রাজধানীর বিয়াম ল্যাবরেটরি স্কুলের শিক্ষার্থীদের জন্য শনিবার সকালটি ছিল যেনো স্বপ্নের মতো। বিয়াম ফাউন্ডেশনের নতুন প্রশিক্ষণ কেন্দ্র ও অডিটোরিয়াম ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করতে এসে, সেখানকার স্কুলটিতে এক অভাবনীয় ও প্রাণবন্ত সময় কাটালেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। প্রটোকল বা ধরাবাঁধা নিয়ম পেরিয়ে শিশুদের সঙ্গে তাঁর এই নিবিড় সান্নিধ্য উপস্থিত সবাইকে দারুণভাবে আপ্লুত করে।

প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন জানান, প্রধানমন্ত্রী যখন অনুষ্ঠানস্থলে প্রবেশ করছিলেন, তখনই বিয়াম ল্যাবরেটরি স্কুলের শিক্ষার্থীরা তাদের শ্রেণিকক্ষের জানালা দিয়ে হাত নেড়ে তাঁকে অভিবাদন জানায়। বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীর নজরে এলে তিনি সহাস্যে হাত নেড়ে সাড়া দেন। মূল অনুষ্ঠান শেষ করে ফেরার পথে তিনি সরাসরি চলে যান স্কুলটিতে। সেখানে তিনটি শ্রেণিকক্ষ ঘুরে দেখেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী প্রথমে দ্বিতীয় শ্রেণির একটি কক্ষে প্রবেশ করেন। দেশের সরকারপ্রধানকে নিজেদের মাঝে পেয়ে শিশুরা উচ্ছ্বাসে ফেটে পড়ে। প্রধানমন্ত্রীও শিশুদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন এবং তাদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন। এ সময় শিক্ষার্থীরা তাদের নিজেদের আঁকা ছবিগুলো প্রধানমন্ত্রীর সামনে তুলে ধরে। প্রধানমন্ত্রী গভীর আগ্রহ নিয়ে সেগুলো দেখেন এবং তাদের সঙ্গে খুনসুটিতে মেতে ওঠেন।

স্কুলে অবস্থানকালে প্রধানমন্ত্রী শিশুদের সঙ্গে প্রায় ১৫ মিনিট সময় কাটান। অনেক শিক্ষার্থী তাঁর কাছ থেকে অটোগ্রাফ নেয়, আবার কেউ কেউ পরম মমতায় তাঁর সঙ্গে হাত মেলায়। আলাপচারিতার এক পর্যায়ে শিশুরা বড় হয়ে কে কী হতে চায়, সেই স্বপ্নের কথা প্রধানমন্ত্রীর কাছে ব্যক্ত করে। শিক্ষার্থীদের এমন বাঁধভাঙা আনন্দ আর প্রধানমন্ত্রীর স্নেহময় উপস্থিতি দেখে উপস্থিত শিক্ষকরাও আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন। পরে প্রধানমন্ত্রী স্কুলের শিক্ষকদের সঙ্গেও কথা বলেন এবং তাদের খোঁজখবর নেন।

এর আগে সকালে বিয়াম ফাউন্ডেশন মিলনায়তনে ফাউন্ডেশনের আধুনিক প্রশিক্ষণ কেন্দ্র কাম ডরমেটরি ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন প্রধানমন্ত্রী। মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনির সভাপতিত্বে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ইসমাইল জবিহউল্লাহ, মুখ্য সচিব এ বি এম আবদুস সাত্তার এবং বিয়ামের মহাপরিচালক আব্দুল মালেক।
রাষ্ট্রীয় ব্যস্ততার মাঝেও শিশুদের জন্য প্রধানমন্ত্রীর এই সময় দেওয়া এবং তাদের অনুপ্রাণিত করাকে বিয়াম পরিবারের সদস্য ও সচেতন নাগরিক সমাজ এক অনন্য দৃষ্টান্ত হিসেবে দেখছেন।
