বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক অবিস্মরণীয় ও নজিরবিহীন দিন হতে যাচ্ছে ১২ ফেব্রুয়ারি। এদিন প্রথমবারের মতো দেশের নাগরিকরা একই সঙ্গে দুই ধরনের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে যাচ্ছেন- একটি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য এবং অন্যটি একটি নতুন জাতীয় সনদ বা সংবিধান সংস্কার প্রস্তাবের অনুমোদনের লক্ষ্যে দেশব্যাপী গণভোটের জন্য।
বৃহস্পতিবার ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে সাতটা থেকে বিকেল সাড়ে চারটা পর্যন্ত ২৯৮টি সংসদীয় আসনে বিরতিহীনভাবে ভোটগ্রহণ চলবে। একটি সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও উৎসবমুখর পরিবেশ নিশ্চিত করতে নির্বাচন কমিশন (ইসি) তাদের যাবতীয় কারিগরি ও প্রশাসনিক প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে।
ভোটকেন্দ্রে গিয়ে ভিড় বা বিভ্রান্তি এড়াতে ভোটারদের আগেভাগেই কেন্দ্র ও ভোটার নম্বর জেনে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। ডিজিটাল যুগে এই প্রক্রিয়াকে সহজ করতে চারটি মাধ্যম চালু রাখা হয়েছে।
‘Smart Election Management BD’ অ্যাপের মাধ্যমে এনআইডি ও জন্মতারিখ দিয়ে তাৎক্ষণিক তথ্য জানা যাবে। ১০৫ নম্বরে কল করে সরাসরি অপারেটরের সহায়তা নেওয়া যাবে। মোবাইল ফোনের মেসেজ অপশনে PC NID Number লিখে ১০৫ নম্বরে পাঠালে ফিরতি বার্তায় কেন্দ্রের নাম ও ক্রমিক নম্বর চলে আসবে। স্থানীয় নির্বাচন অফিস বা সরাসরি কেন্দ্রে টাঙানো তালিকা থেকেও তথ্য নেয়া যাবে।
ভোটদানের সঠিক পদ্ধতি: এবারের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে সম্পূর্ণ কাগজের ব্যালটের মাধ্যমে। ভোটারদের সুবিধার্থে ভোটদানের ধাপগুলো নিচে দেওয়া হলো-
১. পরিচয় নিশ্চিতকরণ: পোলিং অফিসার নাম মিলিয়ে আপনার আঙুলে অমোচনীয় কালির দাগ দেবেন।
২. ব্যালট সংগ্রহ: আপনি দুটি ব্যালট পাবেন। সংসদ নির্বাচনের জন্য সাদা-কালো ব্যালট এবং গণভোটের জন্য গোলাপি ব্যালট। অবশ্যই নিশ্চিত করবেন ব্যালটের পেছনে অফিশিয়াল সিল ও প্রিসাইডিং অফিসারের স্বাক্ষর আছে কি না।
৩. সিল ও ভাঁজ: গোপন কক্ষে গিয়ে সংসদ নির্বাচনে পছন্দের প্রতীকের ওপর এবং গণভোটে 'হ্যাঁ' বা 'না' ঘরে রাবার স্ট্যাম্প দিয়ে সিল দেবেন। সিল দেয়ার পর ব্যালটটি লম্বালম্বিভাবে ভাঁজ করতে হবে যেন কালির ছাপ অন্য প্রতীকে না লাগে।
৪. ব্যালট বাক্সে নিক্ষেপ: ভাঁজ করা দুটি ব্যালট একই স্বচ্ছ ব্যালট বাক্সে ফেলে দ্রুত কেন্দ্র ত্যাগ করবেন।
ভোট বাতিল বা স্থগিতের কারণ: নির্বাচন কমিশন জিরো টলারেন্স নীতি ঘোষণা করেছে। যেসব কারণে কোনো কেন্দ্রের ভোট বাতিল হতে পারে, সেগুলো হলো ভোটকেন্দ্র দখল, মারামারি বা বিস্ফোরণের মতো সহিংসতা। একযোগে জালভোট প্রদান বা সংঘবদ্ধ কারচুপি।
এছাড়াও ভোটারদের ভয়ভীতি প্রদর্শন বা কেন্দ্রে প্রবেশে বাধা দেওয়া। নির্বাচনী কর্মকর্তাদের পক্ষপাতদুষ্ট আচরণ বা ফলের গরমিল। ব্যালট পেপার ভুল ছাপা হওয়া বা ব্যালট ছিনতাই হলে ভোট বাতিল হতে পারে।
পরিসংখ্যান ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা: এবারের নির্বাচনে ৫১টি রাজনৈতিক দল থেকে মোট ২ হাজার ৩৪ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। দেশের ১২ কোটি ৭৭ লাখের বেশি ভোটার ৪২ হাজার ৭৭৯টি কেন্দ্রে ভোট দেবেন। শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে দেশজুড়ে প্রায় ৮ লাখ নিরাপত্তা সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। সেনাবাহিনী, বিজিবি, র্যাব, পুলিশ ও আনসার বাহিনীর এই বিশাল বহর সার্বক্ষণিক টহলে থাকবে। বিশেষ করে ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে বাড়তি নজরদারি ও সিসিটিভি ক্যামেরার ব্যবস্থা করা হয়েছে।