দেশের ইতিহাসে নির্বাচিত প্রথম কোনো সরকার খোলা আকাশের নিচে শপথ নিতে যাচ্ছে। আর নির্বাচিত সংসদ সদস্যরা এনিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো খোলা আকাশের নিচে শপথ নেবেন। সংসদের সামনে এমপি ও মন্ত্রিসভার শপথ, দেশে নতুন যুগের সূচনা বলে মনে করেন বিশ্লেষকরা।
নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে সরকার গঠন করতে যাচ্ছে বিএনপি। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় হতে যাচ্ছে নতুন সরকারের শপথ। ঐতিহাসিক মুহূর্তের সাক্ষী হচ্ছেন এক হাজারের বেশি দেশি-বিদেশি অতিথি। মেগা ইভেন্ট সামনে রেখে দক্ষিণ প্লাজায় চলছে কর্মযজ্ঞ।
জুলাই অভ্যুত্থান পরবর্তী সরকারের আমলে নানা আনুষ্ঠানিকতায় সরব ছিলো জাতীয় সংসদ ভবনের সামনের সড়ক ও সংসদ ভবন এলাকা।
হাসিনা শাশনামলের পতনের পর উৎসব, এনসিপির আত্মপ্রকাশ হয়েছিল মানিক মিয়া এভিনিউ থেকে। জুলাই ঘোষণাপত্র এবং সনদের অনুষ্ঠান সব রাজনৈতিক দলকে নিয়ে সংসদ ভবন এলাকাতেই হয়েছিলো।
দুটি অনুষ্ঠানেই সরকার প্রধান হিসাবে ড. ইউনূস প্রধান অতিথি ছিলেন। এরপর ইনকিলাব মঞ্চের আহবায়ক শহীদ ওসমান হাদীর জানাযায় মানুষের উপস্থিতি ছিলো চোখে পড়ার মত।
আপসহীন নেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ঐতিহাসিক জানাযাতে লাখ লাখ মানুষের ঢল নামে সংসদ ভবন এলাকাতেই। এরপর তার স্মরণে নাগরিক শোক সভাও হয় একই প্রাঙ্গণে খোলা আকাশের নিচে।
ইতিহাসের সব রেকর্ড ভেঙ্গে ত্রয়োদশ সংসদের নির্বাচিত সদস্যরা শপথ নিতে যাচ্ছেন খোলা আকাশের নিচে। তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকারের মন্ত্রীসভাও শপথ নিতে যাচ্ছে সংসদ ভবনের সামনে।
সংসদ ভবনের ভেতরে এমপিরা শপথ নিতেন, মন্ত্রীরা গণভবনে। এই রেওয়াজ ভাঙ্গলো এবার। এটাকে জুলাই পরবর্তী রাজনীতির শিক্ষা বলেই মনে করেন বিশ্লেষকরা।
১৯৭৩ সালের নির্বাচিত সংসদ সদস্যরা সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে শপথ নেন খোলা আকাশের নিচে। মুজিব নগর সরকারের সদস্যরা শপথ নেন খোলা আকাশের নিচে।