আরও পাঁচ দেশে ভোটার নিবন্ধনের সিদ্ধান্ত, জাপানে শুরু জুলাইয়ে

দায়িত্ব পাওয়ার পর থেকেই প্রবাসীদের ভোটাধিকার নিশ্চিতের কথা বলে আসছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। সেই লক্ষে বিভিন্ন দেশে প্রবাসীদের ভোটার করার কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

জাতীয় পরিচয়পত্র নিবন্ধন অনুবিভাগের মহাপরিচালক এসএম হুমায়ুন কবীর জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রসহ আরও পাঁচ দেশে ভোটার নিবন্ধন শুরুর সিদ্ধান্ত হয়েছে। এরমধ্যে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, ওমান, দক্ষিণ আফ্রিকা, জর্ডান ও মালদ্বীপ। ইতিমধ্যে ৯টি দেশের ১৬টি মিশন অফিসে কাজ চলমান রয়েছে। দশম দেশ হিসেবে জাপানে চলতি জুলাই মাসে কাজ শুরু হবে। 

মঙ্গলবার (১৫ জুলাই) নির্বাচন ভবনে এক সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি এই তথ্য জানান। 

এনআইডির অনুবিভাগের মহাপরিচালক জানান, প্রবাসী বাংলাদেশিদের ভোটার হিসেবে নিবন্ধন ও জাতীয় পরিচয়পত্রের জন্য ৯টি দেশ থেকে মোট ৪৮ হাজার ৮০টি আবেদন জমা পড়েছে। তাদের মধ্যে আঙুলের ছাপ দিয়ে নিবন্ধন সেরেছেন ২৯ হাজার ৬৪৬ জন। তাদের ১৭ হাজার ৩৬৭ জন ভোটার হয়েছেন।

তিনি জানান, সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রসহ পাঁচ দেশে এনআইডি নিয়ে কাজ করার জন্য পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মতি পাওয়া গেছে। এই পাঁচ দেশে প্রাথমিক কাজ ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে। দশম দেশ হিসেবে জাপানে চলতি জুলাই মাসে কাজ শুরু হবে। পর্যায়ক্রমে ৪০টি দেশে এনআইডি সেবা চালুর পরিকল্পনা রয়েছে ইসির।

নির্বাচন কমিশন প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য ভোটার নিবন্ধন কার্যক্রম ৪০টি দেশে সম্প্রসারণের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। বর্তমানে সংযুক্ত আরব আমিরাত, সৌদি আরব, ইতালি, যুক্তরাজ্য, কুয়েত, কাতার, মালয়েশিয়া, অস্ট্রেলিয়া ও কানাডায় ১৬টি কেন্দ্রে নিবন্ধন চলছে।

২০০৭-২০০৮ সালে ছবিসহ ভোটার তালিকা প্রণয়ন শুরুর সময়ই প্রবাসী বাংলাদেশিদের ভোটার করা ও এনআইডি দেওয়ার দাবি উঠেছিল।

নানা ধরনের জটিলতা পেরিয়ে ২০১৯ সালের নভেম্বরে মালয়েশিয়ায় অনলাইন নিবন্ধনের কার্যক্রম শুরু করে তৎকালীন কমিশন। কিন্তু এরপর কোভিড মহামারীতে সেই উদ্যোগ থমকে যায়।

পরে আবার সেই কাজে গতি আনার চেষ্টা হয়। গত কমিশনের সময় ২০২৩ সালের জুলাইয়ে ফের শুরু হয় নিবন্ধনের কাজ।

পাঁচ অগাস্টের পটপরিবর্তনের পর আবার স্থবিরতা দেখা দেয় এ কার্যক্রমে। পরে বর্তমান এএমএম নাসির উদ্দিন কমিশন কাজটি এগিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ নেয়।