প্রায় পৌণে পাঁচ ঘণ্টা বিলম্বের পর ঢাকার পথে প্রধানমন্ত্রী

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ফ্লাইটে আকস্মিক যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দেয়ায় প্রায় পৌণে পাঁচ ঘণ্টা বিলম্বের পর জাপানের নারিতা থেকে ঢাকার উদ্দেশে রওনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। চার দিনের সফর শেষে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় রাত পৌনে ১১টার দিকে তাঁকে বহনকারী ফ্লাইটটি দেশের পথে উড়াল দেয়।

প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন জানান, প্রধানমন্ত্রীকে বহনকারী বিমান বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় রাত পৌনে ১১টার দিকে ছেড়েছে।

PM Return
নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী, এদিন স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৬টার দিকে প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর সফরসঙ্গীদের বহনকারী ফ্লাইটটির টোকিও থেকে রওনা দেওয়ার কথা ছিল। তবে উড্ডয়নের আগমুহূর্তে বিমানে যান্ত্রিক ত্রুটি ধরা পড়ায় ফ্লাইটটি ছাড়তে পারেনি। দীর্ঘ প্রচেষ্টার পর স্থানীয় সময় রাত সোয়া ১০টার দিকে (বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা সোয়া ৭টা) ত্রুটি সারিয়ে উড়োজাহাজটিকে যাত্রার জন্য প্রস্তুত করা হয়।

বিমান ও পর্যটনমন্ত্রী এম. রশিদুজ্জামান মিল্লাত ফ্লাইট বিলম্বের বিষয়টি নিশ্চিত করে অনাকাঙ্ক্ষিত এই পরিস্থিতির জন্য যাত্রীদের কাছে দুঃখ প্রকাশ করেছেন। তিনি জানান, কারিগরি সমস্যার সফল সমাধান হওয়ার পরই প্রধানমন্ত্রীসহ অন্যান্য যাত্রীরা বিমানে আরোহণ করেন।

এর আগে, দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদার এবং দেশে জাপানি বিনিয়োগ আকর্ষণের লক্ষ্য নিয়ে গত ২৬ অক্টোবর টোকিও পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। পরদিন (২৭ অক্টোবর) জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির সঙ্গে এক উচ্চপর্যায়ের দ্বিপক্ষীয় শীর্ষ বৈঠকে অংশ নেন তিনি।

PM Japan Sign
অত্যন্ত ফলপ্রসূ এই বৈঠকে দুই দেশের মধ্যে কৌশলগত অংশীদারত্ব, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণ, কৃষি, অবকাঠামো উন্নয়ন, তথ্যপ্রযুক্তি, সাইবার নিরাপত্তা এবং শিল্প খাতে পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধির বিষয়গুলো সর্বোচ্চ গুরুত্ব পায়। বৈঠক শেষে উভয় পক্ষের সম্মতিতে একটি যৌথ বিবৃতি প্রকাশ করা হয়।

টোকিওতে অবস্থানকালে প্রধানমন্ত্রী জাপানের সুপ্রসিদ্ধ অটোমোবাইল ও শিল্প প্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন আর্থিক খাতের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) এবং ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে নিবিড় মতবিনিময় করেন। 'বাংলাদেশ-জাপান অর্থনৈতিক ফোরামে' অংশ নিয়ে তিনি জাপানি বিনিয়োগকারীদের সামনে বাংলাদেশে বিনিয়োগের বিশাল সম্ভাবনা এবং দেশীয় পণ্যের বাজার সম্প্রসারণের রূপরেখা তুলে ধরেন।

সফরের অন্যতম মাইলফলক হিসেবে প্রধানমন্ত্রী রাজপ্রাসাদে জাপানের সম্রাট নারুহিতোর সঙ্গে এক বিশেষ সৌজন্য সাক্ষাতে মিলিত হন। এছাড়া সফরের শেষ পর্যায়ে জাপানে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিদের আয়োজিত এক সংবর্ধনা ও মতবিনিময় অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে দেশের সার্বিক উন্নয়নে প্রবাসীদের সক্রিয় সম্পৃক্ততার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, জাপানের শীর্ষ নেতৃত্ব, শিল্পোদ্যোক্তা ও বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এই নিবিড় ও ফলপ্রসূ আলোচনা বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যকার দ্বিপক্ষীয় ও বাণিজ্যিক সম্পর্ককে এক নতুন উচ্চতায় উন্নীত করবে।