কিম জং উনকে কতটা বাগে আনতে পারবেন শি জিনপিং?

আপডেট : ০৮ জুন ২০২৬, ০৯:৩০ এএম

ভূ-রাজনীতির এক টানটান উত্তেজনার মধ্যে দীর্ঘ সাত বছর পর সোমবার উত্তর কোরিয়া সফরে যাচ্ছেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। তবে ২০১৯ সালে তাঁর শেষ সফরের তুলনায় এবারের পিয়ংইয়ংয়ের চিত্রটা সম্পূর্ণ ভিন্ন। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে আলোচনার সমস্ত দরজা বন্ধ করে দিয়ে উত্তর কোরিয়ার শীর্ষ নেতা কিম জং উন এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি শক্তিশালী ও আত্মবিশ্বাসী অবস্থানে রয়েছেন।

ইউক্রেন যুদ্ধে রাশিয়ার পক্ষে সেনা পাঠিয়ে মস্কোর সাথে গড়ে তোলা ইস্পাতকঠিন সামরিক বন্ধুত্ব এবং নিজস্ব পারমাণবিক শক্তির অভাবনীয় বিস্তার, কিমকে বৈশ্বিক রাজনীতিতে এক নতুন চালকের আসনে বসিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের দুই দিনের এই রাষ্ট্রীয় সফরকে দেখা হচ্ছে পিয়ংইয়ংয়ের ওপর বেইজিংয়ের হারানো প্রভাব পুনঃপ্রতিষ্ঠা বা নিজেদের কক্ষপথে ফিরিয়ে আনার এক বড় চেষ্টা হিসেবে।

সবশেষ ২০১৯ সালে যখন শি জিনপিং উত্তর কোরিয়া সফরে গিয়েছিলেন, তার ঠিক কয়েক মাস আগেই তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাথে কিম জং উনের পরমাণু নিরস্ত্রীকরণ ও নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের ঐতিহাসিক আলোচনা ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়েছিল। তখন উত্তর কোরিয়া ছিল অনেকটাই কোণঠাসা। কিন্তু গত কয়েক বছরে পাশার দান সম্পূর্ণ উল্টে গেছে।


আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা ও চোখ রাঙানিকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে কিম যেমন পারমাণবিক অস্ত্রভাণ্ডার বাড়িয়েছেন, তেমনি সীমান্তে কঠোর লকডাউন জারি করে দলত্যাগীদের পালানোর পথও বন্ধ করেছেন। শি জিনপিংয়ের পা রাখার ঠিক আগমুহূর্তে গত শনিবার উত্তর কোরিয়া ১০ হাজার টনের একটি বিশাল নৌ-বিধ্বংসী যুদ্ধজাহাজ তৈরির পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে এবং রোববার নিজেদের পরমাণু শক্তিধর রাষ্ট্র হিসেবে আবারও পুনর্ব্যক্ত করে শক্তির জানান দিয়েছে।

কনসালটেন্সি ফার্ম ‘কন্ট্রোল রিস্কস’-এর বিশ্লেষক অ্যান্ড্রু গিলহোম এই সফরকে কিমের রাজনৈতিক ‘কামব্যাক’ বা দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তনের এক মহাসম্মিলন হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন।ৱ

রাশিয়ার সমর্থন এবং চীনের সাথে অর্থনৈতিক দরকষাকষি: অতীতে উত্তর কোরিয়া এককভাবে চীনের ওপর অতিরিক্ত অর্থনৈতিক নির্ভরশীলতা নিয়ে বেশ সতর্ক ছিল, কারণ দুই দেশের মধ্যে রয়েছে ১ হাজার ৪০০ কিলোমিটারের দীর্ঘ সীমান্ত। তবে বর্তমানে রাশিয়ার কাছ থেকে সামরিক সহযোগিতার বিনিময়ে বিপুল অর্থনৈতিক ও প্রযুক্তিগত সুবিধা পাওয়ায় কিমের সেই চিন্তা অনেকটাই কেটে গেছে।

এশিয়া সোসাইটির সিনিয়র ফেলো জন ডেলুরি বলেন, রাশিয়াকে সামরিক সরঞ্জাম সরবরাহ করে উত্তর কোরিয়া যে অর্থনৈতিক সুবিধা পাচ্ছে, তা তাদের আত্মবিশ্বাস বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। এই আত্মবিশ্বাসের ওপর দাঁড়িয়েই তারা এবার চীনের সাথে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়ানোর জন্য আরও দৃঢ়ভাবে দরকষাকষি করতে পারবে।


আঞ্চলিক কূটনীতিকদের মতে, এবারের শীর্ষ সম্মেলনের মূল ফোকাস থাকবে অর্থনৈতিক সহযোগিতা। উত্তর কোরিয়া বর্তমানে একটি পঞ্চবার্ষিকী উন্নয়ন পরিকল্পনা শুরু করেছে, যার মূল লক্ষ্য পর্যটন শিল্পকে শক্তিশালী করা এবং দেশজুড়ে ব্যাপক আবাসন তৈরি করা। ২০২০ সালের শুরুতে করোনার কঠোর বিধিনিষেধের কারণে উত্তর কোরিয়া তাদের সীমান্ত পর্যটকদের জন্য সম্পূর্ণ বন্ধ করে দিয়েছিল, যার ফলে তাদের বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের একটি বড় উৎস বন্ধ হয়ে যায়।

মহামারির আগে উত্তর কোরিয়ার পর্যটন খাতের ৯০ শতাংশই ছিল চীনা পর্যটক। করোনাকালের পর প্রথম বিদেশী পর্যটক হিসেবে ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে রাশিয়ার মাত্র ১০০ জন পর্যটককে দেশটিতে ঢোকার অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। এবার চীনের সাথে বিমান ও রেল যোগাযোগ পুনরায় চালু হওয়ায় উত্তর কোরিয়ার পর্যটন খাত আবার চাঙ্গা হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

কিমের ‘রেড লাইন’ এবং দক্ষিণ কোরিয়ার আর্জি: চীনের সাথে সুসম্পর্ক গড়লেও নিজের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে অত্যন্ত স্পষ্ট ‘রেড লাইন’ বা সীমানা টেনে রেখেছেন কিম জং উন। গত বৃহস্পতিবারই তিনি দেশের পারমাণবিক অস্ত্রাগারের ঘাটতিহীন ও জ্যামিতিক সম্প্রসারণের নির্দেশ দিয়েছেন।

সিউলের ইউনিভার্সিটি অব নর্থ কোরিয়ান স্টাডিজের প্রেসিডেন্ট ইয়াং মু-জিন মনে করেন, কিম তাঁর পারমাণবিক প্রতিবন্ধকতার বৈধতা প্রমাণ করতে ফিসাইল মেটেরিয়াল (পারমাণবিক জ্বালানি) উৎপাদন এবং পরমাণু অস্ত্র মোতায়েন আরও বাড়াবেন।


নেদারল্যান্ডসের লাইডেন ইউনিভার্সিটির কোরিয়া বিশেষজ্ঞ ক্রিস্টোফার গ্রিন বলেন, কিম এখন চরম সাহসী। তিনি জানেন, যতক্ষণ না তিনি এই অঞ্চলে সরাসরি কোনো বড় যুদ্ধ বা অস্থিরতা তৈরি করছেন, ততক্ষণ বেইজিং তাঁর এই পরমাণু বিস্তার ঠেকাতে কোনো কঠোর পদক্ষেপ নেবে না।

এদিকে, ১৯৫০-৫৩ সালের কোরিয়ান যুদ্ধের পর থেকে বিভক্ত দুই কোরিয়ার পুনরেকত্রীকরণের দীর্ঘদিনের লক্ষ্যকে উত্তর কোরিয়া সম্প্রতি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে। ওয়াশিংটন বা সিউলের সাথে আলোচনার ব্যাপারেও কিমের কোনো আগ্রহ নেই। তবে দক্ষিণ কোরিয়ার বর্তমান প্রেসিডেন্ট লি জে মায়ুং এখনও আলোচনার মাধ্যমে সম্পর্ক উন্নয়নের ব্যাপারে আশাবাদী।

সিউলের ইয়নসেই ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক এবং সাবেক জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা মুন চুং-ইন বলেন, প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের মধ্যস্থতায় দুই কোরিয়ার মধ্যকার বরফ গলবে এবং চীন এই সংকট সমাধানে একটি বড় অনুঘটকের ভূমিকা পালন করবে, এমনটাই আমরা আশা করছি। তবে, রাশিয়া আর পরমাণুর ডানা ভর করে কিম যেভাবে উড়ছেন, তাতে শি জিনপিংয়ের পক্ষে কিমকে কতটা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।

এআরএস
বিশ্বরাজনীতির সh নিয়মনীতি ও নিষেধাজ্ঞা বুড়ো আঙুল দেখিয়ে আবারও পরমাণু অস্ত্রের হুঙ্কার দিলেন উত্তর কোরিয়ার শীর্ষনেতা কিম জং উন। বৃহস্পতিবার উত্তর কোরিয়া সম্পূর্ণ নতুন একটি ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ...
বেইজিংয়ের তিয়ানআনমেন স্কয়ারে গণতন্ত্রকামী আন্দোলনকারীদের ওপর রক্তক্ষয়ী সামরিক অভিযানের ৩৭ বছর পূর্ণ হলো বৃহস্পতিবার। এই বিশেষ দিনে চীনের রাজনৈতিক ব্যবস্থা নিয়ে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো...
একদিকে চীনের দ্রুত সামরিক উত্থান, অন্যদিকে এই অঞ্চলে দীর্ঘদিনের আধিপত্য ধরে রাখা যুক্তরাষ্ট্রের মনোযোগ নিয়ে তৈরি হওয়া ক্রমবর্ধমান সংশয়, এই দুইয়ের মাঝে পড়ে ভারত-মহাসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলো এখন...
চীনের উত্তরাঞ্চলীয় শানসি প্রদেশের একটি কয়লা খনিতে ভয়াবহ গ্যাস বিস্ফোরণে অন্তত ৯০ জন শ্রমিকের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের বরাত দিয়ে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। শানসি...
সাভারের আমিনবাজার ও আশুলিয়া রাজস্ব সার্কেল কার্যালয় আকস্মিক পরিদর্শন করেছেন ভূমি প্রতিমন্ত্রী মীর হেলাল। কোনো সরকারি পতাকা, পুলিশ প্রটোকল কিংবা সরকারি দেহরক্ষী ছাড়াই ব্যক্তিগত গাড়িতে তিনি এই...
ফিলিপাইনের দক্ষিণাঞ্চলে ৭ দশমিক ৮ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। এতে অন্তত পাঁচজন নিহত এবং বহু মানুষ আহত হয়েছেন।
ইরানের হামলার পর এবার দেশটিতে পালটা হামলা চালিয়েছে দখলদার ইসরাইল। আজ ভোরে ইরানের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ শহরে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। তবে এখন পর্যন্ত হতাহতের কোনো খবর পাওয়া যায়নি।
লেবাননে দখলদার বাহিনীর অব্যাহত সন্ত্রাসী হামলার জবাবে রোববার (৭ জুন) রাতে ইসরাইলে প্রতিশোধমূলক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী।
লোডিং...
সর্বশেষপঠিত

এলাকার খবর