জাতিসংঘ সফর সফল, গুরুত্ব পেয়েছে ‘সবার আগে বাংলাদেশ’: প্রেস উইং

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে অংশগ্রহণ শেষে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইং ও তার উপদেষ্টা জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রীর সাম্প্রতিক নিউ ইয়র্ক সফরে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের অবস্থান দৃঢ় হয়েছে এবং প্রতিটি পদে ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ নীতি বাস্তবায়িত হয়েছে। সফরকালে রোহিঙ্গা সঙ্কট নিরসনে পাঁচটি সুনির্দিষ্ট প্রস্তাবনাসহ বিশ্বশান্তি, পরিবেশ পরিকল্পনা ও গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রার চিত্র তুলে ধরেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) বিকেলে তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে আয়োজিত এক সাংবাদিক সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর জাতিসংঘ সফরের সার্বিক বিষয় ও অর্জন তুলে ধরে এসব তথ্য জানান তার উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন এবং প্রেস উইংয়ের কর্মকর্তারা।   

সাংবাদিক সম্মেলনে জানানো হয়, পুরো সফরে বাংলাদেশ মোট ৮০টি দ্বিপাক্ষিক ও বহুপাক্ষিক বৈঠকে অংশ নিয়েছে। এর মধ্যে প্রধানমন্ত্রী এককভাবে ৩০টি কর্মসূচিতে অংশ নেন এবং পাকিস্তান, ভুটান, মালদ্বীপ, ইরান ও হাইতিসহ বিশ্বের ১১টি দেশের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করেন। তিনি বিশ্বমঞ্চে মোট ছয়টি ভাষণ ও বক্তব্য দেন। তার মাত্র ৩৫ জনের সংক্ষিপ্ত বহর নিয়ে করা এই সফর কূটনৈতিক দিক থেকে অত্যন্ত ফলপ্রসূ হয়েছে।   

প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন বলেন, দীর্ঘদিন পর দেশের জনগণের সরাসরি ভোটে নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমান বিশ্বনেতাদের কাছে বিশেষ সম্মান ও মর্যাদা পেয়েছেন। আমরা সমতার ভিত্তিতে প্রতিটি দেশের সঙ্গে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক তৈরিতে বিশ্বাসী, যা আমাদের বৈশ্বিক কূটনীতিকে শক্তিশালী করবে।   

তিনি আরও জানান, সাধারণ পরিষদের বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী গণতান্ত্রিক সরকারের স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং ফিলিস্তিন সঙ্কটের কথা জোরালোভাবে তুলে ধরেছেন। বিশ্বনেতাদের সামনে প্রধানমন্ত্রীর উপস্থাপন করা পরিবেশ সম্পর্কিত পরিকল্পনা আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক সমাদৃত হয়েছে।

রোহিঙ্গা সঙ্কট নিয়ে মাহ্দী আমিন জানান, রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে কীভাবে নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণভাবে ফেরত পাঠানো যায়, সে বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী পাঁচটি সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব দিয়েছেন। এ বিষয়ে সরাসরি মিয়ানমারের প্রতিনিধির সঙ্গে কথা না হলেও জাতিসংঘ থেকে দ্রুত বাস্তবায়নের আশ্বাস পাওয়া গেছে।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে উপদেষ্টা জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির বিষয়টি ব্যাখ্যা করে বলেন, সারাবিশ্বেই জ্বালানির দাম বেড়েছে। জনগণের ভোগান্তির কথা সরকার অনুধাবন করে, তবে সবদিক বিবেচনা করেই ন্যূনতম মূল্য সমন্বয় করা হয়েছে। 

জাতিসংঘে জাইমা রহমানের নিয়োগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এতে বাংলাদেশ সরকারের কোনো সম্পৃক্ততা ছিরো না, জাইমা রহমান তার নিজস্ব মেধা ও যোগ্যতাবলেই ওই অবস্থান অর্জন করেছেন।   

দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে তিনি বলেন, আমরা এমন একটি বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে কাজ করছি যেখানে আইনের শাসনই সর্বোচ্চ গুরুত্ব পাবে। রাড্ডা, মোহাম্মদপুর কিংবা ইসিবি চত্বরে হামলাকারী যারাই হোক না কেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিচ্ছে। দেশে অস্থিতিশীলতা তৈরির যেকোনো অপচেষ্টা বরদাশত করা হবে না।   

সাংবাদিক সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সফর চলাকালে ও দেশে ফেরার সময়ে কিছু উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ঘটনা ঘটানো হয়েছে, যাতে গণমাধ্যমের দৃষ্টি ভিন্নদিকে প্রবাহিত হয়। তিনি অভিযোগ করেন, পলাতক সরকার যেভাবে দেশ চালিয়েছিলো, বর্তমান বিরোধী দলও সেই একই মন্ত্রে হাঁটছে।   

প্রেস সচিব সালেহ শিবলী বলেন, প্রধানমন্ত্রী জাতিসংঘে বিশ্বশান্তি, মানবতা ও দেশের মানুষের অর্থনৈতিক মুক্তির বার্তা দিয়েছেন। তিনি উল্লেখ করেন, নাগরিকদের ক্ষমতাহীন রেখে রাষ্ট্র শক্তিশালী হতে পারে না। বিগত ১৫ বছরের ভয় ও ফ্যাসিবাদের শাসন থেকে মুক্ত হয়ে বাংলাদেশ যখন আলোর পথে এগোচ্ছে, তখন দেশবাসীকে ধৈর্য ধরার আহবান জানান তিনি। একই সঙ্গে সরকারের মানবিকতা ও পরমতসহিষ্ণুতাকে কেউ যেন দুর্বলতা হিসেবে না ভাবে, সে বিষয়েও তিনি সতর্ক করেন।