এসওএস শিশু পল্লী নিয়ে জাইমা রহমানের আবেগঘন বার্তা

ঢাকার বুকে যেন এক টুকরো মানবিকতার স্বর্গোদ্যান! যেখানে রক্তের বন্ধন ছাপিয়ে ভালোবাসা আর সহমর্মিতায় গড়ে উঠেছে এক একটি পূর্ণ পৃথিবী। এমনই এক মানবিক ও নিরাপদ আশ্রয় ‘এসওএস চিলড্রেন্স ভিলেজ বাংলাদেশ’ পরিদর্শন করে নিজের গভীর আবেগ ও মুগ্ধতার কথা প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কন্যা ব্যারিস্টার জাইমা রহমান।

সোমবার নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডি থেকে দেওয়া এক পোস্টে তিনি শিশুদের আন্তরিকতা, মায়াবী পরিবেশ এবং জীবন জয়ের গল্পে নিজের আপ্লুত হওয়ার অনুভূতি সবার সাথে ভাগ করে নেন।

Jaima Rahman 3
পরিদর্শনের সেই সুন্দর মুহূর্তটির স্মৃতিচারণ করে ব্যারিস্টার জাইমা রহমান লেখেন, পড়ন্ত বিকালে ঢাকার ‘এসওএস চিলড্রেন্স ভিলেজে’ পৌঁছাতেই ছোট ছোট একঝাঁক নিষ্পাপ শিশু হাসিমাখা মুখে আমাদের ফুলেল শুভেচ্ছা ও স্বাগত জানালো। ওদের কারও মুখে লাজুক হাসি, কারও চোখে কৌতূহল কিংবা দুষ্টুমির আভাস। ওদের প্রতিটি কথায়-গানে, আবৃত্তিতে, নৃত্যে- নিষ্পাপ কোমল প্রাণ-চাঞ্চল্য, স্বতঃস্ফূর্ততা ও উচ্ছ্বাস প্রতিটি মুহূর্তে যেন হৃদয় ছুঁয়ে যাচ্ছিলো।

পোস্টে তিনি এই আন্তর্জাতিক মানবিক সংগঠনের দীর্ঘ পথচলা এবং অবদানের কথা তুলে ধরেন। তিনি উল্লেখ করেন, বিশ্বের ১৩০টিরও বেশি দেশে বিস্তৃত একটি আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্কের অংশ হিসেবে ১৯৭২ সাল থেকে ‘এসওএস চিলড্রেন্স ভিলেজ বাংলাদেশ’ এতিম ও অসহায় শিশুদের জন্য পারিবারিক আদরের ছায়া রচনা করে চলেছে। শিক্ষা, বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণ ও নানামুখী সহায়তা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে একটি আত্মনির্ভরশীল সমাজ গড়ে তুলতে কাজ করছে। ৬টি গ্রামকে ঘিরে বাংলাদেশে ৫৫ বছরের এই নিরন্তর যাত্রায় সংগঠনটি ১ লাখ ২৩ হাজারেরও বেশি জীবনে জ্বালিয়েছে আলোর প্রদীপ।

Jaima Rahman 2
কোলাহলময় ঢাকার বুকে এতিম ও অসহায় শিশুদের জন্য এমন শান্ত, নিরাপদ এক আশ্রয়ের দেখা পেয়ে নিজের মন অজান্তেই আবেগে ভরে উঠেছে বলে জানান জাইমা রহমান। সেখানে তিনি সাক্ষাৎ পেয়েছেন অসাধারণ সব শিশুর, চিনেছেন তাদের আগলে রাখা পালক মায়েদের এবং জেনেছেন এসওএসের সাফল্যের জীবন্ত কিছু গল্প।

গভীর মানবিক বোধ থেকে তিনি লেখেন, যে শিশুরা একদিন নিজের পরিবার হারিয়ে পথে দাঁড়িয়েছিল, তারা এখানে পেয়েছে একটি পূর্ণ পৃথিবী। যে পৃথিবী তাদের ভালোবাসে, আগলে রাখে, পথ দেখায় এবং ভবিষ্যৎ গড়তে সাহায্য করে। মানুষের সঙ্গে মানুষের আসল বন্ধন শুধুমাত্র রক্তের বন্ধনেই সীমাবদ্ধ থাকে না, বরং ভালোবাসায়, শ্রদ্ধায়, পরস্পরের প্রতি সহমর্মিতায়ও জন্ম নেয় গভীর আত্মীয়তা। এই বন্ধনের কোনও বিনিময় হয় না, তবুও সৃষ্টি হয় মানবিক সার্থকতা ও ঐশ্বরিক তৃপ্তি।

Jaima Rahman 1
অনুষ্ঠানের আয়োজকদের প্রতি বিশেষ কৃতজ্ঞতা জানিয়ে ব্যারিস্টার জাইমা রহমান এসওএস চিলড্রেন্স ভিলেজের ৫৫ বছরের এই পথচলাকে আমাদের প্রিয় মাতৃভূমি বাংলাদেশের জন্য সত্যিই অসাধারণ এবং অনুকরণীয় বলে অভিহিত করেন। শিশুদের সাথে কাটানো সেই মায়াবী মুহূর্তগুলো তাঁর হৃদয়ে আজীবন স্পন্দন হয়ে থাকবে জানিয়ে তিনি অত্যন্ত আবেগঘনভাবে তাঁর লেখনী শেষ করেন, তাই আজকের বিকালটা নিয়ে গেলাম মনের ভেতরে, অনেকটা সেই ছোট্ট হাতের ফুলগুলোর মতোই।