমাবস্যা ও গভীর নিম্নচাপের কারণে উপকূলীয় অন্তত ১৬ জেলা জলোচ্ছ্বাসে প্লাবিত হতে পারে। গভীর নিম্নচাপ কেন্দ্রের ৪৮ কিলোমিটারের মধ্যে বাতাসের একটানা সর্বোচ্চ গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ৫০ কিলোমিটার, যা দমকা বা ঝড়ো হাওয়াসহ ৬০ কিলোমিটার পর্যন্ত বাড়ছিল। গভীর নিম্নচাপ কেন্দ্রের কাছাকাছি এলাকায় সাগর উত্তাল থাকায় চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্র বন্দরকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। উত্তর বঙ্গোপসাগরে থাকা মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারকে পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত নিরাপদ আশ্রয়ে থাকতে বলা হয়েছে।

গভীর নিম্নচাপের প্রভাবে নদীপথ উত্তাল থাকায় দেশের অভ্যন্তরীণ ও উপকূলীয় নৌপথে সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ)। বৃহস্পতিবার নৌ নিরাপত্তা ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা বিভাগের বিজ্ঞপ্তিতে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়। এতে বলা হয়েছে, নিম্নচাপের প্রভাবে উপকূলীয় নৌপথসহ অভ্যন্তরীণ নৌপথসমূহ উত্তাল রয়েছে। সেজন্য যাত্রীদের জানমালের নিরাপত্তায় উপকূলীয় ও অভ্যন্তরীণ নৌপথে চলাচলকারী সব নৌযানের চলাচল পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত বন্ধ রাখার জন্য অনুরোধ করা হল।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের বিশেষ বুলেটিনে বলা হয়েছে, গভীর নিম্নচাপটি বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টায় চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর থেকে ৩৭৫ কিলোমিটার পশ্চিম-দক্ষিণপশ্চিমে, কক্সবাজার সমুদ্রবন্দর থেকে ৩৮৫ কিলোমিটার পশ্চিমে, মোংলা সমুদ্র বন্দর থেকে ১৭০ কিলোমিটার দক্ষিণপশ্চিমে এবং পায়রা সমুদ্রবন্দর থেকে ২১০ কিলোমিটার দক্ষিণপশ্চিমে অবস্থান করছিল। এটি সন্ধ্যা নাগাদ উপকূল অতিক্রম সম্পন্ন করতে পারে এবং ক্রমান্বয়ে দুর্বল হতে পারে। মঙ্গলবার বঙ্গোপসাগরে একটি লঘুচাপ তৈরি হয়, যা পরে আরো ঘনীভূত হয়ে সুস্পষ্ট লঘুচাপে পরিণত হয়। সুস্পষ্ট লঘুচাপটি বৃহস্পতিবার সকাল ৬টায় নিম্নচাপে পরিণত হয়। পরে সেটি পরিণত হয় গভীর নিম্নচাপে।