আট মাসে নারী ও কন্যাশিশু নির্যাতনের ১৯১৯ ঘটনা, ধর্ষণের শিকার ৩৩১

চলতি বছরের প্রথম আট মাসে সারাদেশে নারী ও কন্যাশিশু নির্যাতনের এক হাজার ৯১৯টি ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে। এর মধ্যে ৩৩১টি ঘটনাই ধর্ষণের।

বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের লিগ্যাল এইড উপ-পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির সংকলিত তথ্যে উঠে এসেছে এ চিত্র।

সংস্থাটির দেয়া তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত দেশে কন্যাশিশু নির্যাতনের ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে ৮৮৪টি। আর ১৮ বছরের বেশি বয়সী নারীর ক্ষেত্রে এ সংখ্যা এক হাজার ৩৫টি।

এ সময়ে মোট ৩৩১টি ধর্ষণের ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে। এর মধ্যে কন্যাশিশু ধর্ষণের ঘটনা ২৪০টি এবং প্রাপ্তবয়স্ক নারীর ক্ষেত্রে ৯১টি।

ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনা ঘটেছে ৩৩টি। এর মধ্যে ২২ জনই কন্যাশিশু। এছাড়া ধর্ষণের চেষ্টা হয়েছে ১৩৬টি, যার মধ্যে ১১২ জন কন্যাশিশু।

যৌন সহিংসতার অন্যান্য ঘটনাও ঘটেছে উল্লেখযোগ্য সংখ্যায়। আট মাসে যৌন নিপীড়নের ৭৬টি এবং উত্ত্যক্ত করার ৫৩টি ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে। পাশাপাশি সাইবার সহিংসতার ঘটনা রয়েছে ৩০টি।

এ ছাড়া নারী ও কন্যাশিশু মিলিয়ে ৩৯৬টি হত্যার ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে। এর মধ্যে প্রাপ্তবয়স্ক নারী ৩০৩ জন এবং কন্যাশিশু ৯৩ জন। পাশাপাশি রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে ১৮৪টি।

সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, আত্মহত্যার ঘটনাও ঘটেছে ৮৬টি। এর মধ্যে ২৮ জন কন্যাশিশু এবং ৫৮ জন প্রাপ্তবয়স্ক নারী। আত্মহত্যায় প্ররোচনার ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে ২২টি এবং আত্মহত্যার চেষ্টার ঘটনা রয়েছে ২টি।

অন্যদিকে, আট মাসে অপহরণের ঘটনা ঘটেছে ৫৮টি এবং পাচারের ঘটনা ৬৫টি। কন্যাশিশুদের ক্ষেত্রে অপহরণের ঘটনা ৪০টি এবং পাচারের ঘটনা ৩২টি।

একই সময়ে যৌতুকের কারণেও নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে। যৌতুকের কারণে নির্যাতনের ২০টি এবং যৌতুকের কারণে হত্যার ২১টি ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে। আর পারিবারিক সহিংসতায় শারীরিক নির্যাতনের ঘটনা রয়েছে ১৯টি।

মহিলা পরিষদের তথ্যে আরও দেখা যায়, আট মাসে সারাদেশে গৃহকর্মী নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে ৮টি এবং গৃহকর্মী হত্যার ঘটনা ৯টি।