বিশাল অঙ্কের অর্থ অপচয় রোধে আপাতত ‘হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর’ এর নাম পরিবর্তন না করে, দ্রুততম সময়ে থার্ড টার্মিনাল চালুর দিকেই মূল মনোযোগ দিচ্ছে সরকার। আগামী ১৬ ডিসেম্বর আংশিকভাবে এই টার্মিনালটি চালুর ব্যাপারে আশাবাদ প্রকাশ করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের থার্ড টার্মিনাল সরেজমিনে পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা জানান বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত।
বিএনপি সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর ‘জিয়া আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর’ এর আগের নামে ফেরার আলোচনা প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, একটি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নাম পরিবর্তন করতে গেলে প্রায় ৪০ থেকে ৫০ হাজার কোটি টাকার বিশাল অর্থ ব্যয় হয়। বর্তমান পরিস্থিতিতে রাষ্ট্রের এতো বড়ো অর্থ অপচয় করে বিমানবন্দরের নাম পরিবর্তনের পক্ষে প্রধানমন্ত্রী নন।
পরিদর্শনকালে পর্যটন মন্ত্রী জানান, বিগত সরকারের আমলে টার্মিনালটি চালুর ক্ষেত্রে দৃশ্যমান কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। বর্তমান সরকার এটিকে দ্রুত সক্রিয় করতে কাজ করছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী ১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবসে টার্মিনালটির একটি বা দুটি প্লেন চলাচলের মাধ্যমে আংশিক উদ্বোধন করা হবে। পরবর্তীতে আগামী বছরের মার্চ-এপ্রিল নাগাদ এটি পুরোপুরি চালু করা সম্ভব হবে, যা বর্তমান বিমানবন্দরের যাত্রীচাপ উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনবে।
মন্ত্রী জানান, ইতিমধ্যে থার্ড টার্মিনাল পরিচালনা সংক্রান্ত চুক্তির অংশ হিসেবে আয়ের ২৭ শতাংশ বাংলাদেশ পাবে এবং বাকি অংশ পাবে জাপান। এ বিষয়ে জাপানের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক চুক্তির প্রক্রিয়া আজ থেকেই শুরু হচ্ছে। এছাড়া, নতুন এই টার্মিনালের ৫০ শতাংশ গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিংয়ের দায়িত্বে থাকবে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স।
যাত্রী ভোগান্তি কমাতে লাগেজ সরবরাহের গতি বৃদ্ধির কড়া নির্দেশনা দিয়ে মন্ত্রী বলেন, বর্তমানে লাগেজ পেতে যে অতিরিক্ত বিলম্ব হয়, তা কমিয়ে ১৫ থেকে ৪০ মিনিটের মধ্যে ক্লিয়ার করতে হবে। ব্যর্থতায় সিভিল এভিয়েশন কতৃক সংশ্লিষ্টদের জরিমানার সম্মুখীন হতে হবে।
নতুন এই অবকাঠামোগত উন্নয়নের ফলে দেশে নতুন বিদেশি বিনিয়োগ বৃদ্ধি পাবে বলেও তিনি আশা ব্যক্ত করেন।