সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কামালকে ফেরত চেয়ে দিল্লিকে ঢাকার চিঠি

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকে ফেরত চেয়ে ভারতের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে অনুরোধ জানিয়েছে বাংলাদেশ সরকার।

সোমবার (২০ জুলাই) রাজধানীর বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ (বিআইআইএসএস) মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত ‘থ্রি ডিকেডস অব বিমসটেক: অ্যাডভান্সিং রিজিওনাল কো-অপারেশন ফর শেয়ার্ড প্রসপারিটি’ শীর্ষক সেমিনার শেষে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকে ফেরত চেয়ে আমরা ভারতের কাছে চিঠি পাঠিয়েছি। এছাড়া ভারতে পালিয়ে যাওয়া অন্যদের প্রত্যাবর্তনের জন্যও পৃথক পৃথক চিঠি পাঠানো হয়েছে।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী জানান, কামালকে ফেরত চেয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে ভারত সরকারের কাছে আনুষ্ঠানিক অনুরোধ পাঠানো হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, ওই অনুরোধপত্রের সঙ্গে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের (আইসিটি) রায়ের একটি অনুলিপিও ভারত সরকারের কাছে পাঠানো হয়েছে। ওই রায়ে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

এর আগে সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে শামা ওবায়েদ ইসলাম বিমসটেক এবং শান্তিপূর্ণ, সহনশীল ও সমৃদ্ধ বঙ্গোপসাগরীয় অঞ্চল গড়ে তুলতে বাংলাদেশের দৃঢ় অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।

তিনি অধিক বাস্তবায়ন, কার্যকর সহযোগিতা এবং প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো শক্তিশালী করার মাধ্যমে আঞ্চলিক প্রতিশ্রুতিকে বাস্তব কর্মসূচিতে রূপ দেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, বর্তমান বিমসটেক চেয়ার হিসেবে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক সংহতি, আঞ্চলিক সংযোগ, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, ব্লু ইকোনমি এবং জনগণকেন্দ্রিক আঞ্চলিক সহযোগিতা এগিয়ে নিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। একই সঙ্গে সংস্থার অভিন্ন লক্ষ্য অর্জনে সব সদস্য রাষ্ট্রের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করবে বাংলাদেশ। 

তিনি আশা প্রকাশ করেন, সেমিনার থেকে প্রাপ্ত সুপারিশগুলো বিমসটেকের চেয়ার হিসেবে বাংলাদেশের নেতৃত্বকে আরও শক্তিশালী করবে এবং সংস্থার ভবিষ্যৎ উন্নয়নে সহায়তা করবে।

সেমিনারে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত বিমসটেকের মহাসচিব রাষ্ট্রদূত ইন্দ্র মণি পাণ্ডে নারীর উন্নয়ন, জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে অভিযোজন, বিদ্যুৎ গ্রিড আন্তঃসংযোগ এবং জ্বালানি খাতে কারিগরি সক্ষমতা বৃদ্ধিসহ বিভিন্ন চলমান প্রকল্প ও উদ্যোগ তুলে ধরেন।

এছাড়া তিনি মাদক নিয়ন্ত্রণ, সাইবার, সামুদ্রিক ও মানব নিরাপত্তা, সন্ত্রাসবাদ ও আন্তঃদেশীয় অপরাধ দমন, পর্যটন, ভিসা সহজীকরণ এবং বাণিজ্য ও বিনিয়োগসংক্রান্ত বিমসটেক উদ্যোগ সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করেন।

বিআইআইএসএসের মহাপরিচালক মেজর জেনারেল এ এস এম রিদওয়ানুর রহমান স্বাগত বক্তব্য দেন। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বিআইআইএসএসের গবেষণা পরিচালক ড. মাহফুজ কবির।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক ড. রাশেদুজ্জামান এবং একই বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্টার অন বাজেট অ্যান্ড পলিসির পরিচালক অধ্যাপক ড. কাজী মারুফুল ইসলাম প্যানেল উপস্থাপনা করেন।

বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব পিস অ্যান্ড সিকিউরিটি স্টাডিজের (বিআইপিএসএস) সভাপতি মেজর জেনারেল এ এন এম মুনীরুজ্জামান (অব.) অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন।

মূল প্রবন্ধ ও প্যানেল আলোচনায় গত তিন দশকে বিমসটেকের বিকাশ এবং আঞ্চলিক সহযোগিতা জোরদারে সংস্থাটির সামনে থাকা সম্ভাবনা ও চ্যালেঞ্জ পর্যালোচনা করা হয়।

আলোচনায় বিমসটেকের প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা জোরদার, আঞ্চলিক সংযোগ বৃদ্ধি, অর্থনৈতিক সহযোগিতা সম্প্রসারণ এবং অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত খাতগুলোতে সহযোগিতা বাড়ানোর গুরুত্ব তুলে ধরা হয়।

অংশগ্রহণকারীরা আঞ্চলিক সংহতি এগিয়ে নেওয়া এবং বঙ্গোপসাগরীয় অঞ্চলে শান্তি, স্থিতিশীলতা, সহনশীলতা ও টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে বাস্তবমুখী ও কর্মভিত্তিক উদ্যোগ গ্রহণের ওপর জোর দেন।

সেমিনারে জ্যেষ্ঠ সরকারি কর্মকর্তা, বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত ও হাইকমিশনার, বিমসটেকভুক্ত দেশগুলোর প্রতিনিধি, আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধি, শিক্ষাবিদ, গবেষক, সশস্ত্র বাহিনীর সদস্য, উন্নয়ন সহযোগী, বেসরকারি খাতের অংশীজন, গণমাধ্যমকর্মী এবং নীতিনির্ধারণ-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।