প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এএমএম নাসির উদ্দিন বলেছেন, যে পরিস্থিতিতে দেশটা যাচ্ছে তাতে আমাদের কাজ আদায় করা কঠিন। দৃশ্যমান ও অদৃশ্য অনেক চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে হচ্ছে। সেসব মোকাবিলা করে এগিয়ে যাচ্ছি। আমি সব সময় পজেটিভ চিন্তা করি। কোনো কিছু নেগেটিভ দেখি না। বিশেষ পরিস্থিতি আগামী নির্বাচন হচ্ছে। বিশেষভাবে এটা পরিস্থিতির মোকাবেলা করতে হবে।
শনিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন কমিশন সচিবালয় মিলনায়তনে ‘নির্বাচন কর্মকর্তা সম্মেলন-২০২৫’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
সিইসি বলেন, নির্বাচন কমিশনের প্রতি পূর্ণ আস্থা আছে বলেই প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূস বিশ্ব দরবারে গিয়ে জোর দিয়ে বলছেন ফেব্রুয়ারিতেই অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন হবে।
আমরা সেটা করতে পারবো।
নির্বাচন সংশ্লিষ্টদের বেআইনি কাজের নির্দেশনা দেওয়া হবে না জানিয়ে সিইসি বলেন, আইনি, বিধি মোতাবেক, সঠিকভাবে কাজ করার নির্দেশনা দেওয়া হবে। নির্বাচন কর্মকর্তাদের ওয়াদা করতে হবে- কোনো দল ও ব্যক্তির পক্ষে নয়, আগামী নির্বাচনে সঠিক ও নিরপেক্ষভাবে কাজ করবেন।
সম্মেলনে উপস্থিত মাঠ কর্মকর্তাদের উদ্দেশে প্রধান নির্বাচন কমিশনার বলেন, যে ওয়াদা, শপথ আমরা প্রধান বিচারপতির কাছে করেছিলাম সেই দায়িত্ব আপনাদের অর্পিত করলাম। সেই দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করতে হবে।
এর আগে নির্বাচন কমিশনার (ইসি) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ বলেন, জুলাই আন্দোলন যে কারণে হয়েছে তার এক নম্বর কারণ পচা নির্বাচন ও নির্বাচন ব্যবস্থা ভেঙে পড়া। আমরা সময়ের ক্রসরোডে দাঁড়িয়ে আছি। তার এক নম্বর কারণ নির্বাচন ব্যবস্থা ভেঙে পড়া। যে সব কারণে জুলাই অভ্যুত্থান হয়েছে তার প্রধান কারণ দেশে ভালো নির্বাচন না থাকা। চোখ বন্ধ করে দেখেন, জুলাই আন্দোলন কেন হলো, তার প্রধান কারণ পচা নির্বাচন বা নির্বাচনের নামে প্রহসন।
মাঠ কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্য ইসি সানাউল্লাহ বলেন, আমরা আর কখনো পচা নির্বাচন করবো না। পক্ষপাতমূলক দুষ্ট নির্বাচনের জন্য ইসি আপনাদের চাপ দেবে না, ইনিয়ে-বিনিয়ে কথা বলবে না। নির্বাচনে যদি কেউ অনিয়ম করে তাহলে তার দায়ভার তাকেই নিতে হবে, ইসি কোনো দায়িত্ব নেবে না।