রাতে জাপানের উদ্দেশে ঢাকা ছাড়ছেন প্রধানমন্ত্রী

জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির আমন্ত্রণে চার দিনের এক হাই-প্রোফাইল সরকারি সফরে রাতে টোকিওর উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এই সফরের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে বিদ্যমান কৌশলগত অংশীদারিত্ব আরও গভীর হবে এবং জাপানি বিনিয়োগ, বাণিজ্য সম্প্রসারণ ও মেগা প্রকল্পগুলোর গতি ত্বরান্বিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম জানান, ২৭ অক্টোবর জাপানের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও সানায়ে তাকাইচির মধ্যে শীর্ষ পর্যায়ের দ্বিপাক্ষিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। বৈঠক শেষে জাপানের প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের সরকারের প্রধানের সম্মানে এক মধ্যাহ্নভোজের আয়োজন করবেন।

সফরে দুই দেশের আলোচনায় বিশেষ গুরুত্ব পাবে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে স্বাক্ষরিত ‘বাংলাদেশ-জাপান ইকোনমিক পার্টনারশিপ এগ্রিমেন্ট’ (ইপিএ)-এর কার্যকর বাস্তবায়ন, জাপানি বাজারে বাংলাদেশি পণ্যের অবাধ প্রবেশাধিকার এবং ব্যবসায়িক সম্পর্ক জোরদার করার বিষয়গুলো।

এই সফরের প্রাক্কালে ২০২৬–২০৩১ সময়কালে ১২টি অগ্রাধিকার খাতের জন্য প্রায় ১৩.৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের একটি বিশাল প্রস্তাবিত বিনিয়োগ প্যাকেজ সামনে এসেছে, যা ‘বে অব বেঙ্গল ইন্ডাস্ট্রিয়াল গ্রোথ বেল্ট (বিআইজি-বি)’ উদ্যোগের সঙ্গে যুক্ত। প্রস্তাবিত প্যাকেজে পরিবহন ও নগর সংযোগ, মাতারবাড়ি সমন্বিত কেন্দ্র, সেমিকন্ডাক্টর, অটোমোবাইল, নবায়নযোগ্য জ্বালানি এবং জলবায়ু-সহনশীল অবকাঠামো গঠনে বড় অঙ্কের জাপানি বিনিয়োগ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

সফরসূচি অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ‘জাপান-বাংলাদেশ ইকোনমিক ফোরাম’-এ মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করবেন। পাশাপাশি তিনি জাইকার প্রেসিডেন্ট, জেবিআইসি’র গভর্নর, জেট্রো’র প্রেসিডেন্ট এবং সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যানসহ জাপানের শীর্ষস্থানীয় ব্যবসায়ী নেতাদের সঙ্গে আলাদা বৈঠকে অংশ নেবেন। এছাড়া চিবা প্রিফেকচারের ফুত্তসু সিটিতে এলএনজি টার্মিনাল, বিদ্যুৎ কেন্দ্র এবং নাগোয়াতে বৈশ্বিক পোশাক ব্র্যান্ড ইউনিক্লো-এর সদর দপ্তর ও বিশ্বখ্যাত টয়োটা কারখানা পরিদর্শনের পরিকল্পনাও রয়েছে তাঁর সফরসূচিতে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, কৃষি, মৎস্য, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, মানবসম্পদ উন্নয়ন, বেসামরিক বিমান চলাচল, ডিজিটাল রূপান্তর এবং পরিবেশ সংরক্ষণবিষয়ক একাধিক সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) নিয়ে আলোচনা চলছে, যার মধ্যে ৩ থেকে ৪টি এই সফরকালে স্বাক্ষরিত হতে পারে। দ্বিপাক্ষিক আলোচনার বাইরেও আঞ্চলিক শান্তি, জ্বালানি নিরাপত্তা এবং রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই সমাধানের মতো বিষয়গুলো প্রাধান্য পাবে।

উল্লেখ্য, ১৯৭২ সালে কূটনৈতিক সম্পর্ক প্রতিষ্ঠার পর থেকেই জাপান বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান উন্নয়ন সহযোগী। এর আগে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ১৯৭৮ ও ১৯৮০ সালে এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া ১৯৯৪ ও ২০০৫ সালে জাপান সফর করেছিলেন। এবার প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এই সফর দুদেশের অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক উচ্চতাকে নতুন এক মাইলফলকে পৌঁছে দেবে বলে আশা করা হচ্ছে।