বাংলার জমিনজুড়ে হেমন্তের স্তুতি, শীতের আগমনী বার্তা

দুয়ারে কড়া নাড়ছে শীত। ভোরের আগমনটা যেনো অপার্থিব। কুয়াশার আলতো চাদর ভেদে সোনালী আভার লুকোচুরি খেলা।পায়ের স্পর্শে মুক্তা ঝরানো শিশির বিন্দুর প্রাধান্য। গ্রামীণ জনপদ আর প্রাণের সাথে; পরিচিত শীতল হাওয়ার প্রেমের দিন। পঞ্জিকায় হেমন্তের আনন্দ উদযাপনের বিদায় আর পাতাঝরা দিনের উদযাপনে।

এক সুন্দরের হাতছানিতে হারিয়ে যাওয়া; যে দেশের ভোরের উপন্যাসে সৃষ্টিকর্তার আশীর্বাদের এমন অধ্যায় থাকে। দূরের গায়ের দিগন্ত জুড়ে রক্তলাল আভা তার ভালবাসার অধিকারের পাণ্ডুলিপি নিয়ে প্রতি হেমন্তে হাজির হয়। বাংলাদেশের কার্তিকের আনন্দ লিপিতে কুয়াশা আর সূর্যের বিচ্ছেদের অভিমান থাকে বেলা বাড়তে বাড়তে।

ঐশ্বর্যের মুক্তায় সমৃদ্ধ শিশির নিজেকে বড় বেশি প্রাসঙ্গিক করে, সোনালী ধানের আলিঙ্গনে। সোনালি ধান যার ভালোবাসার দখলে তার মুখ জুড়ে এক স্বর্গীয় হাসি, চোখে একরাশ অপেক্ষা। সে অপেক্ষা নবান্নের, সে অপেক্ষা সন্তানের মতো পরম যত্নে একটু একটু করে আপন হওয়া ফসলের।

বাংলার গাঁয়ের পথে হেমন্তের শেষ বেলাতে, নবান্নের প্রেক্ষাপট রঙিন হয়ে ধরা দেয় বটে, তবে প্রকৃতিতে শীতের আগমনী বার্তার ছন্দ হারাচ্ছে বৈকি। নাম না জানা কতো পাখির সুর ধ্বনি ভেসে বেড়ায় সোনালী ধানের রাজ্যে। নতুন ধানে তাদের দাবির কথা মনে করিয়ে দেয়, মধুর উচ্চারণে।

সবুজের প্রাধান্যে সজীবতা বহন করে, শীতের টাটকা সবজির বাহার। চিরায়িত মায়ায় বাংলার গাঁয়ে হেমন্ত আর শীতের হিম পরশের দ্বৈরথ চলতে থাকে প্রকৃতির নিয়মিত ছন্দে।