বিতর্ক ও সমালোচনার জেরে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়ে ইশরাক হোসেন বলেছেন, দল তাঁকে পদত্যাগ করতে বলেনি, বরং তিনি নিজে থেকেই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। একটি ‘বিশেষ কারণে’ পদত্যাগ করতে হচ্ছে উল্লেখ করলেও, সেই বিশেষ কারণটি ঠিক কী, সে বিষয়ে সাংবাদিকদের কাছে কোনো স্পষ্ট ব্যাখ্যা দেননি ঢাকা-৬ আসনের এই সংসদ সদস্য।
সোমবার দুপুরে রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবে আয়োজিত জনাকীর্ণ সংবাদ সম্মেলনে পদত্যাগের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেয়ার আগে ও পরে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব মন্তব্য করেন।
সংবাদ সম্মেলনে ইশরাক হোসেন দাবি করেন, গত দুই-তিন দিন ধরে একটি বিষয় নিয়ে দেশি-বিদেশি গণমাধ্যমে তুমুল আলোচনা চলছে। যার মধ্যে কিছুটা সত্য হলেও বেশিরভাগই অতিরঞ্জিত ও কাল্পনিক গল্প বানোনো হয়েছে। উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে আমাকে টার্গেট করে হেয় করা হয়েছে, যার কারণে দলও একপর্যায়ে বিব্রতকর অবস্থায় পড়েছে।
মাঠের লড়াই চালিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করে তিনি বলেন, মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিক অভিযান পরিচালনা করতে গিয়েই মূলত আজকের এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে, যেখানে আমাকে মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগ করতে হচ্ছে। তবে আমি স্পষ্ট বলছি, দল চায়নি, আমি নিজে থেকেই সরে দাঁড়ানোর এই সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এখন থেকে আমি আরও বেশি আক্রমণাত্মক ও সচ্ছলভাবে মাঠে নামব এবং মাদকের বিরুদ্ধে অলআউট যুদ্ধ ঘোষণা করব।
উল্লেখ্য, নিজ নির্বাচনী এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযানে প্রকাশ্যে ব্যক্তিগত আগ্নেয়াস্ত্র প্রদর্শন ও মহড়া দেওয়াকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে তীব্র আলোচনার ঝড় ওঠে। এর পরিপ্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাঁকে মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগের নির্দেশ দেন বলে খবর চাউর হয়। যদিও প্রাথমিক পর্যায়ে খবরটিকে ‘গুজব’ বলে উড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন ইশরাক, তবে সোমবার সকালে সামাজিক মাধ্যমে পোস্ট দিয়ে দুপুরে প্রেস ক্লাবে এসে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানান তিনি।
এদিন দুপুর ২টার দিকে বিপুল সংখ্যক অনুসারী ও দলীয় নেতা-কর্মীকে সঙ্গে নিয়ে জাতীয় প্রেস ক্লাবে আসেন ইশরাক হোসেন। অতিরিক্ত ভিড় ও অনুসারীদের সমাগমের কারণে প্রেস ক্লাব প্রাঙ্গণে সাময়িক বিশৃঙ্খলা ও হট্টগোলের সৃষ্টি হয়। এমনকি সংবাদ সম্মেলন শুরুর প্রাক্কালে মোবাইল সাংবাদিকদের কক্ষ থেকে বের হয়ে যেতে বলা নিয়ে খানিকটা উত্তেজনা দেখা দিলেও পরবর্তীতে সকল গণমাধ্যমকর্মীদের উপস্থিতিতেই তিনি তাঁর বক্তব্য তুলে ধরেন।
