আতঙ্কে তেল কেনার হিড়িক, এক দিনেই শেষ হচ্ছে দেড় দিনের মজুত: মন্ত্রী

দেশে বর্তমানে জ্বালানি তেলের কোনো ঘাটতি নেই বলে জাতীয় সংসদে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু। তবে ইরান যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে সাধারণ মানুষের মধ্যে তৈরি হওয়া আতঙ্কের কারণে তেলের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হচ্ছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) বিকেলে সংসদের প্রথম অধিবেশনের সপ্তম দিনের সেশনে তারকা চিহ্নিত এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।

সংসদে দেওয়া বক্তব্যে মন্ত্রী জানান, সাধারণ সময়ে যে পরিমাণ জ্বালানি তেল দেড় দিনে ব্যবহৃত হওয়ার কথা, বর্তমান পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষের হিড়িক বা প্যানিক বায়িংয়ের কারণে তা এক দিনেই শেষ হয়ে যাচ্ছে। 

তিনি বলেন, দেশে জ্বালানি তেলের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে। কিন্তু ইরান যুদ্ধ নিয়ে মানুষের মধ্যে এক ধরনের আতঙ্ক কাজ করছে। এই অহেতুক আতঙ্কে মানুষ প্রয়োজনের অতিরিক্ত তেল সংগ্রহ করায় সরবরাহের ওপর চাপ পড়ছে।

মন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন, সারাবিশ্বের চলমান পরিস্থিতির সঙ্গে সংগতি রেখে বাংলাদেশ সরকারও জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে বিভিন্ন কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।

একই অধিবেশনে দেশে চলমান গ্যাস সঙ্কট নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জানান জ্বালানি মন্ত্রী। তিনি স্পষ্ট করেন, বর্তমানে দেশে গ্যাসের ঘাটতি থাকায় নতুন করে আর কোনো আবাসিক বা বাণিজ্যিক খাতে গ্যাস সংযোগ দেওয়া হচ্ছে না। বিদ্যমান শিল্প ও জরুরি সেবা সচল রাখতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

অন্যদিকে, দেশের বন্ধ হয়ে যাওয়া চিনিকলগুলো নিয়ে আশার কথা শুনিয়েছেন শিল্পমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। 

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, সরকার বন্ধ হওয়া চিনিকলগুলো পুনরায় চালু করার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। তবে এটি সম্পূর্ণ নির্ভর করছে কাঁচামাল বা আখের পর্যাপ্ত প্রাপ্তির ওপর। চাষী পর্যায়ে আখের সরবরাহ নিশ্চিত হলে পর্যায়ক্রমে কলগুলো উৎপাদনে ফিরবে।