অবশেষে মন্ত্রিসভা থেকে ইশরাকের আনুষ্ঠানিক পদত্যাগ

নিজ নির্বাচনী এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযানে প্রকাশ্যে ব্যক্তিগত আগ্নেয়াস্ত্র প্রদর্শন ও মহড়া দেওয়াকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট দেশব্যাপী তোলপাড় ও সমালোচনার মুখে অবশেষে পদত্যাগ করেছেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ও ঢাকা-৬ আসনের সংসদ সদস্য ইশরাক হোসেন।

সোমবার দুপুরে রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবে এক জনাকীর্ণ সংবাদ সম্মেলনে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে মন্ত্রিসভা থেকে স্বেচ্ছায় পদত্যাগের ঘোষণা দেন এবং পরবর্তীতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে গিয়ে নিজের পদত্যাগপত্র জমা দেন।

Ishrak Resign 04
সংবাদ সম্মেলনে পদত্যাগের মূল কারণ ব্যাখ্যা করে ইশরাক হোসেন বলেন, প্রধানমন্ত্রীর কাছে আজ থেকেই মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব থেকে স্বেচ্ছায় অব্যাহতি চেয়েছি। আমার কারণে দল বা সরকার যেন কোনোভাবেই বিব্রত না হয়, সে জন্যই এই সিদ্ধান্ত। পদত্যাগপত্র জমা দেওয়ার বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীও সম্মতি দিয়েছেন। এখন থেকে পুরো সময়টা আমি নিজের এলাকা ঢাকা-৬ ও আশপাশের অঞ্চলের মাদক নির্মূল এবং অন্যান্য নাগরিক সমস্যা সমাধানে কাজ করতে চাই।

সাম্প্রতিক সময়ে নিজের কর্মকাণ্ডের ব্যাখ্যা দিয়ে তিনি আরও দাবি করেন, গত দুই-তিন দিন ধরে দেশি-বিদেশি গণমাধ্যমে একটি বিষয় নিয়ে ব্যাপক আলোচনা চলছে। সেখানে কিছু সত্য থাকলেও অনেক ক্ষেত্রেই অতিরঞ্জিত তথ্য উপস্থাপন করা হয়েছে এবং নানা কল্পকাহিনি বানানো হয়েছে। মূলত আমাকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে টার্গেট করে হেয় করা হয়েছে, যার কারণে দলও বিব্রতকর অবস্থায় পড়েছে।

সংবাদ সম্মেলনের আগে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপে তিনি মন্তব্য করেন, মাদকের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়ে মাঠে নামতে গিয়েই আজকের এই বিশেষ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। দল পদত্যাগ চায়নি, তবে সরকারের ভাবমূর্তি রক্ষায় আমি নিজে থেকেই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছি। মন্ত্রিত্ব না থাকলেও এখন থেকে আমি আরও বেশি আক্রমণাত্মক ভঙ্গিতে মাঠে নামব এবং মাদকের বিরুদ্ধে অলআউট যুদ্ধ চালিয়ে যাব।

Ishrak Resign 02
ঘটনার পটভূমি থেকে জানা যায়, গত শনিবার গেন্ডারিয়ায় অস্ত্র হাতে এক মাদকবিরোধী অভিযানে নেমে চরম বিতর্কের জন্ম দেন ইশরাক। প্রকাশ্যে অস্ত্র উঁচিয়ে হুমকি দেওয়ার ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে আইনশৃঙ্খলা ও দায়িত্বশীল আচরণ নিয়ে দেশজুড়ে সমালোচনা শুরু হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত রোববার সচিবালয়ে মন্ত্রিসভার বৈঠক শেষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাঁকে ডেকে পাঠান এবং পদত্যাগের স্পষ্ট নির্দেশ দেন, যার চূড়ান্ত পরিণতি ঘটল আজকের এই সংবাদ সম্মেলন ও পদত্যাগপত্র জমাদানের মধ্য দিয়ে।

এর আগে, সোমবার দুপুর ২টার দিকে বিপুল সংখ্যক সমর্থক ও দলীয় নেতা-কর্মীকে সঙ্গে নিয়ে জাতীয় প্রেস ক্লাবে আসেন ইশরাক হোসেন। এ সময় অতিরিক্ত জনসমাগমের কারণে প্রেস ক্লাব প্রাঙ্গণে সাময়িক বিশৃঙ্খলা দেখা দেয়। এমনকি সংবাদ সম্মেলন শুরুর প্রাক্কালে ‘মোবাইল সাংবাদিকদের’ কক্ষ থেকে বের হয়ে যেতে বলা নিয়ে খানিকটা হট্টগোল হলেও পরবর্তীতে সব সংবাদকর্মীর উপস্থিতিতেই ইশরাক তাঁর আনুষ্ঠানিক পদত্যাগের বক্তব্য তুলে ধরেন। সংবাদ সম্মেলনের সময় বিপুল কর্মি ও সমর্থকরা বাইরের অবস্থান করছিলেন।