ঢাকের কাঠি পড়ার মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া শারদীয় দুর্গোৎসবের মূল পূজার আনুষ্ঠানিকতা শনিবার মহাসপ্তমীর সকালে পূর্ণতা পেয়েছে। ষষ্ঠীর বোধন, আমন্ত্রণ ও অধিবাসের পর থেকেই মণ্ডপগুলোতে ঢাকের বাদ্য, উলুধ্বনি আর শঙ্খধ্বনিতে এক আনন্দঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছে। উৎসবপ্রিয় বাঙালি সনাতন ধর্মাবলম্বীরা মেতে উঠেছেন বছরের সবচেয়ে বড় এই ধর্মীয় উৎসবে।
সপ্তমীর সকালে ঐতিহ্যবাহী ‘কলাবউ’ বা নবপত্রিকা স্নান এবং তা মণ্ডপে প্রবেশের মাধ্যমে দিনটির আনুষ্ঠানিক সূচনা হয়। কলাগাছের সঙ্গে আরও আটটি প্রাকৃতিক উপাদান একত্র করে নবপত্রিকা স্থাপন করা হয় এবং এরপর দেবীর প্রাণ প্রতিষ্ঠা করা হয়। পরবর্তীতে শাস্ত্রীয় নিয়ম মেনে সপ্তমীর কল্পারম্ভ ও বিহিত পূজার মাধ্যমে মহামায়ার আরাধনা শুরু হয়। ধূপের ধোঁয়া, আরতি ও পুরোহিতের গম্ভীর মন্ত্রোচ্চারণে চারদিকে দেবীর বন্দনা ছড়িয়ে পড়ে।
পূজার মূল আনুষ্ঠানিকতা শেষে মণ্ডপে মণ্ডপে ভক্তরা পরম শ্রদ্ধায় আসন, বস্ত্র, চন্দন ও ধূপ দিয়ে দেবীকে অর্চনা করেন এবং শেষভাগে পুষ্পাঞ্জলি প্রদান করেন। শঙ্খের ধ্বনি আর ঢাকের তালে তালে ভক্তরা মনে প্রাণে প্রার্থনা জানান জগতের শান্তি ও মঙ্গলের জন্য।
বিশেষ বিষয় হলো, এবার সপ্তমীর তিথি দুই দিনব্যাপী হওয়ায় সনাতন ধর্মাবলম্বী ভক্তদের হৃদয়ে বইছে বাড়তি আনন্দের জোয়ার। প্রবীণ ও নবীন, সবাই মিলেমিশে উৎসবে যোগ দেওয়ায় উদযাপনের মাত্রা আরও বিস্তৃত রূপ নিয়েছে। ধর্মীয় অনুভূতির পাশাপাশি সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতির বার্তা ছড়িয়ে দিয়েই উদযাপিত হচ্ছে শারদীয় পূজার প্রতিটি ক্ষণ।