তথ্যপ্রযুক্তির অবাধ বিকাশ এবং ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতির পরিবর্তনের ফলে তৈরি হওয়া বহুমাত্রিক নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্স বা এসএসএফ-কে সাহস, কৌশল ও সর্বাধুনিক প্রযুক্তিতে সব সময় এগিয়ে থাকার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এসএসএফ-এর ৪০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষ্যে আয়োজিত এক জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই নির্দেশনা দেন। একই সাথে একটি বিশেষায়িত ও আধুনিক বাহিনী হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময় যেন সাধারণ জনগণ কোনোভাবেই দুর্ব্যবহারের শিকার না হয়, সেদিকেও এই বাহিনীকে বিশেষভাবে সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়েছেন সরকারপ্রধান।
অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তরুণ বয়স থেকেই এসএসএফের কার্যক্রমের সাথে নিজের ব্যক্তিগত পরিচিতির স্মৃতিচারণ করেন। তিনি বলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া যখন সরকারপ্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন, তখন থেকেই অর্থাৎ আমার তরুণ বেলা থেকেই আমি এসএসএফের কার্যক্রমের সঙ্গে পরিচিত। আর বর্তমানে সরকারপ্রধান হিসেবে প্রতিদিন এই বাহিনীর পেশাদারিত্ব সরাসরি প্রত্যক্ষ করছি। এ সময় বেগম খালেদা জিয়ার ইন্তেকালের পর বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তম নামাজে জানাজা আয়োজনের ক্ষেত্রে প্রধান সমন্বয়ক হিসেবে এসএসএফের গুরুত্বপূর্ণ ও দায়িত্বশীল ভূমিকার কথা উল্লেখ করে নিজের এবং পরিবারের পক্ষ থেকে বাহিনীকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান তিনি।
রাষ্ট্র পরিচালনায় জনগণের বিশ্বাস ও ভালোবাসাকেই নিজের সবচেয়ে বড় শক্তি উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী এসএসএফ-এর উদ্দেশ্যে এক বিশেষ দৃষ্টিভঙ্গি প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, নিরাপত্তার ঘেরাটোপ যাতে সরকার প্রধানকে জনগণ থেকে দূরে ঠেলে না দেয়, একটি সফিসটিকেটেড বাহিনী হিসেবে সেদিকে আপনাদের বিশেষভাবে লক্ষ্য রাখতে হবে।
গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত জাতীয় নির্বাচনে বিএনপির ম্যান্ডেট পাওয়ার পর ১৭ ফেব্রুয়ারি বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকার দায়িত্ব গ্রহণ করেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, জনগণের দুর্ভোগ লাঘব করতে এবং সড়কে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক রাখতে তিনি নিজের গাড়িবহরের আকার সীমিত করেছেন। ফলে সদস্য সংখ্যা বাড়ানোর চেয়ে এসএসএফ-কে এখন আধুনিক কৌশল ও দক্ষতার ওপর বেশি জোর দিতে হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, একটি গণতান্ত্রিক সরকারের প্রধান হিসেবে ঢাকা ও ঢাকার বাইরে বিভিন্ন জনসভায় বিপুল জনসমাগমের মধ্যে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা বেশ জটিল। একদিকে সরকারপ্রধানের নিরাপত্তা বজায় রাখা, অন্যদিকে নাগরিক জীবনের স্বাচ্ছন্দ্য নিশ্চিত করা—এই দুইয়ের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করেই এসএসএফ-কে নিরাপত্তা কৌশল প্রণয়ন করতে হয়। এই সমন্বয়ের মাধ্যমেই বাহিনীর কর্মদক্ষতা ফুটে ওঠে।
অনুষ্ঠানের শুরুতে প্রধানমন্ত্রী এসএসএফ’র নবনির্মিত অত্যাধুনিক ফায়ারিং রেঞ্জ উদ্বোধন করেন এবং বাহিনীর সদস্যদের একটি চৌকস মহড়া প্রত্যক্ষ করেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এই ফায়ারিং রেঞ্জ সদস্যদের পেশাগত দক্ষতা বাড়াতে বিশেষ ভূমিকা রাখবে। পাশাপাশি, ২০০২ সালের পর এসএসএফের ‘রেড বুক’ সময়ের চাহিদানুযায়ী পরিমার্জন ও আধুনিকায়ন করার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই নীতিমালার নির্দেশনাসমূহ কঠোরভাবে অনুসরণের পাশাপাশি পরিস্থিতি বিবেচনায় তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত নেওয়ারও সুযোগ রয়েছে।
সর্বোপরি, দেশের জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে অন্য সকল আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, গোয়েন্দা সংস্থা ও মন্ত্রণালয়ের সাথে সুদৃঢ় সমন্বয়ের মাধ্যমে কাজ করার তাগিদ দেন প্রধানমন্ত্রী। প্রতিটি সদস্যকে সাহস, সততা, বিশ্বস্ততা, সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব, নিয়মানুবর্তিতা এবং চেইন অব কমান্ড কঠোরভাবে মেনে চলার নির্দেশ দিয়ে তিনি বলেন, গণতান্ত্রিক রীতিনীতির প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকে এবং দেশপ্রেমের আদর্শে উজ্জীবিত হয়ে এসএসএফ আগামী দিনেও তাদের গৌরবময় দায়িত্ব পালন অব্যাহত রাখবে।