আট মাসে তিন মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীর পদত্যাগ, সরকারের কঠোর বার্তা

ক্ষমতায় আসার মাত্র আট মাসের মাথায় বড় ধরনের প্রশাসনিক রদবদল ও অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা বজায় রাখার কঠোর পরীক্ষার মুখোমুখি হয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) পরিচালিত সরকার। এই অল্প সময়ের মধ্যেই মন্ত্রিসভার তিনজন মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীকে পদ ছাড়তে হয়েছে, যার পাশাপাশি পদত্যাগ করেছেন দলের একজন সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্যও।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এসব পদত্যাগের নেপথ্যে স্ব-ইচ্ছার চেয়ে সরকারের শীর্ষ পর্যায়, বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কঠোর বার্তা ও সুনির্দিষ্ট নির্দেশনাই মুখ্য ভূমিকা পালন করেছে।

ঘটনার সর্বশেষ শিকারে পরিণত হয়েছেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন। সোমবার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন ডেকে আনুষ্ঠানিকভাবে তিনি নিজের পদত্যাগের ঘোষণা দেন। ঘটনার সূত্রপাত গত শনিবার, যখন রাজধানীর গেন্ডারিয়া এলাকায় আগ্নেয়াস্ত্র হাতে সহযোগীদের নিয়ে মাদকবিরোধী অভিযানে নামেন ইশরাক।

সেই ঘটনার ভিডিও তিনি নিজের ফেসবুকে প্রচার করলে মুহূর্তেই তা নেটপাড়ায় ছড়িয়ে পড়ে এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র অসন্তোষ ও অস্বস্তির জন্ম দেয়। বিতর্কের মুখে রোববার প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাঁকে পদত্যাগের নির্দেশ দেন। পদত্যাগের পর আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান স্পষ্ট জানান, মানুষের প্রত্যাশার পরিপন্থী কাজ করলে তিনি যত কাছের মানুষই হন না কেন, ব্যবস্থা নেওয়া হবে; কারণ আইনের ঊর্ধ্বে কেউ নন।

ইশরাক হোসেনের আগে মন্ত্রিসভা থেকে সরে দাঁড়াতে হয় আরও দুই প্রভাবশালী মন্ত্রীকে। দায়িত্ব নেওয়ার মাত্র সাড়ে তিন মাসের মাথায় গত ১ জুন শারীরিক অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে পদত্যাগপত্র জমা দেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান। তবে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা রয়েছে যে, রাঙামাটি বিএনপির অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বে লিপ্ত হওয়া, পার্বত্য জেলা পরিষদ পুনর্গঠন এবং প্রশাসনিক নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়ে মতপার্থক্যের জেরেই তাঁকে পদত্যাগে বাধ্য করা হয়েছিল।

এরপর গত ২২ আগস্ট পদ ছাড়তে হয় তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপনকে। ওই পদে আন্দালিব রহমান পার্থকে স্থলাভিষিক্ত করা হয় এবং জহির উদ্দিন স্বপনকে মন্ত্রীর পদমর্যাদায় প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা হিসেবে স্থানান্তর করা হয়। স্বপনের মন্ত্রিত্ব কেড়ে নেওয়ার ঘটনাটিকে মন্ত্রিসভায় বড় ধরনের প্রশাসনিক রদবদলের অংশ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।

একইভাবে শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে সংসদ সদস্য পদ হারিয়েছেন বিএনপির সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি। রাজধানীর মিরপুরে 'রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে' অনভিপ্রেত হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশে গত ১ অক্টোবর জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন তিনি। পরবর্তীতে সংসদ সচিবালয় থেকে তাঁর আসনটি শূন্য ঘোষণা করা হয়।

সরকার গঠনের আট মাসের মাথায় একের পর এক শীর্ষ ব্যক্তিত্বের এভাবে পদত্যাগের ঘটনায় স্পষ্ট বার্তা মিলেছে যে, শাসনব্যবস্থায় সুশাসন প্রতিষ্ঠা এবং অপরাধ বা বিতর্কের ক্ষেত্রে বিএনপি সরকার কোনো আপস করতে রাজি নয়।