ইউনিউন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনের মধ্য দিয়ে স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরু করতে যাচ্ছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। একই সঙ্গে ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনের জন্যও কমিশন প্রস্তুত রয়েছে এবং খুব অল্প সময়ের মধ্যেই এর তফসিল ঘোষণা করা হবে বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার মো. আনোয়ারুল ইসলাম সরকার।
রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) দুপুরে নির্বাচন ভবনে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
ইসি আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, ঠাকুরগাঁওয়ের উপ নির্বাচনের জন্য আমরা সব দিক থেকে প্রস্তুত। এই নির্বাচনে পোস্টাল ভোটিং ব্যবস্থা আরও সহজ ও জনবান্ধব করার কাজ চলছে। দ্রুতই এর সময়সূচি জানানো হবে।
স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে তিনি জানান, ইউনিয়ন পরিষদ দিয়েই ধাপে ধাপে স্থানীয় নির্বাচন শুরু করা হবে। স্থানীয় সরকারের নির্বাচনের সুবিধার্থে ভোটার স্থানান্তরের সময়সীমা আগামী সাত সেপ্টেম্বর পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছে। এরপর আর ভোটার স্থানান্তরের কোনো সুযোগ থাকবে না।
তিনি বলেন, কোনো আইন বা বিধিমালার পরিবর্তনের দোহাই দিয়ে স্থানীয় সরকার নির্বাচন আটকে থাকবে না। প্রচলিত আইনি কাঠামোর ভেতরেই নির্ধারিত সময়ে নির্বাচন আয়োজন করা হবে। স্থানীয় সরকারের নতুন আচরণবিধির গেজেটও কয়েকদিনের মধ্যে জারি করা হবে।
শিক্ষার্থীদের বার্ষিক পরীক্ষার বিষয়টি তুলে ধরে নির্বাচন কমিশনার বলেন, নভেম্বর ও ডিসেম্বর মাস শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অধিকাংশ ভোটকেন্দ্রই যেহেতু শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে করা হয় এবং শিক্ষকরাও ভোটগ্রহণের দায়িত্বে থাকেন, তাই শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা ও পরীক্ষার সময়সূচি বিবেচনায় রেেই ভোটের তারিখ নির্ধারণ করা হবে। পরীক্ষার ঠিক আগে কিংবা পরপরই নির্বাচনের ভোটগ্রহণ সম্পন্ন করার পরিকল্পনা রয়েছে।
এদিকে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের নির্বাচনে প্রার্থী হওয়া সংক্রান্ত প্রশ্নের জবাবে ইসি আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও এমপিওভুক্ত পদে থাকা ব্যক্তিদের অংশগ্রহণ নিয়ে লাভজনক পদের বিষয়ে আমরা কিছুটা দ্বিধায় ছিলাম। জামায়াতসহ বিভিন্ন মহল থেকে বিষয়টি নিয়ে দাবি তোলা হয়েছে। শিক্ষার পরিবেশ নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু রাখতেই শিক্ষকদের নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার বিষয়টি পর্যালোচনা করা হচ্ছে। তবে আইন মন্ত্রণালয়ের ভেটিং এবং রাজনৈতিক সম্মতির বিষয় থাকায় এটি এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নয়।
নির্বাচন কমিশনের স্বাধীনতা ও চাপ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ইসি কোনো রাজনৈতিক বা সরকারের চাপে নেই। কমিশন নিরপেক্ষ ও শতভাগ আইনি নিয়ম মেনেই কাজ করবে। একটি গোষ্ঠী পরিকল্পিতভাবে ‘ইসি চাপে আছে’ বলে প্রচার চালিয়ে আমাদের মনস্তাত্ত্বিক চাপে রাখার চেষ্টা করছে।
নির্বাচনে প্রযুক্তির ব্যবহার ও নিরাপত্তার বিষয়ে আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, গত জাতীয় নির্বাচনে বডড়ো ধরনের কোনো সহিংসতা ঘটেনি। সেই অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে এবার আরও সাহসী পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। আগামী নির্বাচনে প্রতিটি ভোটকেন্দ্র সিসিটিভি ক্যামেরার আওতায় আনা হবে। এছাড়া আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বডিওর্ন ক্যামেরা ও ড্রোনের ব্যবহার বাড়ানো হবে। নির্বাচনে সশস্ত্র বাহিনী বা সেনামোতায়েনের বিষয়টি পর্যবেক্ষণ ও বিবেচনায় রয়েছে বলে জানান তিনি।
পাশাপাশি গর্ভবতী নারী ও প্রতিবন্ধী নাগরিকেদের ভোটাধিকার সহজ ও সুগম করতে কমিশন বিশেষ পদক্ষেপ নিচ্ছে উল্লেখ করে নির্বাচন কমিশনার বলেন, ন্যূনতম বাজেটে সুশৃঙ্খল ও গ্রহণযোগ্য একটি নির্বাচন উপহার দেওয়াই ইসির মূল লক্ষ্য।