সরকারের ১২ আনা সাফল্যই নির্ভর করছে স্বাস্থ্য খাতের ওপর: মন্ত্রী

সরকারের বারো আনা বা বডড়ো সাফল্য নির্ভর করছে স্বাস্থ্য খাতের ওপর বলে মন্তব্য করেছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। তিনি বলেছেন, সরকার এই খাতকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে। বিশেষ করে যে হাসপাতালগুলোতে বিভিন্ন প্রান্ত থেকে হাজারো রোগী সেবা নিতে আসেন, সেগুলোতে বাজেট ও বরাদ্দ বাড়ানো হচ্ছে।   

সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) সকালে রাজধানীর মহাখালীতে অবস্থিত জাতীয় বক্ষব্যাধি ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে নবনির্মিত ৪০ শয্যার নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র (আইসিইউ) ইউনিটের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, আমি মেধাবী ছাত্র ছিলাম, কিন্তু ডাক্তারদের মতো না। স্বাস্থ্য নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর প্রচেষ্টাকে কোনোভাবেই ব্যর্থ হতে দেওয়া যাবে না। প্রধানমন্ত্রী স্বাস্থ্য খাতে বাজেটের কোনো কমতি রাখেননি।

প্রান্তিক পর্যায়ে সেবা সম্প্রসারণের প্রতিশ্রুতির কথা তুলে ধরে মন্ত্রী জানান, আগামী দুই বছরের মধ্যে দেশের প্রতিটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১০টি করে কিডনি ডায়ালাইসিস মেশিন সরবরাহ করা হবে। একই সঙ্গে দেশের চিকিৎসকদের দক্ষ করে গড়ে তুলতে সরকারের বিভিন্ন কর্মসূচির কথা তিনি উল্লেখ করেন।

জাতীয় বক্ষব্যাধি হাসপাতালটি ২০০৫ সালে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া উদ্বোধন করেছিলেন। দীর্ঘ ২১ বছর পর সেখানে নতুন করে ৪০টি আইসিইউ বেড যুক্ত হলো।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ড্যাব) সভাপতি অধ্যাপক ডা. হারুন আল রশীদ বলেন, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডাব্লিউএইচও) নিয়ম অনুযায়ী প্রতিটি হাসপাতালে মোট শয্যার অন্তত ১০ শতাংশ আইসিইউ থাকতে হয়। বাংলাদেশে আইসিইউর চরম সঙ্কট রয়েছে। তবে শুধু আইসিইউ স্থাপন করলেই হবে না, দক্ষ জনবল না দিলে এসব প্রযুক্তি ব্যবহারের আগেই নষ্ট হয়ে যাবে।   

ড্যাবের মহাসচিব ডা. মো. জহুরুল হক শাকিল বক্ষব্যাধি হাসপাতালে ৪০ শয্যার আইসিইউ চালুর সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, এর ফলে সঙ্কটাপন্ন রোগীরা প্রয়োজনীয় চিকিৎসা পাবেন। একই সঙ্গে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসকদের ওপর সাম্প্রতিক হামলার ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে ব্যবস্থা নিতে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন তিনি।   

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক জাহিদ রায়হান জানান, সরকারি হাসপাতালে রোগী পরীক্ষার একটি অংশ (ইউজার ফি) সরাসরি হাসপাতালের সার্বিক উন্নয়নমূলক কাজে ব্যয় করা হবে।

হাসপাতালের সার্বিক চিত্র ও সঙ্কটের কথা তুলে ধরে জাতীয় বক্ষব্যাধি ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের পরিচালক ডা. গোলাম সারওয়ার লিয়াকত বলেন, ৮৭০ শয্যার এই হাসপাতালে বক্ষব্যাধির সব ধরনের চিকিৎসা দেওয়া হয়। বর্তমানে এখানে ১৫৬ জন চিকিৎসক ও ৪১০ জন নার্স কর্মরত আছেন। তবে এতো বিপুলসংখ্যক রোগীর সেবায় শয্যা ও আবাসনসঙ্কট রয়েছে। পাশাপাশি ডাক্তার, নার্স ও শিক্ষার্থীদের আবাসন এবং হাসপাতালের নিরাপত্তাজনিত জটিলতাও দীর্ঘদিনের।