কলকাতায় আবাসিক হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে নিহত বাংলাদেশিদের মরদেহ হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে। এরই মধ্যে কলকাতা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গের সামনে জড়ো হয়েছেন স্বজনরা।
নিহতদের মরদেহ দেশে ফেরত পাঠানোর বিষয়টিকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে কলকাতার বাংলাদেশ ডেপুটি হাইকমিশন। তবে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষ না হলে মরদেহ দেশে পাঠাতে শনিবার পর্যন্ত সময় লাগতে পারে বলে জানিয়েছে তারা।
শুক্রবার সকাল থেকেই আগুনে নিহত বাংলাদেশিদের মরদেহ দেশে ফেরানোর প্রক্রিয়ায় ব্যস্ত স্বজনরা। শুরুতে নিউমার্কেট থানা জিডির কপি ইস্যু না করায় প্রক্রিয়ায় কিছুটা বিলম্ব হয়। পরে কপি হাতে পেয়েই কলকাতা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গের সামনে ভিড় করেন তারা।
স্বজনরা জানান, মর্গে প্রয়োজনীয় নথিপত্র জমা দেওয়া হয়েছে। শিগগিরই মরদেহ হস্তান্তরের প্রক্রিয়া শুরু হবে। সব আনুষ্ঠানিকতা সময়মতো শেষ হলে শুক্রবারই মরদেহ নিয়ে দেশে ফিরতে পারবেন বলে আশা করছেন তারা।
পাঁচজনের মরদেহ বেনাপোল সীমান্ত দিয়ে দেশে আনা হবে। তারা হলেন—কুষ্টিয়ার দেবাশীষ দত্ত, তার স্ত্রী আফসানা শারমীন, তিন বছর বয়সী সন্তান শর্ণশীষ দত্ত, তার শ্বশুর মো. আকরাম আলী এবং সাভারের আহমেদ বাবু।
এ ছাড়া সাতক্ষীরার বাসিন্দা এস এম আলিমুজ্জামানের মরদেহ ভোমরা সীমান্ত দিয়ে দেশে ফেরত আনা হবে। তবে সাতক্ষীরার কালীগঞ্জের বাসিন্দা রেবতী সরকারের পরিবারের ইচ্ছা অনুযায়ী তার অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া কলকাতাতেই করা হতে পারে।
এ বিষয়ে বাংলাদেশের ডেপুটি হাইকমিশনার মো. খালেদ জানিয়েছেন, বিষয়টি ঢাকার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে জানানো হবে। সেই অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে, কলকাতার নিউমার্কেট এলাকার আরও ১৭টি হোটেলকে শোকজ করেছে পশ্চিমবঙ্গের দমকল বিভাগ। ব্যবসা পরিচালনার ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় অনুমতি না থাকায় এসব হোটেলের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
এর আগে ৯টি আবাসিক হোটেল ও চারটি রেস্তোরাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়েছিল পশ্চিমবঙ্গের দমকল বিভাগ। সব মিলিয়ে মোট ২৬টি হোটেল ও চারটি রেস্তোরাঁর বিরুদ্ধে নোটিশ জারি করা হয়েছে।