নোবেল বিজয়ী ও সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের বিরুদ্ধে অব্যাহত হয়রানি, হেনস্তা, অনলাইন অপপ্রচার এবং তাঁকে কেন্দ্র করে চলা নানা হুমকি ও টার্গেটেড আক্রমণের তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তাঁর সরকারের ১২ জন উপদেষ্টা।
মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে এ ঘটনার কঠোর নিন্দা জানিয়েছেন তাঁরা। এক যৌথ বিবৃতিতে সাবেক ১২ উপদেষ্টা অধ্যাপক ইউনুসের ওপর এই সুপরিকল্পিত আক্রমণকে একটি কায়েমি স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠীর 'কাপুরুষোচিত চক্রান্ত' হিসেবে অভিহিত করেছেন।
তারা স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন, দেশ যখন চরম ধ্বংসস্তূপ ও পতনের মুখোমুখি দাঁড়িয়েছিল, ঠিক তখন অধ্যাপক ইউনুসের নেতৃত্বে গঠিত অন্তর্বর্তী সরকার এক বিশাল ও কঠিন দায়িত্ব কাধে তুলে নিয়েছিল। বছরের পর বছর ধরে চলা অনিয়ন্ত্রিত অর্থনৈতিক লুণ্ঠন, গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানের ধস, প্রাতিষ্ঠানিক স্বৈরাচার এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের ফলে ধ্বংস হয়ে যাওয়া একটি রাষ্ট্রকে পুনর্গঠনে এই সরকার নিরলস চেষ্টা চালিয়ে গেছে। বিগত ফ্যাসিবাদী শাসনের অধীনে প্রতিনিয়ত ঘটে চলা গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের মতো জঘন্য অপকর্মের সমাপ্তিও টেনেছিল এই অন্তর্বর্তী সরকার।
বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, অন্তর্বর্তী সরকার ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে একটি অবাধ ও সুষ্ঠু সাধারণ নির্বাচনের মাধ্যমে নির্বাচিত সরকারের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করে। আশা ছিলো, গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান পুনর্গঠন, বিগত ফ্যাসিবাদী শাসনের ভুক্তভোগীদের বিচার নিশ্চিতকরণ এবং মানবাধিকার রক্ষার চলমান প্রক্রিয়া টেকসইভাবে অব্যাহত থাকবে।
কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয়, একটি রাজনৈতিক দুষ্কৃতকারী চক্র ও কায়েমি স্বার্থান্বেষী মহল অধ্যাপক ইউনুসের বিরুদ্ধে অনবরত কুৎসা, মিথ্যা তথ্য ছড়াচ্ছে এবং শারীরিক ও ব্যক্তিগত হুমকি দিয়ে চলেছে। সাবেক উপদেষ্টারা স্পষ্ট ভাষায় বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের জাতীয় ও আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতা ক্ষুণ্ন করতে এবং দেশে অস্থিতিশীলতা তৈরি করতেই এসব করা হচ্ছে।
যৌথ বিবৃতিতে সাবেক ১২ উপদেষ্টারা দৃঢ়কণ্ঠে ঘোষণা করেন, কোনো ধরনের ভয়ভীতি, অসত্য প্রচার, অনলাইন হয়রানি কিংবা ব্যক্তিগত হুমকি জুলাইয়ের ছাত্র-জনতার বিপ্লব ও প্রতিশ্রুত সংস্কার আন্দোলনকে স্তব্ধ করতে পারবে না। তরুণ সমাজের অসামান্য আত্মত্যাগের মাধ্যমে অর্জিত বাংলাদেশের মানুষের মর্যাদাপূর্ণ এই ঐতিহাসিক সংস্কারের ম্যান্ডেটকে ক্ষমতাচ্যুত ফ্যাসিবাদী শাসক ও তাদের দোসরদের কোনো অপপ্রচার দিয়ে মুছে ফেলা যাবে না।
বিবৃতিতে সই করেছেন, সাবেক উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ, মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান, সিআর আবরার ও আসিফ নজরুল; মাঝে বাঁ থেকে সাবেক উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান, জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী, সাখাওয়াত হোসেন ও ফারুক-ই-আজম; নিচে বাঁ থেকে সাবেক উপদেষ্টা ফরিদা আখতার, শারমীন এস মুরশিদ, মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ও সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান।
উল্লেখ্য, সোমবার যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের জন এফ কেনেডি বিমানবন্দর থেকে হুইলচেয়ারে করে বের হওয়ার সময় অধ্যাপক ইউনূসকে হেনস্তা করার ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। এতে দেখা যায়, অধ্যাপক ইউনূসের দিকে এগিয়ে গিয়ে কয়েকজন লোক উচ্চ স্বরে স্লোগান দিচ্ছেন। এ সময় বিক্ষোভকারীরা তাঁকে উদ্দেশ করে ‘হোয়াই ইউ কাম হিয়ার’ সহ নানা অপবাদসূচক কথা বলে চিৎকার করছিলেন। কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের কয়েকজন প্রবাসী সমর্থকের বিরুদ্ধে তাঁকে হেনস্তা করার অভিযোগ উঠেছে।