মাদক নির্মূলে সমন্বিত সামাজিক আন্দোলন চান মীর হেলাল

ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন বলেছেন, দেশে সংঘটিত সামাজিক অপরাধ ও নৃশংস ঘটনাগুলোর অধিকাংশের পেছনে কোনো না কোনোভাবে মাদক জড়িত। কিশোর গ্যাং গড়ে ওঠার অন্যতম বড় কারণ মাদক। 

তিনি বলেন, যারা মাদককে উদ্দীপক হিসেবে ব্যবহার করছে, তারা নিজেদের পাশাপাশি সমাজকেও বিকৃত মনস্তত্ত্বের দিকে নিয়ে যাচ্ছে। তাই মাদকের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে প্রয়োজন সকলের সমন্বিত সামাজিক প্রচেষ্টা।

শনিবার বিকেলে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ লাইনস্থ সিভিক সেন্টারে জেলা পুলিশের উদ্যোগে আয়োজিত মাদক বিরোধী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, মাদক নির্মূলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর যেমন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে, তেমনি সমাজের বিভিন্ন স্তরের প্রতিনিধিদেরও দায়িত্ব রয়েছে। সর্বস্তরের মানুষকে সম্পৃক্ত করে মাদক বহনকারী, ব্যবসায়ী ও মাদকসেবীদের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। তবে আমরা যদি একে অপরের ওপর দায়িত্ব চাপিয়ে দেই, তাহলে মাদকের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি প্রতিষ্ঠা করা কঠিন হয়ে পড়বে। 

মীর হেলাল বলেন, সরকার মাদক থেকে তরুণ ও কিশোর সমাজকে দূরে রাখতে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করছে। শিক্ষার পাশাপাশি খেলাধুলা, সংস্কৃতি ও বিভিন্ন সহশিক্ষা কার্যক্রমের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে কারিগরি শিক্ষার প্রসার এবং বিভিন্ন পর্যায়ে ক্রীড়া অবকাঠামো গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। 

তিনি আরও বলেন, বর্তমান কারাগার ব্যবস্থায় মাদকসংক্রান্ত আসামিদের জন্য আলাদা কোনো ব্যবস্থা নেই। তবে সীতাকুণ্ডের জঙ্গল সলিমপুরে যে নতুন কারাগার নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে, সেখানে এ উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। মাদকসংক্রান্ত মামলায় কারাগারে থাকা ব্যক্তিরা যাতে সাধারণ বন্দিদের মধ্যে মাদকের বিস্তার ঘটাতে না পারে সেই লক্ষ্যেই এ উদ্যোগ। 

সমাবেশে প্রধান আলোচক ছিলেন চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি আব্দুল কুদ্দুছ চৌধুরী। চট্টগ্রামের পুলিশ সুপার মাসুদ আলমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন চট্টগ্রাম-১৬ আসনের সংসদ সদস্য জহিরুল ইসলাম, সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য শামসুন্নাহার বেগম, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের পরিচালক বিগ্রেডিয়ার জেনারেল মো. তসলিম উদ্দীন, চট্টগ্রাম স্থানীয় সরকার বিভাগের পরিচালক মনোয়ারা বেগম, চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার ওয়াহিদুল হক চৌধুরী, চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক জাহিদুল ইসলাম মিঞা, চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) চেয়ারম্যান ইঞ্জি. বেলায়েত হোসেন এবং চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাড. তারিক আহমদ প্রমুখ।

সমাবেশ শেষে একটি মাদকবিরোধী র‌্যালি অনুষ্ঠিত হয়।