ইরানে চলমান মার্কিন-ইসরাইলি আগ্রাসনের প্রভাবে টালমাটাল বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার। এর প্রভাব পড়েছে দেশের জ্বালানি সেক্টরেও। অপরিশোধিত তেল সংকটে দেশের একমাত্র রাষ্ট্রীয় তেল শোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেডের (ইআরএল) উৎপাদন বন্ধ হয়ে গেছে।
মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) দুপুর থেকে ইআরএলের উৎপাদন বন্ধ রেখেছে কর্তৃপক্ষ। তবে প্রতিষ্ঠানটির তিনটি ইউনিটের মধ্যে দু'টি ইউনিট বন্ধ হলেও একটি ইউনিট আংশিক চালু রয়েছে।
জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের মুখপাত্র মনির হোসেন চৌধুরী গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
ইআরএল সূত্রে জানা গেছে, মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের কারণে ইআরএলের ক্রুডের মজুত শেষ হয়ে আসছিল চলতি মাসের প্রথম থেকে। ৫ এপ্রিল থেকে সেটি চালু রাখা হয় বিকল্প ব্যবস্থায়। ক্রুডবাহী একটি জাহাজ সৌদি আরবে আটকা পড়ায় এই সংকট।
এদিকে সরকারের বিকল্প কয়েকটি দেশ থেকে কয়েক লাখ টন ক্রুড কেনার কথা রয়েছে। ক্রুডের মজুত ক্ষমতা দেড়লাখ টন। আর পরিশোধনের পর রাখা যায় আড়াই লাখ টন।
ইরানে চলমান মার্কিন-ইসরাইলি আগ্রাসনের কারণে সৃষ্ট অস্থিরতায় প্রায় দুই মাস ধরে ক্রুড তেল আমদানি বন্ধ রয়েছে। ফলে মে মাসের প্রথম সপ্তাহে পরবর্তী আমদানি চালান দেশে আসার আগ পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে ইআরএল কর্তৃপক্ষকে। তবে দেশে পরিশোধিত জ্বালানি তেলের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে এবং সরবরাহ ব্যবস্থায় কোনো প্রভাব পড়বে না বলে আশ্বস্ত করেছে জ্বালানি বিভাগ।
ইআরএল কর্মকর্তাদের তথ্যমতে, কক্সবাজারের মহেশখালীর সিঙ্গেল পয়েন্ট মুরিংয়ের (এসপিএম) পাইপলাইনে জমে থাকা পাঁচ হাজার টন এবং অপরিশোধিত তেলের চারটি ট্যাংকের ডেড স্টক (মজুত ট্যাংকের তলানিতে জমে থাকা অপরিশোধিত তেল) তুলেও পরিশোধন কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়েছিল।
ইআরএল সাধারণত দৈনিক গড়ে চার হাজার ৫০০ টন ক্রুড তেল পরিশোধন করে থাকে। তবে ক্রুড সংকটের কারণে গত মাস থেকেই পরিশোধন কমিয়ে দৈনিক তিন হাজার ৫০০ টন করা হয়েছিল। গত ৪ মার্চ পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানটির কাছে ব্যবহারযোগ্য তেলের মজুত দুই হাজার টনের নিচে নেমে আসে।
নাম না প্রকাশের শর্তে ইআরএলের এক কর্মকর্তা বলেন, পাঁচটি ট্যাংকের তলানিতে প্রায় ৩৩ হাজার টন ক্রুড তেল ডেড স্টক ছিল। আর এসপিএম থেকে পাঁচ হাজার টন আনা আরেকটি চালানও বাতিল করা হয়েছে। ফলে ৫৪ দিনে দেশে কোনো ক্রুড তেলের চালান আসেনি। ফলে ক্রুড সংকটে পড়েছে ইআরএল।
কর্মকর্তারা বলছেন, ইন্টার্ন রিফাইনারির কার্যক্রম বন্ধ হলেও বর্তমানে দেশে তাৎক্ষণিকভাবে জ্বালানি সংকটের আশঙ্কা নেই। কারণ যুদ্ধ শুরুর পর থেকে বেশি দামে কিনেও পরিশোধিত জ্বালানি তেলের জোগান নিশ্চিত করেছে সরকার।