ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের শূন্য ঘোষিত সংরক্ষিত নারী আসনের উপনির্বাচন সামনে রেখে মুখরিত হয়ে উঠেছে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়। শুক্রবার সকাল থেকেই সেখানে ছিল উৎসবে আবহ। উপনির্বাচনে দলের টিকিট পেতে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা যোগ্য ও প্রত্যাশী নারী নেত্রীরা জমা হতে থাকেন এবং উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে নিজ নিজ মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেন।
সাম্প্রতিক সময়ে নানা ঘটনার পর এই আসনটিতে উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। উল্লেখ্য, গত ২৪ সেপ্টেম্বর ঢাকার মিরপুরে রাড্ডা মাতৃ ও শিশু স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে অনাকাঙ্ক্ষিত হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। এই ঘটনার পেছনে তৎকালীন সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টির সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ ওঠার পর দলীয় প্রধান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশে তিনি স্পিকারের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন। গত পহেলা অক্টোবর তাঁর পদত্যাগের পর সংসদ সচিবালয় আসনটি আনুষ্ঠানিকভাবে শূন্য ঘোষণা করে।
শুক্রবার সকাল থেকে মনোনয়ন ফরম সংগ্রহের সময় কার্যালয় প্রাঙ্গণে তৃণমূল ও কেন্দ্রীয় স্তরের নারী নেত্রীদের উপস্থিতি ছিল নজরকাড়া। দীর্ঘদিন ধরে দলীয় আন্দোলন-সংগ্রাম ও রাজপথে সক্রিয় থাকা নেত্রীরা প্রত্যাশা করছেন, এবার প্রার্থী নির্বাচনে দল ত্যাগের যথার্থ মূল্যায়ন করবে। তাঁদের বক্তব্য, বিগত দিনের কঠিন পরিস্থিতিতে স্বৈরাচার ও ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে যাঁরা জেল-জুলুম ও নির্যাতন সহ্য করে রাজপথে অটল ছিলেন, তাঁদেরই মনোনয়ন দেওয়া উচিত।
অন্যদিকে, বিএনপি নীতি-নির্ধারকরা জানিয়েছেন যে প্রার্থী বাছাই প্রক্রিয়ায় কোনো ধরনের শিথিলতা দেখানো হবে না। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রার্থীর পূর্বের অভিজ্ঞতা, রাজপথের সক্রিয় ভূমিকা, দলের প্রতি আনুগত্য এবং সামাজিক গ্রহণযোগ্যতাকে এবার সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হবে। বিতর্কহীন ও পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তির কাউকেই সংসদের এই আসনের জন্য বেছে নেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন তারা।
নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত সময়সূচি অনুযায়ী, আগামী ১২ নভেম্বর শূন্য এই আসনে ভোট হবে। ইসির তফসিল অনুযায়ী, ২৬ অক্টোবর মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ দিন নির্ধারিত রয়েছে। এরপর ২৭ অক্টোবর মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই সম্পন্ন হবে এবং ১ নভেম্বর পর্যন্ত থাকবে প্রার্থিতা প্রত্যাহারের সুযোগ।