জুলাই ঘোষণাপত্র পাঠের পর অভূতপূর্ব রাজনৈতিক সৌহার্দ্য

রাজধানীর মানিক মিয়া এভিনিউতে বিশাল জনসমুদ্রের সামনে দাঁড়িয়ে জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় দাঁড়িয়ে বহুল কাঙ্খিত ‘জুলাই ঘোষণাপত্র’ পাঠ করলেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। ২৮ দফার এই ঘোষণাপত্র পাঠের পর ঘোষণ মঞ্চে উপস্থিত রাজনৈতিক দলের প্রধানদের সঙ্গে কোলাকুলি বা বুক মেলান ড. ইউনূস।

সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয় আয়োজিত ‘৩৬ জুলাই উদ্‌যাপন’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে অনুষ্ঠানে গিয়ে মঙ্গলবার বিকেলে ড. মুহাম্মদ ইউনূস জুলাই ঘোষণাপত্র পাঠ করেন। এ সময় বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা ও ছাত্র-জনতা উপস্থিত ছিলেন। বিকেল ৫টা ২২ মিনিটে তিনি ঘোষণাপত্র পাঠ শুরু করেন প্রধান উপদেষ্টা। 

জাতীয় সংগীতের মাধ্যমে শুরু হয় জুলাই পুনর্জাগরণের অনুষ্ঠান। এরপর মঞ্চে আসেন প্রধান উপদেষ্টা। বৃষ্টিস্নাত পরিবেশের মধ্যেই তিনি পাঠ করেন ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থান-ভিত্তিক ঐতিহাসিক দলিল ‘জুলাই ঘোষণাপত্র’। দলিলটি বিএনপিসহ অংশীদার রাজনৈতিক দলগুলোর মতামত নিয়ে চূড়ান্ত করেছে অন্তর্বর্তী সরকার। 

ইতোমধ্যে দলগুলোর মধ্যে ঘোষণাপত্রের রাষ্ট্রীয় ও সাংবিধানিক স্বীকৃতি নিয়েও ঐকমত্য গড়ে উঠেছে। এই ঘোষণাপত্রের জন্য জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতারা আগে থেকেই জোর দাবি জানিয়ে আসছিলেন। তারা এ দাবিতে বিভিন্ন কর্মসূচিও পালন করেন। আজকের ঘোষণার মধ্য দিয়ে সেই দাবির বাস্তবায়ন হলো।

অনুষ্ঠানস্থলে রাজনৈতিক নেতাদের মধ্যে ছিল শুভেচ্ছা বিনিময়ের উষ্ণতা। অনেকে একে অপরের সঙ্গেও বুক মেলাতে দেখা গেছে। অনুষ্ঠানে অংশ নেয়া নেতাদের মধ্যে ছিলেন, বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর, নাগরিক ঐক্যের মাহমুদুর রহমান মান্না, জামায়াতের মিয়া গোলাম পরওয়ার, এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম এবং গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান জোনায়েদ সাকি।