যেসব কারণে ঝুলছে শাহজালাল বিমানবন্দরের থার্ড টার্মিনাল

৯০২ কোটি টাকার অতিরিক্ত বাজেটের ঘাটতি এবং পরিচালনা সংক্রান্ত জটিলতায় আটকে আছে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের অত্যাধুনিক থার্ড টার্মিনাল। আন্তর্জাতিক মানের সেবা প্রদানে নির্মিত এই টার্মিনালটি ২০২৩ সালে তৎকালীন বিমান মন্ত্রীর হাত ধরে আংশিক উদ্বোধন হলেও এখন পর্যন্ত তা পূর্ণাঙ্গভাবে চালু করা সম্ভব হয়নি। তবে বর্তমান বিএনপি সরকার আগামী ১৬ ডিসেম্বর দেশের সর্বাধুনিক এই টার্মিনালটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ও চালুর সম্ভাব্য তারিখ নির্ধারণ করেছে।

Third Terminal 04
২০১৯ সালে জাইকার (জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা) অর্থায়নে প্রায় ২১ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে শুরু হওয়া ২ লাখ ২৬ হাজার বর্গমিটারের এই সুবিশাল টার্মিনালটির নির্মাণ কাজ শেষ হয়। এটি চালুর মাধ্যমে বছরে অন্তত দুই কোটি যাত্রীকে উন্নত সেবা দেওয়া সম্ভব হবে।

টার্মিনালটি পরিচালনায় আগ্রহ প্রকাশ করেছে জাপানি প্রতিষ্ঠান, তুরস্কের একটি প্রতিনিধি দল এবং নিজস্ব সক্ষমতায় প্রস্তুত থাকার কথা জানিয়েছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সও। তবে পরিচালনা কর্তৃপক্ষ কারা হবে, সে বিষয়ে এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না হওয়ায় পুরো প্রক্রিয়া স্তব্ধ হয়ে আছে।

Third Terminal 03
এদিকে এভিয়েশন বিশেষজ্ঞরা দ্রুততম সময়ে পরিচালনা কর্তৃপক্ষ চূড়ান্ত করে টার্মিনালটি চালুর জোর দাবি জানাচ্ছেন। তাদের মতে, উন্মুক্ত ও চালুর বিষয়টি বিলম্বিত হলে জাপানি ঋণের সুদের বোঝা ক্রমাগত বৃদ্ধি পাবে, যা সামগ্রিক অর্থনীতির ওপর চাপ সৃষ্টি করবে। অন্যদিকে উড়োজাহাজ পরিচালনাকারী সংস্থা ও ব্যবসায়ীরা মনে করছেন, দ্রুত থার্ড টার্মিনাল চালু হলে বিদেশি এয়ারলাইন্সের আগমন বাড়বে, টিকিটের বাজার প্রতিযোগিতামূলক হয়ে দাম কমবে এবং দেশের আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডিং নতুন মাত্রা পাবে।

Third Terminal 02
তবে বর্তমান বিমান মন্ত্রী স্পষ্ট করেছেন, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের রেখে যাওয়া এই প্রকল্পটি এখনও অসমাপ্ত রয়ে গেছে। পুরোপুরি কার্যক্ষম করে যাত্রীসেবায় উন্মুক্ত করতে আরও অতিরিক্ত ৯০২ কোটি টাকার প্রয়োজন। সব বৈরী পরিস্থিতি ও পরিচালনা সংক্রান্ত জটিলতা দ্রুত কাটিয়ে সরকারের নির্ধারিত ১৬ ডিসেম্বরের মধ্যেই এটি সচল করার তাগিদ দিচ্ছেন সংশ্লিষ্ট খাতের অংশীদারেরা।