তৃণমূলের শিশুদের সুপ্ত প্রতিভা ও মেধার বিকাশ ঘটিয়ে আগামীর দক্ষ বাংলাদেশ গড়ে তোলার লক্ষ্যে প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থায় এক অভূতপূর্ব ক্রীড়া বিপ্লব ঘটে গেছে। দেশজুড়ে ৬৫,৩৪২টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রায় ১১ লাখ ছাত্র ও ১১ লাখ ছাত্রী- অর্থাৎ মোট ২২ লাখ শিক্ষার্থীর স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘প্রাথমিক গোল্ড কাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট’।
সরকারের লক্ষ্য, আগামীতে এই সংখ্যাকে অন্ততপক্ষে ৫০ লাখে উন্নীত করা। আগামী ২০ জুন জাতীয় আর্মি স্টেডিয়ামে এই টুর্নামেন্টের বহুল প্রতীক্ষিত ফাইনাল ম্যাচ অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে, যেখানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে খুদে ফুটবলারদের উৎসাহিত করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
আজ বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে আয়োজিত এক জনাকীর্ণ সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা ও মুখপাত্র মাহদী আমিন সরকারের এই বৃহৎ পরিকল্পনার কথা জানান।
তিনি বলেন, গত ৬ এপ্রিল থেকে শুরু হওয়া এই টুর্নামেন্ট গত আড়াই মাস ধরে দেশের গ্রামবাংলা থেকে শুরু করে পর্যায়ক্রমে ইউনিয়ন, উপজেলা, জেলা ও বিভাগীয় স্তর পেরিয়ে এখন ঢাকায় চূড়ান্ত পর্যায়ে এসে পৌঁছেছে। ক্রীড়ায় শিশুদের অংশগ্রহ আরও উৎসাহিত করতে এবং সমাজে অনুপ্রেরণা জোগাতে মিডিয়াকে আরও দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখার এবং বিশেষ ফিচার বা হাইলাইট প্রকাশের আহ্বান জানান তিনি।
মাহদী আমিন বলেন, প্রধানমন্ত্রীর দূরদর্শী ‘ভিশন’ অনুযায়ী সরকার শুধুমাত্র সার্টিফিকেট বা পুঁথিগত বিদ্যা-নির্ভর শিক্ষা ব্যবস্থা চায় না। বাস্তব জীবনের সাথে সম্পৃক্ত ও কর্মমুখী শিক্ষার মেলবন্ধন ঘটাতে আগামী শিক্ষাবর্ষ থেকেই চতুর্থ শ্রেণী (ক্লাস ফোর) থেকে দুটি সম্পূর্ণ নতুন বিষয় বাধ্যতামূলকভাবে অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে, একটি ক্রীড়া এবং অন্যটি সংস্কৃতি। শিক্ষা, সংস্কৃতি ও ক্রীড়ার এই ত্রিমুখী সমন্বয়ের মাধ্যমে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের মাঝে দলগত দক্ষতা, সুদৃঢ় শৃঙ্খলা এবং পারস্পরিক যোগাযোগ দক্ষতা গড়ে উঠবে।
একই ধারাবাহিকতায় আগামী শিক্ষাবর্ষে ষষ্ঠ শ্রেণী থেকে আরও দুটি নতুন বিষয় চালু করার ঘোষণা দেন উপদেষ্টা। এর একটি হলো ‘লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস’ বা আনন্দময় শিক্ষা ব্যবস্থা—যেখানে শিক্ষার্থীরা কোনো জোরজবরদস্তি ছাড়াই আনন্দমুখর পরিবেশে শিখবে। অন্যটি হলো কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা, যা পর্যায়ক্র মে প্রতিটি স্কুলে ল্যাব স্থাপনের মাধ্যমে অষ্টম শ্রেণী থেকে শতভাগ বাধ্যতামূলক ও প্রায়োগিক করা হবে।
শিক্ষা ক্ষেত্রে ইনোভেশন বা উদ্ভাবনী চিন্তার বিকাশ ঘটাতে ষষ্ঠ থেকে দ্বাদশ শ্রেণী পর্যন্ত ‘স্টার্ট-আপ সায়েন্স, প্রজেক্ট এবং ইনোভেশন আইডিয়া শোকেসিং’ প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়েছে, যেখানে ইতিমধ্যে ১২,০০০ টিমের ৩৬,০০০ শিক্ষার্থী ও ২৪,০০০ শিক্ষক অংশ নিয়েছেন।
এই প্রতিযোগিতার ফাইনাল আগামী ২৯ জুন বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত হবে এবং সেখানেও প্রধান অতিথি থাকবেন প্রধানমন্ত্রী। একই অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী ভার্চুয়ালি ও সরাসরি দেশের ২৯,৬৩১টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে একযোগে একটি বিশাল বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন।
উপদেষ্টা তাঁর বক্তব্যে উল্লেখ করেন, নির্বাচনী ইশতেহারে বর্ণিত ইতিবাচক জাতীয় কর্মসূচি যেমন, খাল খনন, গণশিক্ষা, বৃক্ষরোপণ ও সহশিক্ষা কার্যক্রমে শিক্ষার্থীদের নিবিড়ভাবে সম্পৃক্ত করা হবে। শহর ও গ্রামের শিক্ষার বৈষম্য দূর করে একটি সমতাভিত্তিক সমাজ গড়তে প্রতিটি স্কুল-কলেজে বিএনসিসি, রোভার স্কাউট ও গার্লস গাইডের ওপর বিশেষ জোর দেয়া হচ্ছে।
পাশাপাশি শিশুদের সুনাগরিক ও বলিষ্ঠ নৈতিক চরিত্রের অধিকারী হিসেবে গড়ে তুলতে বিতর্ক, বিজ্ঞান উৎসব এবং সাংস্কৃতিক প্রতিভা অন্বেষণের জন্য দেশব্যাপী ঐতিহ্যবাহী ‘নতুন কুঁড়ি’ প্রতিযোগিতা পুনরায় পুরোদমে শুরু করা হয়েছে এবং খুব শিগগিরই জাতীয় পর্যায়ে কোরআন তেলাওয়াত প্রতিযোগিতাও শুরু হবে বলে জানান মাহদী আমিন।