রাত পোহালেই দেবী দুর্গার আরাধনায় মুখর হয়ে উঠবে দেশের প্রতিটি পূজামণ্ডপ। মহাষষ্ঠীর আনুষ্ঠানিকতার মধ্য দিয়ে শুরু হতে যাচ্ছে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা। এ বছর সারা দেশে প্রায় ৩৩ হাজার ৮৫১টি মণ্ডপে পূজার আয়োজন করা হয়েছে। এই আনন্দ উৎসবকে নির্বিঘ্ন, শান্তিপূর্ণ ও নিরাপদ রাখতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
মণ্ডপের ব্যাপ্তি ও ঝুঁকি বিবেচনায় নিয়ে সারা দেশের ৬ হাজার ৯১৪টি পূজামণ্ডপকে ‘গুরুত্বপূর্ণ’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় রাজধানীর মিরপুর কেন্দ্রীয় মন্দির পরিদর্শন শেষে এসআরবি মহাপরিচালক আহসান হাবীব পলাশ জানান, পূজা উপলক্ষে সারা দেশে ১৩ থেকে ২২ অক্টোবর পর্যন্ত বিশেষ নিরাপত্তা এবং নিয়মিত টহল কার্যক্রম পরিচালিত হবে।
তিনি আরও জানান, মাঠপর্যায়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উপস্থিতির পাশাপাশি প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করার ওপর জোর দেয়া হচ্ছে। বিশেষ করে মণ্ডপে আসা নারী দর্শনার্থীরা যাতে নিরাপদে উৎসব উদযাপন করতে পারেন, সেজন্য মোবাইল কোর্টের ব্যবস্থা করা হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় অন্যান্য পদক্ষেপেও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
আহসান হাবীব পলাশ বলেছেন, শারদীয় দুর্গাপূজায় এখন পর্যন্ত নাশকতার কোনো হুমকি নেই। তবে যেকোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি, নাশকতা কিংবা সন্দেহজনক তৎপরতা মোকাবিলায় এসআরবির ডগ স্কোয়াড ও বোম্ব ডিসপোজাল টিম প্রস্তুত রয়েছে।
এসআরবি ডিজি বলেন, বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ। শারদীয় দুর্গাপূজা ঘিরে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এ বছর বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। পূজাকে কেন্দ্র করে যেকোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি মোকাবিলায় পর্যাপ্তসংখ্যক এসআরবি সদস্য মোতায়েন রয়েছেন।
এসআরবি মহাপরিচালক জানান, গত ১৩ অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া বিশেষ নিরাপত্তা পরিকল্পনা আগামী ২২ অক্টোবর পর্যন্ত বাস্তবায়ন করা হবে। এ সময় দেশজুড়ে বাহিনীর ১৫টি ব্যাটালিয়নের ছয় হাজারের বেশি সদস্য নিরাপত্তার দায়িত্বে নিয়োজিত থাকবেন। পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ এলাকা ও সড়কে নিয়মিত টহল জোরদার করা হয়েছে। এ বছর সারা দেশে প্রায় ৩২ হাজার ৯৫টি পূজামণ্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
একই সময়ে রাজধানীর সিদ্ধেশ্বরী কালী মন্দিরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা পরিদর্শন করেন ডিএমপি কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমদ। তিনি জানান, ঢাকা মহানগরীর ২৫৭টি পূজামণ্ডপে নিবিড় নজরদারি চালানো হবে। সিসিটিভি এবং বডিওর্ন ক্যামেরার সাহায্যে কেন্দ্রীয় কন্ট্রোল রুম থেকে সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ অব্যাহত থাকবে, যাতে যেকোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি দ্রুত মোকাবিলা করা সম্ভব হয়।
সব মিলিয়ে প্রযুক্তি ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কড়া প্রহরার মধ্য দিয়ে আনন্দের বার্তা নিয়ে শুরু হতে যাচ্ছে এবারের দুর্গাপূজা।