চীনের ইউনান প্রদেশের গভর্নর ওয়াং ইউবো'র আমন্ত্রণে জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের নেতৃত্বে চার সদস্যের একটি সংসদীয় প্রতিনিধিদল চারদিনের সফরে চীন যাচ্ছে।
বুধবার (১০ জুন) প্রতিনিধিদলটি চীনের কুনমিংয়ের উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করবে। ১০ থেকে ১৩ জুন কুনমিংয়ে অবস্থানকালে প্রতিনিধিদলটি বিভিন্ন দ্বিপাক্ষিক বৈঠক, চায়না-সাউথ এশিয়া কোঅপারেশন ফোরাম এবং চায়না-সাউথ এশিয়া এক্সপোর বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নেবে।
প্রতিনিধিদলের অন্যান্য সদস্য হলেন— জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-এর সদস্য সচিব ও সংসদ সদস্য আখতার হোসেন, বিএনপির সংসদ সদস্য মো. খালেদ হোসাইন মাহবুব এবং সংরক্ষিত নারী আসনের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য সুলতানা জেসমিন।
সফরকালে ১১ জুন প্রতিনিধিদলের নেতা ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল ৭ম চায়না-সাউথ এশিয়া কোঅপারেশন ফোরামে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য প্রদান করবেন।
একই দিনে ডেপুটি স্পিকার চীনা কমিউনিস্ট পার্টির ইউনান প্রাদেশিক কমিটির সেক্রেটারি ওয়াং নিং-এর সঙ্গে একান্ত বৈঠকে মিলিত হবেন। বৈঠকে বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যকার পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হবে।
পাশাপাশি প্রতিনিধিদলটি ১০ম চায়না-সাউথ এশিয়া এক্সপোর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বাংলাদেশ থিম কান্ট্রি প্যাভিলিয়নসমূহ পরিদর্শন করবে।
এরপর ১২ জুন ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল ইউনান প্রদেশের গভর্নর ওয়াং ইউবো'র সঙ্গে বাংলাদেশে বিনিয়োগ বৃদ্ধি, আমদানি সহজীকরণ, বাণিজ্য সম্প্রসারণসহ বিভিন্ন দ্বিপাক্ষিক বিষয়ে মতবিনিময় করবেন।
সেই সঙ্গে প্রতিনিধিদলটি কুনমিং মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত দ্বিতীয় হাসপাতাল পরিদর্শন করবে এবং দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় চিকিৎসা শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা সহযোগিতা, জন্মগত হৃদরোগ চিকিৎসা কর্মসূচি এবং চীন-বাংলাদেশ যৌথ চিকিৎসা উদ্যোগ বিষয়ক থিমভিত্তিক একটি শেয়ারিং সেশনে অংশগ্রহণ করবে। অনুষ্ঠানে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে মতবিনিময় শেষে ডেপুটি স্পিকার সমাপনী বক্তব্য প্রদান করবেন।
এছাড়া সফরের শেষ দিনে প্রতিনিধিদলটি ফিউচার ট্রান্সপোর্টেশন ইনোভেশন রিসার্চ সেন্টার পরিদর্শন করবে।
উল্লেখ্য, চায়না-সাউথ এশিয়া কোঅপারেশন ফোরাম (সিএসএসিএফ) চীন ও দক্ষিণ এশিয়ার দেশসমূহের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক জোরদার, পারস্পরিক সহযোগিতা এবং বাণিজ্য সম্প্রসারণের একটি গুরুত্বপূর্ণ বহুপাক্ষিক প্ল্যাটফর্ম। এছাড়াও আঞ্চলিক সংযোগ বৃদ্ধি, টেকসই উন্নয়ন, দারিদ্র্য বিমোচন, বাণিজ্য উদারীকরণ এবং জনগণের মধ্যে যোগাযোগ সম্প্রসারণ ফোরামটির অন্যতম প্রধান উদ্দেশ্য।