অবৈধভাবে পুশইনের চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ায় সীমান্তের শূন্যরেখায় আটকে থাকা ২১ জনকে ফেরত নিয়েছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)।
সোমবার (৮ জুন) মধ্যরাতে ঠাকুরগাঁও সীমান্তে অবস্থান করা ১১ জন এবং পঞ্চগড় সীমান্তের শূন্যরেখায় আটকে থাকা আরও ১০ জনকে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ নিজেদের ভূখণ্ডে ফিরিয়ে নেয়।
এর আগে, গত ৫ জুন রাতে ঠাকুরগাঁওয়ের হরিপুর সীমান্ত দিয়ে ১১ জনকে বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করে বিএসএফ। খবর পেয়ে বিজিবির একটি টহল দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাদের পরিচয় যাচাই করে এবং বাংলাদেশে প্রবেশে বাধা দেয়। এরপর থেকে তারা শূন্যরেখায় অবস্থান করছিলেন।
রোববার থেকে সোমবার রাত পর্যন্ত ঠাকুরগাঁওয়ের মশালগাও সীমান্তে বিজিবি ও বিএসএফের মধ্যে দুই দফা পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। পরে সীমান্তে থাকা ওই ১১ জনকে বাধ্য হয়ে ফেরত নেয় বিএসএফ।
একইভাবে পঞ্চগড় সীমান্ত দিয়েও আরও ১০ জনকে বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়। পুশইনের উদ্দেশ্যে পঞ্চগড়ের হাড়িভাসা ইউনিয়নের বড়বাড়ি প্রধানপাড়া সীমান্তে এনে রাখা হলে টানা তিনদিন ধরে শূন্যরেখায় মানবেতর দিন কাটাচ্ছিলেন তারা।
তবে বিজিবির কঠোর অবস্থানের কারণে তারাও বাংলাদেশে প্রবেশ করতে পারেননি। পরে বিএসএফ তাদেরও ফিরিয়ে নেয়।
এর ফলে দেশের কোনো সীমান্তেই বর্তমানে পুশইনের ঘটনায় শূন্যরেখায় আটকে থাকা কেউ নেই।
বিজিবি বলছে, আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ফেরত না দিলে জোরপূর্বক ঠেলে দেয়া কোনো ব্যক্তিকে বিজিবি গ্রহণ করবে না।
এদিকে, আজ (৯ জুন) ভারতের নয়াদিল্লিতে বিজিবি-বিএসএফ মহাপরিচালক পর্যায়ের সম্মেলন শুরু হয়েছে। আগামী ১১ জুন পর্যন্ত চলা এ বৈঠকে সীমান্তে পুশইনের সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো আলোচনায় আসতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।