- ডেঙ্গু প্রতিরোধে নাগরিক সচেতনতার তাগিদ প্রধানমন্ত্রী
- শিক্ষার্থীদের পরিচ্ছন্নতা অভিযানে যুক্ত হওয়ার আহ্বান
- বিভিন্ন হাসপাতালের সেবা দেখতে আকস্মিক পরিদর্শন
- অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ ও সার্বিক ব্যবস্থাপনায় অসন্তোষ
- পরিস্কার-পরিচ্ছন্নতায় সাত দিনের আলটিমেটাম প্রদান
ডেঙ্গু মহামারি রূপ নেওয়ার আশঙ্কা থেকে দেশকে মুক্ত রাখতে শুধু সরকারি উদ্যোগের ওপর নির্ভরশীল না হয়ে শিক্ষার্থী, তরুণ সমাজসহ দেশের প্রতিটি নাগরিককে সম্মিলিতভাবে পরিচ্ছন্নতা অভিযানে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
বিশেষ করে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, নিজ বাসাবাড়ি এবং আশপাশের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার ক্ষেত্রে তরুণদের অগ্রণী ভূমিকা পালনের পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।
শনিবার সকালে রাজধানীর ডেঙ্গু পরিস্থিতি, হাসপাতালের চিকিৎসাসেবা ও সার্বিক পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম সরেজমিনে ঘুরে দেখতে আকস্মিক পরিদর্শনে বের হন প্রধানমন্ত্রী।
পরিদর্শনের শুরুতে তিনি রাজধানীর কুয়েত-বাংলাদেশ মৈত্রী সরকারি হাসপাতালে যান। সেখানে তিনি আইসিইউ, অপারেশন থিয়েটারসহ বিভিন্ন ওয়ার্ড ঘুরে দেখেন এবং চিকিৎসাধীন রোগীদের সঙ্গে কথা বলে চিকিৎসাসেবার খোঁজখবর নেন।
তবে পরিদর্শনের সময় হাসপাতালের অনাকাঙ্ক্ষিত অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ ও সার্বিক ব্যবস্থাপনায় চরম অসন্তোষ প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী। আগামী সাত দিনের মধ্যে হাসপাতালের পরিবেশ ও পরিচ্ছন্নতার চিত্র বদলাতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে কড়া নির্দেশ ও সময়সীমা বেঁধে দেন তিনি।
পরবর্তীতে প্রধানমন্ত্রী রাজউক উত্তরা মডেল কলেজ পরিদর্শন করেন। সেখানে শিক্ষক, শিক্ষার্থী এবং বাংলাদেশ ন্যাশনাল ক্যাডেট কোর (বিএনসিসি) ও স্কাউট সদস্যদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন তিনি। এ সময় প্রধানমন্ত্রী বলেন, সাধারণত নভেম্বর পর্যন্ত ডেঙ্গুর প্রকোপ সবচেয়ে বেশি থাকে। ডেঙ্গুর মতো প্রাণঘাতী রোগের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার সবচেয়ে বড় অস্ত্রই হলো প্রতিরোধ। আর এই প্রতিরোধের প্রথম ধাপ হচ্ছে নিজের চারপাশ পুরোপুরি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা।
ঢাকার বিশাল আয়তন ও প্রায় আড়াই কোটি জনসংখ্যার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি প্রধানমন্ত্রী বলেন, পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের সক্ষমতারও একটি সীমাবদ্ধতা রয়েছে। তাই কেবল সিটি করপোরেশন বা প্রশাসনের ভরসায় বসে থাকলে চলবে না। নাগরিক হিসেবে তরুণ ও সাধারণ মানুষকে দায়িত্ব নিতে হবে। যত্রতত্র ময়লা ফেলা বন্ধে সামাজিক সচেতনতা তৈরির পাশাপাশি তিনি দুঃখ প্রকাশ করে জানান, সিটি করপোরেশন থেকে যেসব ডাস্টবিন বা গাছের চারা লাগানো হচ্ছে, কিছু অসাধু লোক তা চুরি করে নিয়ে যাচ্ছে, যার বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়া প্রয়োজন।
পরিবেশ সুরক্ষায় শিক্ষার্থীদের প্রতি বিশেষ পরামর্শ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রতিবছর নিজেদের কিংবা পরিবারের সদস্যদের জন্মদিনে অন্তত একটি করে গাছ লাগানো উচিত। তিনি নিজের শৈশবের স্মৃতিচারণ করে বলেন, একসময়ের সবুজ ঢাকা এখন বহুতল ভবনে ঢেকে গেছে। শহরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং বুক ভরে শ্বাস নিতে বেশি করে গাছ লাগানোর বিকল্প নেই।
মতবিনিময়কালে ডেঙ্গু প্রতিরোধ, পরিচ্ছন্নতা এবং সবুজায়ন, এই তিনটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে তরুণের সক্রিয় অংশগ্রহণ দেখতে চান প্রধানমন্ত্রী। তিনি শিক্ষার্থীদের কাছে জানতে চান যে নিজের স্কুল, বাসা ও এলাকা পরিষ্কার রাখতে তাদের সাহায্য পাওয়া যাবে কি না। এ সময় উপস্থিত শিক্ষার্থীরা একযোগে ইতিবাচক সাড়া দিয়ে প্রধানমন্ত্রীর এই আহ্বানে সুর মেলায়।