করোনাভাইরাসের টিকার জন্য নিবন্ধনের করেও টিকার অপেক্ষায় আছেন দুই কোটি মানুষ। অভিযোগ রয়েছে, মাস দুয়েক পেরিয়ে গেলেও অনেকে টিকার তারিখ জানতে পারছেন না।
শনিবার (৪ সেপ্টেম্বর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচির কর্মকর্তারা দেশের সিভিল সার্জনদের সঙ্গে অনলাইন সভায় অপেক্ষমাণ মানুষের সমস্যা নিয়ে আলোচনা করেন। সভায় একাধিক সিভিল সার্জন খুদে বার্তা পাঠানো নিয়ে ভুলত্রুটি ও অনিয়মের কথা তুলে ধরেন।
সরকারের তথ্যপ্রযুক্তি ও যোগাযোগ বিভাগ গণমাধ্যমকে জানিয়েছে, গতকাল সন্ধ্যা পর্যন্ত টিকার জন্য নিবন্ধন করা মানুষের সংখ্যা ছিল ৩ কোটি ৮৯ লাখ। তাদের মধ্যে এক ডোজ টিকা পেয়েছেন ১ কোটি ৮৮ লাখ। অর্থাৎ নিবন্ধন করে এক ডোজও টিকা পাননি ২ কোটি ১ লাখ মানুষ।
গতকালের সভায় অন্যদের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মাতৃ, নবজাতক ও শিশু স্বাস্থ্য কর্মসূচির পরিচালক ডা. মো. শামসুল হক। তিনি বলেন, টিকার মজুত কমে আসায় চার–পাঁচ দিন এসএমএস দেওয়ার ক্ষেত্রে কিছুটা ধীরগতি ছিল। টিকা আসার পরপরই আবার গতি বাড়ানো হবে।
সভায় যুক্ত থাকা তিন জেলার সিভিল সার্জনদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আগামী মঙ্গলবার সারাদেশে গণটিকাদান কর্মসূচির মাধ্যমে দ্বিতীয় ডোজ দেওয়ার প্রস্তুতি নিয়েও আলোচনা হয়েছে।
টিকাদান জোরদারের পাশাপাশি সরকার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দিতে প্রস্তুতি শুরু করেছে। সরকারের একাধিক মন্ত্রী বলেছেন, ১২ বছরের ওপরে সব শিক্ষার্থীকে টিকা দেওয়ার পরিকল্পনা করা হচ্ছে। কিন্তু এই বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থীকে কী করে টিকা দেওয়া হবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়।
আরও পড়ুন: প্রায় তিন মাস পর সর্বনিম্ন মৃত্যু, শনাক্ত ১০% এর নিচে
প্রসঙ্গত, দেশে এ পর্যন্ত করোনার টিকা এসেছে ৪ কোটি ৩ লাখ ৬০০। এর মধ্যে আছে অক্সফোর্ড–অ্যাস্ট্রাজেনেকা, ফাইজার, মডার্না ও সিনোফার্মের টিকা। শনিবার পর্যন্ত প্রথম ও দ্বিতীয় মিলে মোট ২ কোটি ৭৬ লাখ ৭ হাজার ৩১৬ ডোজ টিকা দেওয়া হয়েছে।
এখন মজুত আছে ১ কোটি ২৬ লাখ ৯৩ হাজার ২৮৪ ডোজ টিকা। এগুলোর মধ্যে ফাইজারের ১০ লাখ টিকা ঢাকার বাইরে ব্যবহার করা যাবে না।
একাত্তর/আরএ