একই আবহ ও তিথিতে প্রীতি, আনন্দ ও গভীর ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে রোববার উদযাপিত হতে যাচ্ছে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব কোজাগরী লক্ষ্মীপূজা এবং বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের দ্বিতীয় বৃহত্তম ধর্মীয় উৎসব শুভ প্রবারণা পূর্ণিমা। শারদীয় দুর্গোৎসবের বিজয়া দশমীর আমেজ কাটতে না কাটতেই আশ্বিন মাসের এই বিশেষ পূর্ণিমা তিথিতে বাঙালি হিন্দু পরিবারগুলোতে দেবী লক্ষ্মীর আবাহন চলছে, আর অন্যদিকে বৌদ্ধ বিহারগুলোতে চলছে আত্মশুদ্ধি ও প্রবারণার প্রার্থনা।
সনাতন শাস্ত্র মতে, দেবী লক্ষ্মী ধনসম্পদ, ঐশ্বর্য, আধ্যাত্মিক ও পার্থিব উন্নতি, আলো, জ্ঞান, সৌভাগ্য এবং উর্বরতার প্রতীক। বিশ্বাস করা হয়, আশ্বিনের এই পূর্ণিমা রাতে ভক্তদের ঘরে ঘরে পদার্পণ করেন দেবী লক্ষ্মী। দেবী সন্তুষ্ট হলে সংসারে অভাব-অনটন দূর হয় এবং সুখ-শান্তি বৃদ্ধি পায়।
এই উপলক্ষে হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা নিজ নিজ বাড়িতে চালের গুঁড়োর আলপনা এঁকে ধনধান্যের দেবীকে আহ্বান জানান। ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দির, রামকৃষ্ণ মিশন ও মঠ, সিদ্ধেশ্বরী কালী মন্দিরসহ দেশের বিভিন্ন দেবালয়ে ও সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ঘরে ঘরে শাস্ত্রীয় রীতি অনুসরণে পূজার আয়োজন করা হয়েছে।
এদিকে, বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের কাছেও এই দিনটির গুরুত্ব অপরিসীম। মহামতি গৌতম বুদ্ধ নির্বাণ লাভের পর আষাঢ়ী পূর্ণিমা থেকে আশ্বিনী পূর্ণিমা তিথি পর্যন্ত তিন মাসব্যাপী বর্ষাবাস পালন শেষ করেন। সেই স্মৃতি ও শিক্ষাকে ধারণ করে যুগে যুগে বৌদ্ধ ভিক্ষু ও অনুসারীরা এই দিনটি উদযাপন করে আসছেন। প্রবারণা মূলত মনের অশুভ ভাবনা বর্জন করে আত্মশুদ্ধি অর্জন এবং সত্য ও সুন্দরকে জীবনের নীতি হিসেবে গ্রহণ করার এক মহান শিক্ষা দেয়।
রাজধানীর মিরপুর শাক্যমুনি বৌদ্ধবিহারের অধ্যক্ষ প্রজ্ঞানন্দ মহাথেরো প্রবারণার তাৎপর্য ব্যাখ্যা করে জানান, তিন মাসের দীর্ঘ সাধনা ও বর্ষাবাস শেষের এই লগ্নটি বৌদ্ধদের জীবনে এক পবিত্র মুহূর্ত। উৎসবটি উদযাপনে বাংলাদেশ বুড্ডিস্ট ফেডারেশনের উদ্যোগে মেরুল বাড্ডার আন্তর্জাতিক বৌদ্ধবিহারে দিনব্যাপী নানাবিধ কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে ভিক্ষু সংঘের প্রাতরাশ, শীল গ্রহণ, বুদ্ধ পূজা, ভিক্ষু সংঘের পিণ্ডদান, ধর্মীয় আলোচনা সভা এবং সন্ধ্যার আকাশ আলোকিত করে ফানুস ওড়ানোর উৎসব। সব মিলিয়ে ধর্মীয় সম্প্রীতি ও উৎসবমুখর আবহে পালিত হচ্ছে আজকের এই বিশেষ দিনটি।