শিশু রামিসাকে ধর্ষণ ও হত্যার বিচারে আত্মপক্ষ সমর্থনের দিনে কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে দ্বিমুখী বক্তব্য দিয়েছেন মূল অভিযুক্ত সোহেল রানা। তিনি প্রথমে নিজেকে নির্দোষ দাবি করলেও পরে দোষ স্বীকার করে ক্ষমা চান। একইসঙ্গে ডলার নামে আরেকজন এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত বলে তথ্য দেন।
এদিকে স্ত্রী স্বপ্নাকে নির্দোষ বলে দাবি করেছেন সোহেল। আত্মপক্ষ সমর্থনে স্বপ্না জানান, তিনি কোনো অপরাধ করেননি।
আজ দুই আসামির বক্তব্য রেকর্ড শেষে এ মামলায় যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের জন্য আগামীকাল বৃহস্পতিবার (৪ জুন) দিন ধার্য করেছে আদালত।
এর আগে কড়া পুলিশ পাহারায় বুধবার (৩ জুন) সকালে ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালে বিচারক মাসরুর সালেকীনের আদালতে আনা করা হয় দুই আসামিকে। আজ ছিলো তাদের আত্মপক্ষ সমর্থনের দিন।
এদিন সকাল ১১টার পর শুরু হয় শুনানি। এসময়, আসামিদের উপস্থিতিতে তাদের বিরুদ্ধে সাক্ষীদের বক্তব্য ও অভিযোগ পড়ে শোনান বিচারক।
পরে, সেই অভিযোগ এবং সাক্ষীদের বক্তব্য প্রসঙ্গে আসামিদের বক্তব্য জানতে চায় ট্রাইব্যুনাল।
এসময়, দ্বিমুখী বক্তব্য দেন ধর্ষণ ও হত্যায় অভিযুক্ত সোহেল। শুরুতে তিনি নিজেকে নির্দোষ দাবি করেন। পরে আবার বলেন, তিনি একাই দোষী নন। তার সাথে ছিলো ডলার নামে আরেকজন।
পাশাপাশি আদালতে নিজের অপরাধের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করেন সোহেল। আর নিজের স্ত্রীকে নির্দোষ বলে দাবি করেন। এরপর, তার স্ত্রী স্বপ্নার বক্তব্যও জানতে চায় ট্রাইব্যুনাল।
ট্রাইব্যুনাল জানায়, নৃশংস এ ঘটনায় সহায়তাকারী হিসেবে সোহেল যে সাজা পাবে, একই সাজা হবে তার স্ত্রীরও।
যদিও স্বপ্নর দাবি, তিনি কিছুই করেননি। তিনি সম্পূর্ণ নির্দোষ।
এর আগে এ মামলায় একদিনে ১৬ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণের মধ্যদিয়ে বিচারবিভাগে নজির স্থাপন করে আদালত।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এটিই হতে পারে দেশের বিচার বিভাগের ইতিহাসে সবচেয়ে দ্রুততম মামলার রায়।
মামলার সূত্রে জানা যায়, রামিসা পপুলার মডেল হাই স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী ছিল। গত ১৯ মে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে ঘর থেকে বের হলে স্বপ্না তাকে কৌশলে রুমের ভেতরে নেয়। ওইদিন সকাল সাড়ে ১০টার দিকে রামিসাকে স্কুলে যাওয়ার জন্য খোঁজাখুঁজি করতে থাকেন তার মা।
এক পর্যায়ে আসামির ঘরের সামনে শিশুটির একটি স্যান্ডেল পড়ে থাকতে দেখেন তিনি। ডাকাডাকির পর কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে রামিসার বাবা-মা এবং অন্যান্য ফ্ল্যাটের লোকজন দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন। দেখতে পান সোহেল রানার শোবার ঘরের মেঝেতে রামিসার মস্তকবিহীন মরদেহ এবং মাথা বাথরুমের ভেতরে একটি বড় বালতির মধ্যে পড়ে রয়েছে।
পরে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ এর মাধ্যমে কল পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে মরদেহ উদ্ধারের পর স্বপ্নাকে হেফাজতে নেয়। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থানার সামনে থেকে সোহেল রানাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
এ ঘটনায় রামিসার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা বাদী হয়ে রাজধানীর পল্লবী থানায় একটি মামলা করেন।