গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে সরকার ও বিরোধী দলসহ সবাইকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছন, যে কোনো বিষয়ে দ্বিমত থাকতে পারে, তবে আলোচনার মাধ্যমে সব সমস্যার সমাধান সম্ভব।
মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) বিকেলে সিলেট সিটি কর্পোরেশন মাঠে সিটি কর্পোরেশন আয়োজিত এক নাগরিক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি এসব কথা বলেন।
একই সঙ্গে সিলেটের পর্যটন, চা, মৎস্য ও শিল্পসহ অন্যান্য খাতে স্থানীয় ব্যবসায়ী ও প্রবাসীদের অধিকতর বিনিয়োগেরও আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
রাষ্ট্রপতি বলেন, সিলেটের পর্যটন, চা, মৎস্য ও শিল্পখাতে বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে। এখানকার পাহাড়, নদী, ঝরনা, চাবাগান, বন, হাওর সব মিলিয়ে সিলেট বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান পর্যটন অঞ্চল। আমি বিশ্বাস করি এসব খাতে আরও উন্নত করার সুযোগ রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, আজকে যারা প্রবাসে আছেন এবং যাদের যথেষ্ট যোগ্যতা আছে তারা যদি এসব খাতে বিনিয়োগ করতে এগিয়ে আসেন তাহলে এখানে আমাদের পর্যটন শিল্পে অনেক বেশি উন্নত হবে বলে আমি বিশ্বাস করি।
এ সময় চা শিল্পের সম্ভাবনার কথা তুলে ধরে রাষ্ট্রপতি বলেন, সিলেটের চাবাগান শুধু আমাদের বাংলাদেশে নয় সারাবিশ্বে বিখ্যাত, সেজন্য এই সিলেট অনেক বেশি সামনে এগিয়ে আছে।
সিলটে মাছ চাষের সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, এখানকার হাওড়গুলোতে মাছ চাষের অনেক সুবিধা আছে এবং এখানে যে মিনারেলস আছে সেগুলো দিয়ে এখানে অনেক বড় বড় শিল্প গড়ে উঠতে পারে।
এ সময় তিনি প্রবাসীদের বিনিয়োগ, জ্বালানি, কৃষি, শিল্প, চা শিল্প, পর্যটন, গ্যাস এসব সম্ভাবনাগুলো কাজে লাগাতে ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের প্রতি আহ্বান জানান।
পাকিস্তানের হাই কমিশনারের সঙ্গে সাম্প্রতিক সাক্ষাতের কথা উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, তিনি কয়েকদিন আগে সিলেটে এসেছিলেন, এখান থেকে চা নিয়ে যাবেন অর্থাৎ তারা এখান থেকে চা আমদানি করবে। আমাদের এটার কোঅর্ডিনেট করা দরকার।
সিলেটের প্রবাসী সমাজের অবদানের প্রশংসা করে তিনি বলেন, সিলেটের প্রবাসী সমাজ শুধু সিলেটের অর্থনীতি নয় বাংলাদেশের অর্থনীতিতে তারা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছেন।
রাষ্ট্রপতি বলেন, আগামী দিনের লড়াই হচ্ছে দেশ পুনর্গঠন, গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি বাসযোগ্য আবাসস্থল নির্মাণ করা।
তিনি আরও বলেন, আসুন এখন অন্তত আমাদের কমন যে ইস্যুগুলো আছে সেই ইস্যুগুলোতে আমরা একমত হই। একমত হয়ে আমরা সামনের দিকে এগিয়ে যাই।
বাংলাদেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির কথা উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, বাংলাদেশে মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান আমরা এখানে অনেকগুলো জাতি একসাথে বাস করি এবং বাংলাদেশের সবচেয়ে সৌন্দর্য হচ্ছে যে বাংলাদেশে কমিউনাল হারমিনি আছে।
সিলেটবাসীর পাশে থাকার আশাবাদ ব্যক্ত করে তিনি বলেন, সিলেটের মানুষের সঙ্গে আমি সবসময় ছিলাম এবং ভবিষ্যতেও থাকবো।
এ সময় রাষ্ট্রপতির সহধর্মিণী উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য দেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, জাতীয় সংসদের হুইপ জিকে গাউছ, রাষ্ট্রদূত মুশফিকুল ফজল আনসারী, সিলেট সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী।