জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে যাত্রীবাহী লঞ্চের ভাড়া সমন্বয় করেছে সরকার। নতুন হার অনুযায়ী, প্রথম ১০০ কিলোমিটার দূরত্বের জন্য প্রতি কিলোমিটারে ২৩ পয়সা এবং পরবর্তী ১০০ কিলোমিটারের জন্য ২০ পয়সা করে ভাড়া বাড়ানো হয়েছে। একই সঙ্গে জলপথে সর্বনিম্ন ভাড়া ৩২ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৩৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। নতুন এই সিদ্ধান্ত বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) থেকেই কার্যকর হবে।
বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয়ের ভাড়া সমন্বয়বিষয়ক সভা শেষে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-চলাচল (যাত্রী পরিবহন) সংস্থার সভাপতি গোলাম নবী এসব তথ্য জানান।
তিনি জানান, যাত্রীবাহী লঞ্চের ক্ষেত্রে প্রথম ১০০ কিলোমিটার পর্যন্ত প্রতি কিলোমিটারে ভাড়া দুই টাকা ৯৫ পয়সা থেকে বাড়িয়ে তিন টাকা ১৮ পয়সা করা হয়েছে। আর পরবর্তী প্রতি ১০০ কিলোমিটারের ক্ষেত্রে ভাড়া দুই টাকা ৫২ পয়সা থেকে বাড়িয়ে দুই টাকা ৭২ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে।
অন্য দিকে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম জানান, তেলের দাম ১৭.৩৯ শতাংশ বাড়লেও লঞ্চের ভাড়া বাড়ানো হয়েছে মাত্র ৭.৫৪ শতাংশ হারে। তিনি বলেন, বিদ্যমান পরিস্থিতিতে ভাড়া না বাড়িয়ে বিকল্প ছিরো না। যেকোনো মূল্যবৃদ্ধিই জনগণের জন্য চাপের, তবে আমরা যৌক্তিক পর্যায়ে ভাড়া নির্ধারণ করতে সক্ষম হয়েছি। সরকারে এসে আমরা সর্বনিম্ন ভাড়ায় সর্বনিম্ন বৃদ্ধি নিশ্চিত করেছি, যাতে সাধারণ মানুষের ওপর অতিরিক্ত চাপ না পড়ে।
পরিবহন খাতের অন্য মাধ্যমের বিষয়ে মন্ত্রী জানান, সিএনজির দাম না বাড়ায় সিএনজিচালিত যানবাহনের ভাড়া বাড়ানোর কোনো সুযোগ নেই। কোথাও বাড়তি ভাড়া আদায়ের অভিযোগ পাওয়া গেলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মনিটরিং ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ঢাকা ও চট্টগ্রাম মহানগরে বাসের সর্বনিম্ন ভাড়া ১০ টাকা আগের নিয়মেই বহাল থাকবে।
রেলের ভাড়ার বিষয়ে সেতুমন্ত্রী উল্লেখ করেন, গত ১০ বছর রেলে কোনো ভাড়া বাড়ানো হয়নি এবং বর্তমানে ভাড়া বাড়ানোর চাপ থাকলেও এখনই রেলের ভাড়া বাড়ানো হচ্ছে না।